ওয়া তাফাককাদাততাইর ফাক-লা মা-লিইয়া লাআরল হুদহুদা আম ক-না মিনাল গাইবীন।উচ্চারণ
(আর একবার) সুলাইমান পাখিদের খোঁজ-খবর নিল ২৭ এবং বললো, “কি ব্যাপার, আমি অমুক হুদহুদ পাখিটিকে দেখছিনা যে! সে কি কোথাও অদৃশ্য হয়ে গেছে? তাফহীমুল কুরআন
এবং সে (একবার) পাখিদের সন্ধান নিল। বলল, কী ব্যাপার! হুদহুদকে দেখছি না যে? সে কি অনুপস্থিত না কি?মুফতী তাকী উসমানী
সুলাইমান পক্ষীকুলের সন্ধান নিল এবং বললঃ ব্যাপার কি, হুদহুদকে দেখছিনা যে! সে অনুপস্থিত না কি?মুজিবুর রহমান
সুলায়মান পক্ষীদের খোঁজ খবর নিলেন, অতঃপর বললেন, কি হল, হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সুলায়মান বিহংগদলের সন্ধান নিল এবং বলল, ‘ব্যাপার কি, হুদ্হুদ্কে দেখছি না যে! সে অনুপস্থিত না কি ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর সুলাইমান পাখিদের খোঁজ খবর নিল। তারপর সে বলল, ‘কী ব্যাপার, আমি হুদহুদকে দেখছি না; নাকি সে অনুপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত’?আল-বায়ান
অতঃপর সুলাইমান পাখীদের খোঁজ খবর নিল। সে বলল, কী ব্যাপার, হুদহুদকে তো দেখছি না, নাকি সে অনুপস্থিত?তাইসিরুল
আর তিনি পাখিদের পর্যবেক্ষণ করলেন, তখন বললেন -- "একি! হুদহুদকে দেখছি না কেন? সে কি গরহাজিরদের একজন?মাওলানা জহুরুল হক
২৭
অর্থাৎ এমনসব পাখিদের খোঁজ-খবর যাদের সম্পর্কে ওপরে বলা হয়েছে যে, জিন ও মানুষের মতো তাদের সেনাদলও হযরত সুলাইমানের সেনাবাহিনীর অন্তর্ভূক্ত ছিল। সম্ভবত হযরত সুলাইমান তাদের মাধ্যমেই সংবাদ আদান-প্রদান, শিকার এবং এ ধরণের অন্যান্য কাজ করতেন।
২০. আর সুলাইমান পাখিদের সন্ধান নিলেন(১) এবং বললেন, আমার কি হলো(২) যে, আমি হুদহুদকে দেখছি না! না কি সে অনুপস্থিত?
(১) সন্ধান নেয়া’র দ্বারা এটা প্রমাণিত হলো যে, রাজ্যশাসনের নীতি অনুযায়ী সর্বস্তরের প্রজাদের দেখাশোনা করা ও খোঁজ-খবর নেয়া শাসনকর্তার অন্যতম কর্তব্য। এই নীতির পরিপ্রেক্ষিতেই সুলাইমান আলাইহিস সালাম এ সন্ধান ও খোঁজ-খবর নিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ কাজটি করতেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতেন। যে ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকতেন তিনি অসুস্থ হলে দেখার জন্য তাশরীফ নিয়ে যেতেন, সেবা-শুশ্ৰূষা করতেন এবং কেউ কোন কষ্টে থাকলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা করতেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার খেলাফতের আমলে নবীদের এ সুন্নাতকে পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত করেন।
রাতের অন্ধকারে তিনি মদীনার অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াতেন, যাতে সবার অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পারেন। কাউকে কোন বিপদ ও কষ্টে পতিত দেখলে তিনি তাকে সাহায্য করতেন। এ ধরনের অজস্র ঘটনা তার জীবনীতে উল্লেখিত আছে। তিনি বলতেন, যদি ফোরাত নদীর কিনারায় কোন বাঘ কোন ছাগলছনাকে গিলে ফেলে, তবে এর জন্যও উমরকে প্রশ্ন করা হবে। এ হচ্ছে রাজ্যশাসন ও প্রজাপলনের নবী-রাসূলদের রীতি-নীতি যা তারা তাদের অনুসারীদের শিক্ষা দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম তা বাস্তবায়িত করেছেন। যার ফলে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর জনসাধারণ সুখে-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করত। তাদের পর পৃথিবী এমন সুবিচার, ইনসাফ, শান্তি, সুখ ও নিশ্চয়তার সে দৃশ্য আর দেখেনি। (দেখুন: কুরতুবী)
(২) সুলাইমান আলাইহিসসালাম বললেন, “আমার কি হলো যে, আমি হুদহুদকে দেখছিনা” কথাটি অন্যভাবেও বলা যেত, যেমনঃ হুদহুদের কি হল যে, সে উপস্থিত নেই? বা হুদহুদ কোথায় গেল? কথাটি এভাবে নিজের দিকে সম্বোধন করার কারণ কোন কোন মুফাসসিরের মতে এই যে, হুদহুদ ও অন্যান্য বিহংগকুল তার অধীনস্থ হওয়া আল্লাহ তা'আলার একটি বিশেষ অনুগ্রহ ছিল। হুদহুদের অনুপস্থিতি দেখে শুরুতে সুলাইমান আলাইহিস সালামের মনে এ আশংকা দেখা দিল যে, সম্ভবতঃ আমার কোন ক্রটির কারণে এই অনুগ্রহ হ্রাস পেয়েছে এবং এক শ্রেণীর পাখি অৰ্থাৎ হুদহুদ গায়েব হয়ে গেছে। তাই তিনি নিজেকে প্রশ্ন করলেন যে, এরূপ কেন হলো? এটা একধরনের মুহাসাবাতুন-নাফস বা আত্মসমালোচনা। আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতকে ধরে রাখার জন্য এটা খুব জরুরী বিষয়। (কুরতুবী)
(২০) (সুলাইমান) পক্ষীকুলকে পর্যবেক্ষণ করল এবং বলল, ‘কি ব্যাপার! আমি হুদহুদকে দেখছি না কেন? সে অনুপস্থিত নাকি? (1)
(1) অর্থাৎ, এখানে উপস্থিত আছে, কিন্তু আমি দেখছি না। অথবা এখানে উপস্থিতই নেই।