কুল মা-ইয়া‘বাউ বিকুম রববী লাওলা-দু‘আউকুম ফাকাদ কাযযাবতুম ফাছাওফা ইয়াকূনুলিঝা-মা-।উচ্চারণ
হে মুহাম্মাদ! লোকদের বলো, “আমার রবের তোমাদের কি প্রয়োজন, যদি তোমারা তাঁকে না ডাকো। ৯৬ এখন যে তোমরা মিথ্যা আরোপ করেছো, শিগগীর এমন শাস্তি পাবে যে, তার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব হবে না।” তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল! মানুষকে) বলে দাও, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছুই আসে যায় না। #%৩৭%# আর (হে কাফেরগণ!) তোমরা তো সত্য প্রত্যাখ্যান করেছ। অচিরেই এ প্রত্যাখ্যান তোমাদের গললগ্ন হয়ে যাবে।মুফতী তাকী উসমানী
বলঃ তোমরা আমার রাব্বকে না ডাকলে তাঁর কিছুই আসে যায়না। তোমরা অস্বীকার করেছ, ফলে অচিরেই নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি।মুজিবুর রহমান
বলুন, আমার পালনকর্তা পরওয়া করেন না যদি তোমরা তাঁকে না ডাক। তোমরা মিথ্যা বলেছ। অতএব সত্বর নেমে আসবে অনিবার্য শাস্তি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘তোমরা আমার প্রতিপালককে না ডাকিলে তাঁর কিছুই আসে যায় না। তোমরা অস্বীকার করেছ, ফলে অচিরে নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘যদি তোমরা না-ই ডাক তাহলে আমার রব তোমাদের কোন পরওয়া করেন না। তারপর তোমরা অস্বীকার করেছ। তাই অচিরেই অপরিহার্য হবে আযাব।আল-বায়ান
(কাফিরদেরকে) বল : ‘তোমাদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালকের কী প্রয়োজন পড়েছে তোমরা যদি তাঁকে না ডাকো? তোমরা তো তাঁকে অস্বীকার করেছ, কাজেই শীঘ্রই তোমাদের উপর এসে পড়বে অপ্রতিরোধ্য (শাস্তি)।তাইসিরুল
বলো -- "তোমাদের দোয়া না থাকলেও আমার প্রভুর কিছু যায় আসে না, কিন্তু তোমরা তো প্রত্যাখ্যানই করেছ, সেজন্য শীঘ্রই অনিবার্য শাস্তি আসছে।"মাওলানা জহুরুল হক
৯৬
অর্থাৎ যদি তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা না করো, তাঁর ইবাদাত না করো এবং নিজেদের প্রয়োজন ও অভাব পূরণের জন্য তাঁকে সাহায্যের জন্য না ডাকো, তাহলে আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের কোন গুরুত্বই নেই। এ কারণে তিনি নগণ্য তৃণ-খণ্ডের সমানও তোমাদের পরোয়া করবেন না। নিছক সৃষ্টি হবার দিক দিয়ে তোমাদের ও পাথরের মধ্যে কোন ফারাক নেই। আল্লাহর কোন প্রয়োজন পূরণ করতে হলে তোমাদের উপর নির্ভর করতে হয় না। তোমরা বন্দেগী না করলে তাঁর কোন কাজ ব্যাহত হবে না। তোমাদের তাঁর সামনে হাত পাতা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করাই তাঁর দৃষ্টিকে তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট করে। এ কাজ না করলে তোমরা নিক্ষিপ্ত হবে ময়লা আবর্জনার মতো।
এটা বলা হচ্ছে যারা আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী করে তাদেরকে লক্ষ করে। বলা হচ্ছে যে, তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার অভিমুখী না হতে এবং তাঁর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, তবে আল্লাহ তাআলারও তাতে কিছু আসত যেত না, তিনি এর কোন পরওয়া করতেন না। কিন্তু দয়াময় আল্লাহর প্রকৃত বান্দাগণ, যারা তাঁর ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে এবং যারা উপরে বর্ণিত সৎকর্মসমূহ আঞ্জাম দেয়, তারা হবে উৎকৃষ্ট পরিণামের অধিকারী, যার যিম্মাদার আল্লাহ তাআলা নিজেই। তারপর কাফেরদেরকে লক্ষ করে বলা হয়েছে, তোমরা যখন এ মূলনীতি জানতে পারলে এবং তারপরও সত্য প্রত্যাখ্যানের নীতিতেই অটল থাকলে, তখন জেনে রেখ, আল্লাহ তাআলার অনুগত বান্দাদের মত পরিণাম তোমাদের হতে পারে না। তোমাদের এ কর্মকাণ্ড তোমাদের গলার কাঁটা হয়ে যাবে এবং পরিশেষে আখেরাতের আযাবরূপে তোমাদেরকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরবে যে, তার থেকে মুক্তিলাভ কখনও সম্ভব হবে না।
৭৭. বলুন, আমার রব তোমাদের মোটেই ভ্ৰক্ষেপ করেন না, যদি না তোমরা তাকে ডাক।(১) অতঃপর তোমরা মিথ্যারোপ করেছ, সুতরাং অচিরেই অপরিহার্য হবে শাস্তি।
(১) এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে অনেক উক্তি আছে। তবে স্পষ্ট কথা হলো, আল্লাহর কাছে তোমাদের কোন গুরুত্ব থাকত না যদি তোমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে ডাকা ও তাঁর ইবাদাত করা না হত। কেননা, মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্যই আল্লাহর ইবাদাত করা। (বাগভী) যেমন অন্য আয়াতে আছে (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) (সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫৬) অর্থাৎ আমি মানব ও জিনকে আমার ইবাদাত ব্যতীত অন্য কোন কাজের জন্য সৃষ্টি করিনি।
(৭৭) বল, ‘তোমাদের দুআ (আহবান) না থাকলে আমার প্রতিপালক তোমাদের কোন পরোয়াই করতেন না। (1) তোমরা (দ্বীনকে) মিথ্যাজ্ঞান করেছ, ফলে অনিবার্য (শাস্তি) নেমে আসবে।’(2)
(1) দু’আ ও আহবানের অর্থ আল্লাহকে ডাকা ও তাঁর ইবাদত করা। অর্থ এই যে, তোমাদেরকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। এমন না করলে আল্লাহর কোন পরোয়া নেই। আল্লাহর নিকট মানুষের মূল্যায়ন ও মান নির্ণয় তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর ইবাদতের ভিত্তিতেই হবে।
(2) এখানে কাফেরদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহকে মিথ্যা মনে করেছ অতএব তার শাস্তি অবশ্যই তোমাদেরকে ভুগতে হবে। সুতরাং পৃথিবীতে এই অনিবার্য শাস্তি বদরে পরাজয়রূপে তারা পেয়েছে এবং পরকালে জাহান্নামে চিরস্থায়ী আযাবও তাদেরকে ভুগতে হবে।