যা-লিকা বিআন্নাহুম ক-লূ লান তামাছছানান্না-রু ইল্লা-আইয়া-মাম মা‘দূদা-তিওঁ ওয়াগাররহুম ফী দীনিহিম মা-ক-নূ ইয়াফতারুন।উচ্চারণ
তাদের এ কর্মপদ্ধতির কারণ হচ্ছে এই যে, তারা বলেঃ “জাহান্নামের আগুন তো আমাদের স্পর্শও করবে না। আর যদি জাহান্নামের শাস্তি আমরা পাই তাহলে তা হবে মাত্র কয়েক দিনের।” ২৩ তাদের মনগড়া বিশ্বাস নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে বড়ই ভুল ধারণার মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। তাফহীমুল কুরআন
তা এ কারণে যে, তারা বলে থাকে, আগুন কখনই আমাদেরকে দিন কতকের বেশি স্পর্শ করবে না। আর তারা যেসব মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, তাই তাদেরকে তাদের দীন সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে।মুফতী তাকী উসমানী
এটা এ জন্য যে, তারা বলেঃ নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন ব্যতীত জাহান্নামের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবেনা; এবং তারা যা স্থির করেছে, তাদের ধর্ম বিষয়ে ওটা তাদেরকে প্রতারিত করেছে।মুজিবুর রহমান
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এ কারণে যে, তারা বলে থাকে, ‘দিন কতক ব্যতীত আমাদেরকে অগ্নি কখনই স্পর্শ করবে না। তাদের নিজেদের দীন সম্বন্ধে তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এর কারণ হল, তারা বলে, ‘গুটি কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না’। আর তারা যা মিথ্যা রচনা করত, তা তাদেরকে তাদের দীনের ব্যাপারে প্রতারিত করেছে।আল-বায়ান
এটা এজন্য যে, তারা বলে, দিন কতক ছাড়া জাহান্নামের আগুন কক্ষনো আমাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তাদের কল্পিত ধারণাসমূহ দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে।তাইসিরুল
এমন ছিল, কারণ তারা বলে -- "আগুন আমাদের কদাচ স্পর্শ করবে না গুনতির কয়েকটি দিন ছাড়া।" আর তাদের ধর্মমতে তারা নিজেদের প্রতারণা করছে তারা যা জালিয়াতি করে চলেছে তার দ্বারা।মাওলানা জহুরুল হক
২৩
তারা নিজেদেরকে আল্লাহর প্রিয়পাত্র মনে করে বসেছে। তাদের মনে এই ভুল ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, তারা যাই কিছু করুক না কেন জান্নাত তাদের নামে লিখে দেয়া হয়ে গেছে, তারা ঈমানদার গোষ্ঠী, তারা উমুকের সন্তান, উমুকের উম্মাত, উমুকের মুরীদ এবং উমুকের হাতে হাত রেখেছে, কাজেই জাহান্নামের আগুনের কোন ক্ষমতাই নেই তাদেরকে স্পর্শ করার। আর যদিওবা তাদেরকে কখনো জাহান্নামে দেয়া হয়, তাহলেও তা হবে মাত্র কয়েক দিনের জন্য। গোনাহের যে দাগগুলো গায়ে লেগে গেছে সেগুলো মুছে ফেলে দিয়ে সেখান থেকে তাদেরকে সোজা জান্নাতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এ ধরনের চিন্তাধারা তাদের এমনি নির্ভীক বানিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে তারা নিশ্চিন্তে কঠিন থেকে কঠিনতর অপরাধ করে যেতো, নিকৃষ্টতম গোনাহের কাজ করতো, প্রকাশ্যে সত্যের বিরোধিতা করতো এবং এ অবস্থায় তাদের মনে সামান্যতম আল্লাহর ভয়ও জাগতো না।
২৪. এটা এজন্যে যে তারা বলে থাকে, মাত্র কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না। আর তাদের নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে।(১)
(১) কাতাদা বলেন, তারা মনে করে থাকে যে, যে সময়টুকুতে তারা অর্থাৎ পূর্বপুরুষরা গো-বৎসের পূজা করেছিল, সে সময়টুকুতেই শুধু তাদের শাস্তি হবে। তারপর তাদের আর শাস্তি হবে না। এই যে বিশ্বাস তা কোন শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাদের ভিত্তি হচ্ছে দ্বীনের উপর মিথ্যা দাবী করা। কারণ তারা দাবী করে বলে থাকে যে, ‘আমরা আল্লাহর সন্তান-সন্তুতি ও প্রিয় মানুষ’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ১৮) এটা অবশ্যই তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন। (তাবারী)
(২৪) এ জন্য যে তারা বলে, ‘নির্দিষ্ট কিছু দিন ব্যতীত দোযখের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবে না।’ আসলে তাদের নিজেদের ধর্ম সম্বন্ধে (উক্ত) মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে। (1)
(1) অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাবকে অমান্য করা এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণে তাদের মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা কখনোও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যদি জাহান্নামে প্রবেশ করেও তাহলে তা হবে কেবল কয়েক দিনের জন্য। আর এই মিথ্যা উদ্ভাবন ও অমূলক ধারণাই তাদেরকে প্রবঞ্চনা ও ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখেছে।