ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলিইয়াছতা’যিনকুমুল্লাযীনা মালাকাত আইমা-নুকুম ওয়াল লাযীনা লাম ইয়াবলুগুল হুলুমা মিনকুম ছালা-ছা মারর-তিন মিন কাবলি সালা-তিল ফাজরি ওয়া হীনা তাদা‘ঊনা ছিয়া-বাকুম মিনাজ্জাহীরতি ওয়া মিম বা‘দি সালা-তিল ‘ইশাই ছালা-ছু‘আওর-তিল্লাকুম লাইছা ‘আলাইকুম ওয়ালা-‘আলাইহিম জুনা-হুম বা‘দাহুন্না তাওওয়া-ফূনা ‘আলাইকুম বা‘দুকুম ‘আলা-বা‘দিন কাযালিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।উচ্চারণ
হে ঈমানদারগণ! ৮৫ তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী ৮৬ এবং তোমাদের এমন সব সন্তান যারা এখনো বুদ্ধির সীমানায় পৌঁছেনি, ৮৭ তাদের অবশ্যি তিনটি সময়ে অনুমতি নিয়ে তোমাদের কাছে আসা উচিতঃ ফজরের নামাযের আগে, দুপুরে যখন তোমরা পোশাক ছেড়ে রেখে দাও এবং এশার নামাযের পর। এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তার সময়। ৮৮ এরপরে তারা বিনা অনুমতিতে এলে তোমাদের কোন গুনাহ নেই এবং তাদেরও না। ৮৯ তোমাদের পরস্পরের কাছে বারবার আসতেই হয়। ৯০ এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিজের বাণী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং তিনি সবকিছু জানেন ও বিজ্ঞ। তাফহীমুল কুরআন
হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও সাবালকত্বে পৌঁছেনি সেই শিশুগণ যেন তিনটি সময়ে (তোমাদের কাছে আসার জন্য) অনুমতি গ্রহণ করে ফজরের নামাযের আগে, দুপুর বেলা যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং ইশার নামাযের পর। #%৪৫%# এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এ ছাড়া অন্য সময়ে তোমাদের ও তাদের প্রতি কোন কঠোরতা নেই। তোমাদের পরস্পরের মধ্যে তো সার্বক্ষণিক যাতায়াত থাকেই। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের কাছে আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী
হে মু’মিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে। ফাজরের সালাতের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ এবং ইশার সালাতের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলা রাখার সময়; এই তিন সময় ছাড়া অন্য সময়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে তোমাদের জন্য ও তাদের জন্য কোন দোষ নেই; তোমাদের এক জনকে অপর জনের নিকটতো যাতায়াত করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্ট রূপে বিবৃত করেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান
হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলার সময়। এ সময়ের পর তোমাদের ও তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনি ভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
হে মু’মিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসিগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয় নাই তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময়ের অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের সালাতের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এই তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এই তিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে তোমাদের জন্যে এবং তাদের জন্যে কোন দোষ নেই। তোমাদের এক-কে অপরের নিকট তো যাতায়াত করতেই হয়। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমাদের ডানহাত যার মালিক হয়েছে এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন অবশ্যই তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের সালাতের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ, এবং ‘ইশার সালাতের পর; এই তিনটি তোমাদের [গোপনীয়তার] সময়। এই তিন সময়ের পর তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অন্যের কাছে যাতায়াত করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের উদ্দেশ্যে তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাসদাসীগণ আর তোমাদের যারা বয়:প্রাপ্ত হয়নি তারা যেন (তোমাদের কাছে আসতে) তোমাদের অনুমতি গ্রহণ করে তিন সময়ে- ফাজর নামাযের পূর্বে, আর যখন দুপুরে রোদের প্রচন্ডতায় তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ আর ‘ইশার নামাযের পর। এ তিনটি তোমাদের পোশাকহীন হওয়ার সময়। এ সময়গুলো ছাড়া অন্য সময়ে (প্রবেশ করলে) তোমাদের উপর আর তাদের উপর কোন দোষ নেই। তোমাদের এককে অন্যের কাছে ঘুরাফিরা করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্দেশ খুবই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড়ই হিকমতওয়ালা।তাইসিরুল
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে এবং তোমাদের মধ্যের যারা সাবালগত্বে পৌঁছায়নি তারা যেন তোমাদের অনুমতি নেয় তিনটি সময়ে, -- ফজরের নামাযের আগে, আর যখন তোমরা মধ্যাহ্নের গরমে তোমাদের জামাকাপড় ছেড়ে দাও, এবং ঈশার নামাযের পরে। এই তিন হচ্ছে তোমাদের জন্য গোপনীয়তা অবলন্বনের সময়। এইসব বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য কোনো দোষ হবে না এবং তাদের জন্যও নয়। তোমাদের কাউকে অপরের কাছে তো ঘোরাঘুরি করতেই হয়। এইভাবেই আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক
৮৫
এখান থেকে আবার সামাজিক বিধানের ধারাবাহিক বর্ণনা শুরু হচ্ছে। সূরা নূরের এ অংশটি ওপরের ভাষণের কিছুকাল পরে নাযিল হওয়া মোটেই বিচিত্র নয়।
৮৬
অধিকাংশ মুফাস্সির ও ফকীহের মতে “মালিকানাধীন” বলতে দাস-দাসী উভয়কে বুঝানো হয়েছে। কারণ এখানে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ইবনে উমর ও মুজাহিদ এ আয়াতে মামলুক তথা মালিকানাধীন শব্দটি কেবলমাত্র দাস অর্থে নিয়েছেন। তাঁরা দাসীকে এর বাইরে রেখেছেন। অথচ সামনের দিকে যে হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে সেদিকে দৃষ্টি দিলে এ বিশেষ অর্থের কোন কারণ দেখা যায় না। একান্তে অবস্থান করার সময় যেমন নিজের ছেলেমেয়েদের অকস্মাৎ এসে যাওয়া সঙ্গত নয় তেমনি দাসী-চাকরানীর এসে যাওয়াও অসঙ্গত।
এ আয়াতের আদেশ প্রাপ্ত বয়স্ক-অপ্রাপ্ত বয়স্ক উভয় ধরনের দাস-দাসীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, এ ব্যাপারে সবাই একমত।
৮৭
দ্বিতীয় অনুবাদ হতে পারে, “প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো স্বপ্ন দেখার বয়সে পৌঁছেনি।” এ থেকেই ফকীহগণ স্বপ্নদোষকে ছেলেদের বয়ঃপ্রাপ্ত হবার সূচনা বলে মেনে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে সবাই একমত। কিন্তু আমি নিজে মূল অনুবাদে যে অর্থ করেছি তা অগ্রগণ্য হবার কারণ হচ্ছে এই যে, এ হুকুমটি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য। অন্যদিকে স্বপ্নদোষকে বয়ঃপ্রাপ্ত হবার আলামত হিসেবে গণ্য করার পর হুকুমটি শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। কারণ মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স্ক হবার সূচনা হচ্ছে মাসিক ঋতুস্রাব, স্বপ্নদোষ নয়। কাজেই আমার মতে হুকুমের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যতদিন ঘরের ছেলে মেয়েরা যৌন চেতনা জাগ্রত হবার বয়সে পৌঁছে না ততদিন তারা এ নিয়ম মেনে চলবে। এরপর যখনই তারা এ নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছে যাবে তখনই তাদের যে হুকুম মেনে চলতে হবে তা সামনে আসছে।
৮৮
মূলে عَوْرَاتٍ (আওরাত) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “এ তিনটি সময় তোমাদের জন্য আওরাত।” আওরাত বলতে আমাদের ভাষায় মেয়েলোক বা নারী জাতি বুঝায়। কিন্তু আরবী ভাষায় এর মানে হয় বাধা ও বিপদের জায়গা এবং যে জিনিসের খুলে যাওয়া মানুষের জন্য লজ্জার ব্যাপার এবং যার প্রকাশ হয়ে পড়া তার জন্য বিরক্তিকর হয় এমন জিনিসের জন্যও এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া কোন জিনিসের অসংরক্ষিত হওয়া অর্থেও এর ব্যবহার হয়। এ অর্থগুলো সবই পরস্পর নিকট সম্পর্কযুক্ত এবং আয়াতের অর্থের সাথে কোন না কোন পর্যায়ে সংযুক্ত। এর অর্থ হচ্ছে এ সময়গুলোতে তোমরা একাকী বা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে এমন অবস্থায় থাকো যে অবস্থায় গৃহের ছেলেমেয়ে বা চাকর বাকরদের হঠাৎ তোমাদের কাছে চলে যাওয়া সংগত নয়। কাজেই এ তিন সময়ে তারা যখন তোমাদের নির্জন স্থানে আসতে চায় তখন তাদের পূর্বাহ্ণে অনুমতি নেবার নির্দেশ দাও।
৮৯
অর্থাৎ এ তিন সময় ছাড়া অন্য সময় নাবালক ছেলেমেয়েরা এবং গৃহস্বামীর ও গৃহকর্ত্রীর মালিকানাধীন গোলাম ও বাঁদীরা সবসময় নারীর ও পুরুষদের কাছে তাদের কামরায় বা নির্জন স্থানে বিনা অনুমতিতে যেতে পারে। এ সময় যদি তোমরা কোন অসতর্ক অবস্থায় থাকো এবং তারা অনুমতি ছাড়াই এসে যায় তাহলে তাদের হুমকি-ধামকি দেবার অধিকার তোমাদের নেই। কারণ কাজের সময় নিজেদেরকে এ ধরনের অসতর্ক অবস্থায় রাখা তোমাদের নিজেদেরই বোকামী ছাড়া তো আর কিছুই নয়। তবে যদি তোমাদের শিক্ষা-দীক্ষা সত্ত্বেও নির্জনবাসের এ তিন সময় তারা অনুমতি ছাড়াই আসে তাহলে তারা দোষী হবে। অন্যথায় তোমরা নিজেরাই যদি তোমাদের সন্তান ও গোলামী-বাঁদীদের এ আদব-কায়দা ও আচার-আচরণ শিক্ষা না দিয়ে থাকো, তাহলে তোমরা নিজেরাই গোনাহগার হবে।
৯০
উপরোক্ত তিনটি সময় ছাড়া অন্য সবসময় ছোট ছেলেমেয়ে ও গোলাম-বাঁদীদের বিনা হুকুমে আসার সাধারণ অনুমতি দেবার এটিই হচ্ছে কারণ। এ থেকে উসূলে ফিকাহর এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শরীয়াতের বিধানসমূহ কোন না কোন প্রয়োজন ও উপযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রত্যেক হুকুমের পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোন না কোন কার্যকারণ আছেই, তা বিবৃত হোক বা না হোক।
২৭-২৯ আয়াতসমূহে হুকুম দেওয়া হয়েছিল, কেউ যেন অন্যের ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ না করে। মুসলিমগণ সাধারণভাবে এ হুকুম মেনে চলছিল। কিন্তু ঘরের দাস-দাসী ও নাবালেগ ছেলে-মেয়েদের যেহেতু বারবার এ ঘর-ও ঘর করতে হয় বা এক কামরা থেকে অন্য কামরায় যাতায়াত করতে হয়, তাই তাদের ব্যাপারে তারা এ নিয়ম রক্ষা করত না। এর ফলে অনেক সময় এমনও ঘটে যেত যে, কেউ হয়ত আরাম করছে বা একা খোলামেলা অবস্থায় আছে আর এ সময় হঠাৎ কোন দাস-দাসী বা ছেলে-মেয়ে সেখানে ঢুকে পড়ল। এতে যে কেবল বিশ্রামের ব্যাঘাত হত তাই নয়, অনেক সময় পর্দাও নষ্ট হত। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হল। এতে স্পষ্টভাবে বিধান জানিয়ে দেওয়া হল যে, অন্ততপক্ষে তিনটি সময়ে দাস-দাসী ও শিশুদেরকেও অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে তারাও অন্য ঘরে বা অন্য কক্ষে প্রবেশ করবে না। বিশেষভাবে এ তিনটি সময় (অর্থাৎ ফজরের পূর্বে, দুপুর বেলা ও ইশার পর)-এর কথা বলা হয়েছে এ কারণে যে, এ সময়গুলোতে মানুষ সাধারণত একা থাকতে ভালোবাসে। একটু খোলামেলা থাকতে স্বচ্ছন্দবোধ করে। তাই একান্ত জরুরী পোশাক ছাড়া অন্য কাপড় খুলে রাখে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে কেউ এসে পড়লে পর্দাহীনতার আশঙ্কা থাকে আর আরাম তো নষ্ট হয়ই। এছাড়া অন্যান্য সময়ে যেহেতু এসব ভয় থাকে না আবার এদের বেশি-বেশি আসা-যাওয়া করারও প্রয়োজন থাকে, তাই হুকুম শিথিল রাখা হয়েছে। তখন তারা অনুমতি ছাড়াও প্রবেশ করতে পারবে।
৫৮. হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্ৰাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময়ে অনুমতি গ্রহন করে, ফজরের সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোষাক খুলে রাখ তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এ তিন সময় ছাড়া (অন্য সময় বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে) তোমাদের এবং তাদের কোন দোষ নেই।(১) তোমাদের এককে অন্যের কাছে তো যেতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্ৰজ্ঞাময়।
(১) এ আয়াতে বিশেষ তিনটি সময়ে অনুমতি চাওয়ার বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। এই তিনটি সময় হচ্ছে ফযরের সালাতের পূর্বে, দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণের সময় এবং এশার সালাতের পরবর্তী সময়। এই তিন সময়ে মাহরাম, আত্মীয়স্বজন এমনকি বুদ্ধিসম্পন্ন অপ্ৰাপ্তবয়স্ক বালক-বালিকা এবং দাসদাসীদেরকেও আদেশ করা হয়েছে, তারা যেন কারো নির্জন কক্ষে অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ না করে। কেননা, এসব সময়ে মানুষ স্বাধীন ও খোলাখুলি থাকতে চায়, অতিরিক্ত বস্ত্রও খুলে ফেলে এবং মাঝে মাঝে স্ত্রীর সাথে খোলাখুলি মেলামেশায় মশগুল থাকে। এসব সময় কোন বুদ্ধিমান বালক অথবা গৃহের কোন নারী অথবা নিজ সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করলে প্রায়ই লজ্জার সম্মুখীন হতে হয় ও অত্যন্ত কষ্ট বোধ হয়, কমপক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির খোলাখুলিভাবে থাকা ও বিশ্রামে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া তো বলাই বাহুল্য। তাই আলোচ্য আয়াতসমূহে তাদের জন্য বিশেষ অনুমতি চাওয়ার বিধানাবলী বৰ্ণিত হয়েছে। এসব বিধানের পর একথাও বলা হয়েছে যে, (لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ) অর্থাৎ এসব সময় ছাড়া একে অপরের কাছে অনুমতি ব্যতীত যাতায়াত করায় কোন দোষ নেই। (কুরতুবী)
(৫৮) হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসিগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি (নাবালক), তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিনটি সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে; ফজরের নামাযের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে যখন তোমরা বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বাহ্যাবরণ খুলে রাখ তখন এবং এশার নামাযের পর।(1) এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়।(2) তবে এ তিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে তোমাদের জন্য এবং তাদের জন্য কোন দোষ নেই।(3) তোমাদের এককে অপরের নিকট তো সর্বদা যাতায়াত করতেই হয়।(4) এভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
(1) দাস বলতে দাস-দাসী উভয়কেই বুঝানো হয়েছে। ثلاث مرَّات (তিনবার) বলতে ‘তিন সময়’ উদ্দেশ্য। এই তিন সময় এমন যে, মানুষ কক্ষে (রুমের ভিতর) নিজ স্ত্রীর সাথে প্রেমকেলিতে লিপ্ত অথবা এমন পোশাকে থাকতে পারে যে পোশাকে অন্য কারো দেখা বৈধ বা উচিত নয়। সেই কারণে সেই তিন সময়ে ঘরের দাস-দাসীদের জন্য এ কথার অনুমতি নেই যে, তারা বিনা অনুমতিতে মালিকের রুমে প্রবেশ করবে।
(2) عَورَات শব্দটি عَورَة শব্দের বহুবচন। যার আসল অর্থ কমি ও ত্রুটি। অতঃপর এর ব্যবহার এমন জিনিসের উপর হতে শুরু করে, যার প্রকাশ করা ও দেখা পছন্দনীয় নয়। মহিলাকে সেই জন্য ‘আওরাত’ বলা হয়। কারণ তার প্রকাশ ও নগ্ন হওয়া এবং তাকে দেখা শরীয়তে অপছন্দনীয়। এখানে উক্ত তিন সময়কে عَورَات (পর্দার সময়) বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এ সময়গুলি তোমাদের নিজেদের পর্দা ও গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়; যাতে তোমরা তোমাদের বিশেষ পোশাক ও অবস্থাকে (স্ত্রী ছাড়া অন্যের কাছে) প্রকাশ করতে অপছন্দ করে থাক।
(3) উক্ত তিন সময় ছাড়া ঘরের দাস-দাসীদের রুমে প্রবেশ করার জন্য অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই; তারা বিনা অনুমতিতে আসা-যাওয়া করতে পারে।
(4) এটি সেই কারণ, যে কারণে হাদীসে বিড়ালের পবিত্র হওয়ার কথা বলা হয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘বিড়াল অপবিত্র নয়; কারণ যারা অধিকাধিক তোমাদের কাছেই ঘোরা-ফেরা করে থাকে, সে তাদের মধ্যে একজন।’’ (আবু দাউদঃ পবিত্রতা অধ্যায়, তিরমিযী) ক্রীতদাস-দাসী ও মালিক এক অপরের মধ্যে সব সময় দেখা সাক্ষাতের প্রয়োজন হয়। আর এই ব্যাপক প্রয়োজনীয়তার খাতিরেই মহান আল্লাহ উক্ত অনুমতি প্রদান করেছেন। যেহেতু তিনি সর্বজ্ঞ, মানুষের প্রয়োজন ও সুবিধা-অসুবিধা জানেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, তাঁর প্রতিটি আদেশের পশ্চাতে উপকার ও যুক্তি রয়েছে।