لَّهُمۡ فِيهَا مَا يَشَآءُونَ خَٰلِدِينَۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ وَعۡدٗا مَّسۡـُٔولٗا

লাহুম ফীহা-মা-ইয়াশাঊনা খা-লিদীনা ক-না ‘আলা-রব্বিকা ওয়া‘দাম মাছঊলা-।উচ্চারণ

সেখানে তাদের প্রত্যেকটি ইচ্ছা পূর্ণ হবে। তার মধ্যে তারা থাকবে চিরকাল। তা প্রদান করা হবে তোমার রবের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত একটি অবশ্য পালনীয় প্রতিশ্রুতি। ২৩ তাফহীমুল কুরআন

তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত থেকে যা চাবে তাই পাবে। এটা এমন এক দায়িত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, যা তোমার প্রতিপালক নিজের প্রতি অবধারিত করেছেন।মুফতী তাকী উসমানী

সেখানে তারা যা কামনা করবে তা’ই পাবে এবং তারা স্থায়ী হবে। এই প্রতিশ্রুতি পূরণ তোমার রবেরই দায়িত্ব।মুজিবুর রহমান

তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় সেখানে যা চাইবে, তাই পাবে। এই প্রার্থিত ওয়াদা পূরণ আপনার পালনকর্তার দায়িত্ব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেখানে তারা যা চাইবে তাদের জন্যে তাই থাকবে এবং তারা স্থায়ী হবে; এই প্রতিশ্রুতি পূরণ তোমার প্রতিপালকেরই দায়িত্ব। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তারা যা চাইবে তা-ই তাদের জন্য থাকবে স্থায়ীভাবে; এটি তোমার রবের ওয়াদা,আল-বায়ান

সেখানে তাদের জন্য তা-ই থাকবে যা তারা ইচ্ছে করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটা একটা ওয়াদা যা পূরণ করা তোমার প্রতিপালকের দায়িত্ব।তাইসিরুল

সেখানে তাদের জন্য রয়েছে যা তারা কামনা করে, তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। এইটি তোমার প্রভুর উপরে ন্যস্ত ওয়াদা যা প্রার্থিত হবার যোগ্য।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৩

মূল শব্দ হচ্ছে وَعْدًا مَسْئُولًا অর্থাৎ এমন প্রতিশ্রতি যা পূর্ণ করার দাবী করা যেতে পারে। এখানে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, জান্নাতের এ প্রতিশ্রুতি ও জাহান্নামের এ ভীতি প্রদর্শন এমন এক ব্যক্তির ওপর কি প্রভাব ফেলতে পারে যে পূর্ব থেকেই কিয়ামত, শেষ বিচারের দিন এবং জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস করে না? এদিক দিয়ে বিচার করলে বাহ্যত এটি পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে অসঙ্গতিশীল একটি বাণী বলে মনে হবে। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে একথাটা সহজেই বোধগম্য হবে। ব্যাপার যদি এমন হয় যে, আমি একটি কথা স্বীকার করাতে চাই এবং অন্যজন তা স্বীকার করতে চায় না, তাহলে এক্ষেত্রে আলোচনা ও বিতর্কের ধরন হবে এক রকম। কিন্তু যদি আমি নিজের শ্রোতার সাথে এমনভাবে আলাপ করতে থাকি যে, আমার কথা মানা না মানার ব্যাপারটা আলোচ্য নয় বরং শ্রোতার স্বার্থ ও লাভ-ক্ষতিই হচ্ছে আলোচ্য বিষয়, তাহলে এক্ষেত্রে শ্রোতা যতই হঠকারী হোক না কেন একবার অবশ্যই চিন্তা করতে বাধ্য হবে। এখানে কথা বলার ও বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য এ দ্বিতীয় ভংগীটিই অবলম্বিত হয়েছে। এ অবস্থায় শ্রোতাকে তার নিজের কল্যাণের জন্য একথা ভাবতে হয় যে, পরকালীন জীবন অনুষ্ঠিত হবার প্রমাণ যদি নাই বা থাকে তাহলে তার অনুষ্ঠিত না হবারও তো কোন প্রমাণ নেই। আর সম্ভাবনা উভয়টিরই আছে। এখন যদি পরকালীন জীবন না থেকে থাকে, যেমনটি আমরা মনে করছি, তাহলে আমাদেরও মরে মাটির সাথে মিশে যেতে হবে এবং পরকালীন জীবন স্বীকারকারীদেরও। এ অবস্থায় উভয়ে সমান পর্যায়ে অবস্থান করবে। কিন্তু যদি এ ব্যক্তি যে কথা বলছে তা-ই সত্য হয়ে যায় তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের বাঁচোয়া নেই। এভাবে এ বাচনভংগী শ্রোতার হঠকারিতার দেয়ালে ফাটল ধরিয়ে দেয়। এ ফাটল আরো বেশী বেড়ে যায় যখন কিয়ামত, শেষ বিচার, হিসেব-নিকেশ, দোজখ ও বেহেশতের এমন বিস্তারিত নকশা পেশ করা হয় যেমন কেউ সেখানকার স্বচক্ষে দেখা ঘটনাবলী বর্ণনা করছে। (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, হা-মীম আস্-সাজদাহ, ৫২ আয়াত, ৬৯ টীকা এবং আল আহকাফ, ১০ আয়াত।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬. সেখানে তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় যা চাইবে তাদের জন্য তা-ই থাকবে; এ প্রতিশ্রুতি পূরণ আপনার রব এর দায়িত্ব।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৬) সেখানে তারা স্থায়ী হয়ে যা কামনা করবে তাই পাবে; এ প্রতিশ্রুতি পূরণ তোমার প্রতিপালকেরই দায়িত্ব।(1)

(1) অর্থাৎ, এমন প্রতিশ্রুতি যা অবশ্যই পালন করা হবে। যেরূপ ঋণ পরিশোধ দাবী করা হয়ে থাকে, অনুরূপ আল্লাহ নিজের উপর উক্ত প্রতিশ্রুতি পালন জরুরী করে নিয়েছেন। ঈমানদাররা তা পালন করার দাবী আল্লাহর নিকট করতে পারবে। এটি শুধুমাত্র তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ যে তিনি ঈমানদারদের জন্য উত্তম প্রতিদান দেওয়াকে নিজের জন্য জরুরী করে নিয়েছেন।