ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-দা-ঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ‘ইলমান ওয়া ক-লাল হামদুলিল্লাহিল্লাযী ফাদ্দালানা-‘আলা-কাছীরিম মিন ‘ইবা-দিহিল মু’মিনীন।উচ্চারণ
(অন্যদিকে) আমি দাউদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করলাম ১৮ এবং তারা বললো, সেই আল্লাহর শোকর যিনি তাঁর বহু মু’মিন বান্দার ওপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। ১৯ তাফহীমুল কুরআন
আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দিয়েছিলাম। তারা বলেছিল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে তার বহু মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।মুফতী তাকী উসমানী
আমি অবশ্যই দাউদকে ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম এবং তারা বলেছিলঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে তাঁর বহু মু’মিন বান্দাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।মুজিবুর রহমান
আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি অবশ্যই দাঊদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম এবং তারা উভয়ে বলেছিল, সকল প্রশংসা আল্লাহ্ র যিনি আমাদেরকে তার বহু মু’মিন বান্দাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর অবশ্যই আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছি এবং তারা উভয়ে বলল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি তাঁর অনেক মুমিন বান্দাদের উপর আমাদেরকে মর্যাদা দান করেছেন’।আল-বায়ান
আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তারা উভয়ে বলেছিল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর বহু মু’মিন বান্দাদের উপর আমাদেরকে মর্যাদা দান করেছেন।’তাইসিরুল
আর অবশ্যই ইতিপূর্বে আমরা দাউদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম, আর তাঁরা উভয়ে বলেছিলেন -- "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তাঁর বহুসংখ্যক মুমিন বান্দাদের উপরে।"মাওলানা জহুরুল হক
১৮
অর্থাৎ সত্যের জ্ঞান। আসলে তাদের কাছে নিজস্ব কোন জ্ঞান নেই, যা কিছু আছে তা আল্লাহর দেয়া এবং তা ব্যবহার করার যে ক্ষমতা তাদেরকে দেয়া হয়েছে তাকে আল্লাহর ইচ্ছা ও মর্জি অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। আর এ ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার ও অপব্যবহারের জন্য তাদেরকে প্রকৃত মালিকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ফেরাউন যে মূর্খতায় নিমজ্জিত ছিল এ জ্ঞান তার বিপরীতধর্মী। ফেরাউনী অজ্ঞতা ও মূর্খতার ফলে যে চরিত্র গড়ে উঠেছিল তার নমুনা ওপরে আলোচিত হয়েছে। এ জ্ঞান কোন্ ধরনের নৈতিক চরিত্রের আদর্শ পেশ করে এখন তা বলা হচ্ছে। শাসন ক্ষমতা ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, শক্তি দু’পক্ষেরই সমান। ফেরাউনও এগুলো লাভ করেছিল এবং দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালামও লাভ করেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞতা তাদের মধ্যে কত বড় ব্যবধান সৃষ্টি করে দিয়েছে।
১৯
অর্থাৎ অন্য মু’মিন বান্দাও এমন ছিল যাদেরকে খেলাফত দান করা যেতে পারতো। কিন্তু এটা আমাদের কোন ব্যক্তিগত গুণ নয় বরং নিছক আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদের এ রাজ্যের শাসন কর্তৃত্ব পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করেছেন।
১৫. আর অবশ্যই আমরা দাউদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম(১) এবং তারা উভয়ে বলেছিলেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে তাঁর বহু মুমিন বান্দাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।(২)
(১) এখানে নবীদের নবুওয়ত-রিসালত সহ যাবতীয় প্রশস্ত জ্ঞান সবই উদ্দেশ্য। (ইবন কাসীর; জালালাইন; সা’দী) যেমন দাউদ আলাইহিস সালামকে লৌহবর্ম নির্মাণ শিল্প শেখানো হয়েছিল। নবীগণের মধ্যে দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালাম এই বৈশিষ্টের অধিকারী ছিলেন যে, তাদেরকে নবুওয়ত ও রেসালতের সাথে রাজত্ব দান করা হয়েছিল। তাদেরকে বিচার-ফয়সালার জ্ঞানও প্রদান করা হয়েছিল। সুলাইমানের রাজত্ব এমন নজিরবিহীন যে, শুধু মানুষের উপর নয়- জিন ও জন্তু-জানোয়ারদের উপরও তার শাসন ক্ষমতা ছিল।
(২) আসলে আল্লাহর দেয়া যে ক্ষমতা তাদেরকে দেয়া হয়েছে তাকে আল্লাহর ইচ্ছা ও মর্জি অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। কারণ, এ ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার ও অপব্যবহারের জন্য তাদেরকে প্রকৃত মালিকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ফিরআউন শাসন ক্ষমতা ধন-সম্পদ, মান-মর্যাদা, এগুলো লাভ করেছিল এবং দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালামও সে ধরনের নেয়ামত লাভ করেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞতা তাদের মধ্যে কত বড় ব্যবধান সৃষ্টি করে দিয়েছে তা বর্ণনার জন্যই এখানে সুলাইমান আলাইহিস সালামের ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে। (আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর)
(১৫) আমি অবশ্যই দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম(1) এবং তারা বলেছিল, ‘প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে তাঁর বহু বিশ্বাসী দাসের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’
(1) সূরার প্রথম দিকে বলা হয়েছে যে, এ কুরআন আল্লাহর পক্ষ হতে নবী (সাঃ)-কে শিখানো হচ্ছে। আর তার প্রমাণস্বরূপ মূসার ঘটনা সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করা হল। এখন দ্বিতীয় প্রমাণ দাঊদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম) এর এই ঘটনা। নবীদের এ সমস্ত ঘটনাবলীর বিবরণ এই কথারই প্রমাণ বহন করে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) সত্য রসূল। এখানে জ্ঞান বলতে নবুঅতের জ্ঞান ছাড়া দাঊদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম)-কে বিশেষভাবে যে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তাকে বুঝানো হয়েছে। যেমন দাঊদ (আঃ)-কে লোহা থেকে বিভিন্ন জিনিস তৈরী করার জ্ঞান এবং সুলাইমান (আঃ)-কে জীব-জন্তুর ভাষা বা বুলি বুঝার জ্ঞান দান করা হয়েছিল। এই দুই পিতা-পুত্রকে আরো অনেক কিছু দান করা হয়েছিল। কিন্তু এখানে শুধু জ্ঞানের কথা উল্লেখ হয়েছে। যাতে বুঝা যাচ্ছে যে, জ্ঞান হল আল্লাহর সব চেয়ে বড় নিয়ামত।