ওয়া হুশির লিছুলাইমা-না জুনূদুহূমিনাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ওয়াততাইরি ফাহুম ইউঝা‘উন।উচ্চারণ
সুলাইমানের জন্য জিন, মানুষ ও পাখিদের সৈন্য সমবেত করা হয়েছিল ২৩ এবং তাদেরকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। তাফহীমুল কুরআন
সুলাইমানের জন্য তার সমস্ত সৈন্য সমবেত করা হয়েছিল যা ছিল জিন্ন, মানুষ ও পাখি-সম্বলিত। তাদেরকে রাখা হত নিয়ন্ত্রণে। #%১১%#মুফতী তাকী উসমানী
সুলাইমানের সামনে সমবেত করা হল তার বাহিনীকে, জিন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে এবং তাদেরকে বিন্যস্ত করা হল বিভিন্ন বুহ্যে।মুজিবুর রহমান
সুলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল। জ্বিন-মানুষ ও পক্ষীকুলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সুলায়মানের সামনে সমবেত করা হল তার বাহিনীকে-জিন, মানুষ ও বিহংগকুলকে এবং এদেরকে বিন্যস্ত করা হল বিভিন্ন ব্যূহে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর সুলাইমানের জন্য তার সেনাবাহিনী থেকে জিন, মানুষ ও পাখিদের সমবেত করা হল। তারপর এদেরকে বিন্যস্ত করা হল।আল-বায়ান
সুলাইমানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে সমবেত করা হল, জ্বিন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন বুহ্যে বিন্যস্ত করা হল।তাইসিরুল
আর সুলাইমানের সামনে সমবেত করা হয়েছিল তাঁর বাহিনীকে -- জিন ও মানুষ ও পাখিদের থেকে, আর তাদের কুচকাওয়াজ করানো হলো।মাওলানা জহুরুল হক
২৩
জিনেরা যে হযরত সুলাইমানের সেনাবাহিনীর অংশ ছিল এবং তিনি তাদের কাজে নিয়োগ করতেন, বাইবেলে একথারও উল্লেখ নেই। কিন্তু তালমূদে ও রাব্বীদের বর্ণনায় এর বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। (জুয়িশ ইনসাইকোপেডিয়া, ১১ খণ্ড, ৪৪০ পৃষ্ঠা।)
বর্তমান যুগের কোন কোন ব্যক্তি একথা প্রমাণ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন যে, জিন ও পাখি বলে আসলে জিন ও পাখির কথা বুঝানো হয়নি বরং মানুষের কথা বুঝানো হয়েছে। মানুষরাই হযরত সুলাইমানের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিল। তারা বলেন, জিন মানে পার্বত্য উপজাতি। এদের উপর হযরত সুলাইমান বিজয় লাভ করেছিলেন। তাঁর অধীনে তারা বিস্ময়কর শক্তি প্রয়োগের ও মেহনতের কাজ করতো। আর পাখি মানে অশ্বারোহী সেনাবাহিনী। তারা পদাতিক বাহিনীর তুলনায় অনেক বেশী দ্রুততা সম্পন্ন ছিল। কিন্তু এটি কুরআন মজীদের শব্দের অযথা বিকৃত অর্থ করার নিকৃষ্টতম প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। কুরআন এখানে জিন, মানুষ ও পাখি তিনটি আলাদা আলাদা প্রজাতির সেনাদলের কথা বর্ণনা করছে এবং তিনের ওপর ال (আলিফ লাম) বসানো হয়েছে তাদের পৃথক পৃথক প্রজাতিকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে। তাই আল জিন (জিন জাতি) ও আত্ তাইর (পাখি জাত) কোনক্রমেই আল ইনস (মানুষ জাতি)-এর অর্ন্তভূক্ত হতে পারে না। বরং তারা তার থেকে আলাদা দু’টি প্রজাতিই হতে পারে। তাছাড়া যে ব্যক্তি সামান্য আরবী জানে সে-ও কখনো এ কথা কল্পনা করতে পারে না যে, এ ভাষায় নিছক জিন শব্দ বলে তার মাধ্যমে মানুষদের কোন দল বা নিছক পাখি (তাইর) শব্দ বলে তার মাধ্যমে অশ্বারোহী বাহিনী অর্থ করা যেতে পারে এবং কোন আরব এ শব্দগুলো শুনে তার এ অর্থ বুঝতে পারে। নিছক প্রচলিত বাগধারা অনুযায়ী কোন মানুষকে তার অস্বাভাবিক কাজের কারণে জিন অথবা কোন মেয়েকে তার সৌন্দর্যের কারণে পরী কিংবা কোন দ্রুতগতি সম্পন্ন পুরুষকে পাখি বলা হয় বলেই এর অর্থ এই হয় না যে, এখন জিন মানে শক্তিশালী লোক, পরী মানে সুন্দরী মেয়ে এবং পাখি মানে দ্রুতগতি সম্পন্ন মানুষই হবে। এ শব্দগুলোর অসেব অর্থ তো তাদের রূপক অর্থ, প্রকৃত অর্থ নয়। আর কোন ব্যক্যের মধ্যে কোন শব্দকে তার প্রকৃত অর্থ বাদ দিয়ে রূপক অর্থে তখনই ব্যবহার করা হয় বা শ্রোতা তার রূপক অর্থ তখনই গ্রহণ করে যখন আশেপাশে এমন কোন সুস্পষ্ট প্রসঙ্গ বা পূর্বাপর সামঞ্জস্য পাওয়া যায় যার ভিত্তিতে এ ধারণা করা যেতে পারে যে, জিন ও পাখি শব্দ দু’টি তাদের প্রকৃত অর্থে নয় বরং রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? বরং সামনের দিকে ঐ দু’টি দলের প্রত্যেক ব্যক্তির যে অবস্থা ও কাজ বর্ণনা করা হয়েছে তা এ পেঁচালো ব্যাখ্যার সম্পূর্ণ বিরোধী অর্থ প্রকাশ করছে। কুরআনের কথায় কোন ব্যক্তির মন যদি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে না পারে, তাহলে তার পরিষ্কার বলে দেয়া উচিত এ কথা আমি মানি না। কিন্তু মানুষ কুরআনের পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন শব্দগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে নিজের মনের মতো অর্থের ছাঁচে সেগুলো ঢালাই করবে এবং এ কথা প্রকাশ করতে থাকবে যে, সে কুরআনের বর্ণনা মানে, অথচ আসলে কুরআন যা কিছু বর্ণনা করেছে সে তাকে নয় বরং নিজের জোর করে তৈরী করা অর্থই মানে--- এটি মানুষের একটি মস্তবড় চারিত্রিক কাপুরুষতা ও তাত্ত্বিক খেয়ানত ছাড়া আর কী হতে পারে?
বোঝানো উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলা সুলাইমান আলাইহিস সালামকে যে রাজত্ব দিয়েছিলেন, তা কেবল মানুষের মধ্যেই সীমিত ছিল না; বরং জিন ও পশু-পাখির উপরও তা ব্যাপ্ত ছিল। তিনি যখন কোন দিকে বের হতেন, তখন তার সেনাদলে যেমন থাকত মানুষ, তেমনি থাকত জিন ও পাখির দল। এভাবে তার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এত বিপুল হয়ে যেত যে, তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হত। তাই বলে যে তাদের মধ্যে কখনও বিশৃঙ্খলা দেখা দিত এমন নয়; বরং তাদের মধ্যে সর্বদা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকত।
১৭. আর সুলাইমানের সামনে সমবেত করা হল তার বাহিনীকে—জিন মানুষ ও বিহঙ্গকুলকে এবং তাদেরকে বিন্যস্ত করা বিভিন্ন ব্যূহে।(১)
(১) يوزعون শব্দটি وزع শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর শাব্দিক অর্থ, বিরত রাখা। অর্থাৎ বাহিনীকে প্রাচুর্যের কারণে বিরত রাখা, যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘুরাপিরা না করে একটি সুনির্দিষ্ট পন্থায় চলাফেরা করতে তাদেরকে বাধ্য করা হয়। (মুয়াস্সার)
(১৭) সুলাইমানের সম্মুখে তার সমস্ত বাহিনী; জীন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে সমবেত করা হল;(1) তাদেরকে (এক এক) দলে বিন্যস্ত করা হল। (2)
(1) এখানে সুলাইমান (আঃ)-এর ব্যক্তিগত বিশেষ এক বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে; যাতে তিনি পুরো মানব ইতিহাসে একক। আর তা হল তাঁর আধিপত্য কেবলমাত্র মানুষের উপর ছিল না; বরং জীন, জীব-জন্তু ও পশু-পক্ষীর উপরেও ছিল। এমনকি বাতাসও তাঁর অধীনস্থ ছিল। এখানে বলা হয়েছে যে, সুলাইমান (আঃ) কোথাও যাবার জন্য সমস্ত সৈন্যদেরকে, অর্থাৎ জীন, মানুষ ও পাখীদেরকে জমায়েত করলেন।
(2) এই অনুবাদ تَوزِيع এর অর্থ تَفرِيق হিসাবে করা হয়েছে। অর্থাৎ, সকলকে ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত করা হল। যেমন মানুষের একটি দল, জিনের একটি দল, পশুর একটি দল, পক্ষীর একটি দল ইত্যাদি। দ্বিতীয় অর্থ হল, তাদেরকে থামিয়ে দেওয়া হত। অর্থাৎ, এই সেনাদল এত বিশাল হত যে, পথে থামিয়ে তা সুবিন্যস্ত করা হত। যাতে করে শাহী সেনা অসংগঠিত ও ছিন্ন-ভিন্ন না হয়ে পড়ে। এই অর্থ وَزَع يَزَع থেকে আসবে। যার অর্থ থামানো। এই শব্দের সাথে একটি আলিফ বাড়িয়ে দিয়ে أَوزِعنِي করা হয়েছে যেমন, এই সূরার ১৯নং আয়াতে আসছে। যার অর্থঃ আমার নিকট হতে এমন জিনিস দূর করে দাও, যা তোমার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা করতে বাধা দিয়ে থাকে।