قَالُواْ سُبۡحَٰنَكَ مَا كَانَ يَنۢبَغِي لَنَآ أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنۡ أَوۡلِيَآءَ وَلَٰكِن مَّتَّعۡتَهُمۡ وَءَابَآءَهُمۡ حَتَّىٰ نَسُواْ ٱلذِّكۡرَ وَكَانُواْ قَوۡمَۢا بُورٗا

ক-লূছুবহা-নাকা মা-ক-না ইয়ামবাগী লানাআন নাত্তাখিযা মিন দূ নিকা মিন আওলিয়াআ ওয়ালা-কিম মাত্তা‘তাহুম ওয়া আ-বাআহুম হাত্তা-নাছুযযিকর- ওয়া ক-নূকাওমাম বূর-।উচ্চারণ

তারা বলবে, “পাক-পবিত্র আপনার সত্তা! আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে আমাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করার ক্ষমতাও তো আমাদের ছিল না কিন্তু আপনি এদের এবং এদের বাপ-দাদাদের খুব বেশী জীবনোপকরণ দিয়েছেন, এমনকি এরা শিক্ষা ভুলে গিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যপীড়িত হয়েছে। ২৬ তাফহীমুল কুরআন

তারা বলবে, আপনার সত্তা সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র! আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যান্য অভিভাবক গ্রহণ করতে পারি না। কিন্তু ব্যাপার হল, আপনি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে দুনিয়ার ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন, পরিণামে তারা উপদেশ ভুলে গিয়েছিল। আর (এভাবে) তারা হয়ে গিয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলবেঃ আপনি পবিত্র ও মহান! আপনার পরিবর্তে আমরা অন্যকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করতে পারিনা। আপনিইতো এদেরকে ও এদের পিতৃ-পুরুষদেরকে ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন। পরিণামে তারা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং পরিণত হয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে।মুজিবুর রহমান

তারা বলবে-আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পরিবর্তে অন্যকে মুরুব্বীরূপে গ্রহণ করতে পারতাম না; কিন্তু আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলবে, ‘পবিত্র ও মহান তুমি! তোমার পরিবর্তে আমরা অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করতে পারি না; তুমিই তো এদেরকে এবং এদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলে; পরিণামে এরা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং পরিণত হয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা বলবে, ‘আপনি পবিত্র মহান! আপনি ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের উচিত নয়, বরং আপনি তাদেরকে ও তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছেন, অবশেষে আপনার স্মরণকে তারা ভুলে গিয়েছিল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত কওমে পরিণত হয়েছিল।’আল-বায়ান

তারা বলবে : ‘পবিত্র ও মহান তুমি। আমাদের জন্য শোভনীয় ছিল না যে তোমাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করব, বরং তুমি ওদেরকে আর ওদের পিতৃপুরুষদেরকে দিয়েছিলে পার্থিব ভোগ সম্ভার, পরিণামে তারা ভুলে গিয়েছিল (তোমার প্রেরিত) বাণী, যার ফলে তারা পরিণত হল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে।তাইসিরুল

তারা বলবে -- "তোমারই সব মহিমা! এটি আমাদের জন্য সমীচীন নয় যে তোমাকে বাদ দিয়ে আমরা অন্যান্য অভিভাবকদের গ্রহণ করব। কিন্তু তুমি তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের ভোগসম্ভার দিয়েছিলে, পরিণামে তারা ভুলে গিয়েছিল সাবধান-বাণী, ফলে তারা হয়েছিল একটি বিনষ্ট জাতি।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৬

অর্থাৎ তারা ছিল সংকীর্ণমনা ও নীচ প্রকৃতির লোক। তিনি রিযিক দিয়েছিলেন যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কিন্তু তারা সবকিছু খেয়েদেয়ে নিমকহারাম হয়ে গেছে এবং তাঁর প্রেরিত নবীগণ তাদেরকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তা ভুলে গেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তারা তাদের যে উপাস্যদেরকে প্রভুত্বের মর্যাদা দান করেছিল তারা ছিল বিভিন্ন প্রকার ক.কতক ফেরেশতা, যাদেরকে তারা আল্লাহ তাআলার কন্যা বলে বিশ্বাস করত; খ.কোন কোন নবী ও বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গ। অনেকে তাদেরকে প্রভুত্বের আসনে বসিয়েছিল এবং তাদের পূজা-অর্চনায় লিপ্ত থাকত। এ দুই শ্রেণীর পক্ষ হতে তো এ উত্তর বোধগম্য যে, ‘আপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে অভিভাবক বানানোর সাধ্য আমাদের ছিল না,’ অর্থাৎ আমরা কি প্রভু হব, আপনিই তো আমাদেরসহ সকল সৃষ্টির প্রভু। ইবাদত তো কেবল আপনারই করা যায় এবং তাতে অন্য কাউকে শরীক করার কোন অবকাশ নেই। গ.তাদের তৃতীয় প্রকারের উপাস্য হল প্রতিমা, যাদেরকে তারা নিজ হাতে মাটি বা পাথর দ্বারা তৈরি করত। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হতে পারে, পাথরের প্রতিমার কি বাকশক্তি আছে যে, তারা এ রকম জবাব দেবে? এর দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে (ক) এখানে কেবল সেই সকল মুশরিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা বিশেষ মানুষ বা ফেরেশতাকে প্রভুত্বের আসনে বসিয়ে তাদের প্রতীকরূপে প্রতিমাদের পূজা করত। (খ) এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা তখন মূর্তিদেরকে কথা বলার শক্তি দান করবেন। ফলে তাদের পক্ষে একথা বলা সম্ভব হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮. তারা বলবে, পবিত্র ও মহান আপনি! আপনার পরিবর্তে আমরা অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্ৰহণ করতে পারি না(১); আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলেন; পরিণামে তারা যিকর তথা স্মরণ ভুলে গিয়েছিল এবং পরিণত হয়েছিল এক ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ে।(২)

(১) কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়বস্তুটি এসেছে। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবেন, এরা কি তোমাদেরই বন্দেগী করতো? তারা বলবেঃ পাক-পবিত্র আপনার সত্তা, আমাদের সম্পর্ক তো আপনার সাথে, এদের সাথে নয়। এরা তো জিনদের (অর্থাৎ শয়তান) ইবাদত করতো। এদের অধিকাংশই তাদের প্রতিই ঈমান এনেছিল।” (সূরা সাবা ৪০–৪১)

অনুরূপভাবে আরো বলা হয়েছেঃ “আর যখন তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে উপাস্যে পরিণত করো? সে বলবে, পাক-পবিত্র আপনার সত্তা, যে কথা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার জন্য কবে শোভন ছিল? আমি তো এদেরকে এমন সব কথা বলেছিলাম যা বলার হুকুম আপনি আমাকে দিয়েছিলেন, তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহর বন্দেগী করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদেরও রব।” (সূরা আল-মায়েদাহঃ ১১৭)

(২) অর্থাৎ তারা ছিল সংকীর্ণমনা ও নীচ প্রকৃতির লোক। তিনি রিযিক দিয়েছিলেন যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কিন্তু তারা সবকিছু খেয়েদেয়ে নিমকহারাম হয়ে গেছে এবং তাঁর প্রেরিত নবীগণ তাদেরকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তা ভুলে গেছে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর, বাগভী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৮) ওরা বলবে, ‘পবিত্র ও মহান তুমি! তোমার পরিবর্তে আমরা অন্যকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করতে পারি না।(1) তুমিই তো এদেরকে এবং এদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলে; পরিণামে ওরা উপদেশ বিস্মৃত হয়েছিল এবং এক ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়েছিল।’ (2)

(1) অর্থাৎ, যখন আমরা নিজেরাই তুমি ছাড়া আর কাউকেও অভিভাবক কর্মবিধায়ক মনে করি না, তাহলে আমরা তাদেরকে কিরূপে বলতে পারে যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাদেরকে অভিভাবক ও কর্মবিধায়ক মনে কর?

(2) এটি হল শিরকের একটি কারণ। অর্থাৎ, পৃথিবীর ধন-সম্পদ ও বিলাস-সামগ্রীর আধিক্য তোমার স্মরণ হতে তাদেরকে দূরে রেখেছিল এবং ধ্বংস তাদের ভাগ্যে পরিণত হয়েছিল।