ওয়া ক-লাল্লাযীনা কাফারূইন হা-যাইল্লাইফকুনিফতার-হু ওয়াআ‘আ-নাহূ ‘আলাইহি কাওমুন আ-খারূনা ফাকাদ জাঊ জুলমাওঁ ওয়াঝূর-।উচ্চারণ
যারা নবীর কথা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা বলে, এ ফুরকান একটি মনগড়া জিনিস, যাকে এ ব্যক্তি নিজেই তৈরি করেছে এবং অপর কিছু লোক তার এ কাজে তাকে সাহায্য করেছে। বড়ই জুলুম ১১ ও ডাহা মিথ্যায় তারা এসে পৌঁছেছে। তাফহীমুল কুরআন
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক মনগড়া জিনিস ছাড়া কিছুই নয়, যা সে নিজে রচনা করেছে এবং অপর এক গোষ্ঠী তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে। এভাবে (এ মন্তব্য করে) তারা ঘোর জুলুম ও প্রকাশ্য মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী
কাফিরেরা বলেঃ এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছু নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে; অবশ্যই তারা যুল্ম ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে।মুজিবুর রহমান
কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা বৈ নয়, যা তিনি উদ্ভাবন করেছেন এবং অন্য লোকেরা তাঁকে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তারা অবিচার ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কাফিররা বলে, ‘এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’ এইরূপে এরা অবশ্যই জুলুম ও মিথ্যায় উপনীত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাফিররা বলে ‘এটি তো জঘন্য মিথ্যা যা সে রটনা করেছে আর অন্য এক দল তাকে সাহায্য করেছে।’ এভাবে তারা যুলম ও মিথ্যা নিয়ে এসেছে।আল-বায়ান
কাফিররা বলে- ‘এটা মিথ্যে ছাড়া আর কিছুই নয়, সে তা (অর্থাৎ কুরআন) উদ্ভাবণ করেছে এবং ভিন্ন জাতির লোক এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করেছে।’ আসলে তারা অন্যায় ও মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছে।তাইসিরুল
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে -- "এইটি তো মিথ্যা বৈ নয় যা সে তৈরি করেছে এবং অন্যান্য লোকজন এ তে তাকে সাহায্য করেছে।" সুতরাং তারা অনাচার ও মিথ্যাচার নিয়ে এসেছে।মাওলানা জহুরুল হক
১১
অন্য অনুবাদ “বড়ই অন্যায় এ বে-ইনসাফির কথা”ও হতে পারে।
মক্কা মুকাররমার কতিপয় কাফের অপবাদ দিয়েছিল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীদের কাছ থেকে বিগত কালের নবী-রাসূলের ঘটনাবলী শিখে নিয়েছেন আর সেসব ঘটনা কারও দ্বারা লিপিবদ্ধ করিয়ে এই কুরআন বানিয়ে নিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ), অথচ তারা যে সকল ইয়াহুদীর কথা বলত, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তিনি যদি তাদের কাছ থেকে শিখে নেওয়া বিষয়কে আল্লাহর কালাম বলে চালানোর চেষ্টা করতেন, তবে সবার আগে সেই ইয়াহুদীদের কাছেই সে গোমর ফাঁস হয়ে যেত। আর এহেন অবস্থায় তারা তাকে সত্য নবী বলে স্বীকার করে তাঁর প্রতি ঈমান আনে কী করে?
৪. আর কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়, সে এটা রটনা করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে। সুতরাং অবশ্যই কাফেররা যুলুম ও মিথ্যা নিয়ে এসেছে।
(৪) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘এ মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়; সে নিজে তা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’(1) ওরা অবশ্যই সীমালংঘন করে ও মিথ্যা বলে।
(1) মুশরিকরা বলত যে, মুহাম্মাদ এই গ্রন্থ রচনা করতে ইয়াহুদীদের বা ওদের কিছু (শিক্ষিত) দাস (যেমন আবূ ফকীহা ইয়াসির, আদ্দাস ও জাবর ইত্যাদি)র সাহায্য নিয়েছে। যেমন সূরা নাহল ১০৩ নং আয়াতে জরুরী আলোচনা করা হয়েছে। এখানে কুরআন এই অপবাদকে অন্যায় ও মিথ্যা বলে অভিহিত করছে। একজন নিরক্ষর মানুষ অন্যের সাহায্য নিয়ে কেমন করে এত সুন্দর একটি গ্রন্থ রচনা করতে পারে; যা উচ্চাঙ্গের সাহিত্য-সমৃদ্ধ, শব্দালংকার ও ভাব-দ্যোতনায় অতুলনীয়, তথ্য ও তত্ত্বজ্ঞান পরিবেশনে অদ্বিতীয়, মানব জীবনের আদর্শ নিয়ম-নীতির বিস্তারিত আলোচনায় অনুপম, অতীতকালের সংবাদ ও ভবিষ্যতে ঘটিতব্য ঘটনাবলীর সঠিক বর্ণনায় এর সত্যতা সর্বজন-স্বীকৃত।