আও কাজুলুমা-তিন ফী বাহরিল লুজ্জিইয়িইঁ ইয়াগশা-হু মাওজুম মিন ফাওকিহী মাওজুম মিন ফাওকিহী ছাহা-বুন জু লুমা-তুম বা‘দুহা-ফাওকা বা‘দিন ইযাআখরজা ইয়াদাহূলাম ইয়াকাদ ইয়ার-হা- ওয়া মাল লাম ইয়াজ‘আলিল্লা-হু লাহূনূরন ফামালাহূমিননূর।উচ্চারণ
অথবা তার উপমা যেমন একটি গভীর সাগর বুকে অন্ধকার। ওপরে ছেয়ে আছে একটি তরংগ, তার ওপরে আর একটি তরংগ আর তার ওপরে মেঘমালা অন্ধকারের ওপর অন্ধকার আচ্ছন্ন। মানুষ নিজের হাত বের করলে তাও দেখতে পায় না। ৭২ যাকে আল্লাহ আলো দেন না তার জন্য আর কোন আলো নেই। ৭৩ তাফহীমুল কুরআন
অথবা (তাদের কার্যাবলী) যেন গভীর সমুদ্রে বিস্তৃত অন্ধকার, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গ, যার উপর আরেক তরঙ্গ এবং তার উপর মেঘরাশি। স্তরের উপর স্তরে বিন্যস্ত আধারপুঞ্জ। কেউ যখন নিজ হাত বের করে, তাও দেখতে পায় না। #%৩৯%# বস্তুত আল্লাহ যাকে আলো না দেন, তার নসীবে কোন আলো নেই।মুফতী তাকী উসমানী
অথবা (কাফিরদের কাজ) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে রয়েছে ঘন কালো মেঘ, একের উপর এক অন্ধকার। তার হাতকে বের করলে সে তা আদৌ দেখতে পায়না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেননা তার জন্য কোন জ্যোতি নেই।মুজিবুর রহমান
অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অথবা তাদের কর্ম গভীর সমুদ্র তলের অন্ধকার সদৃশ, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ, যার ঊর্ধ্বে মেঘপুঞ্জ, অন্ধকারপুঞ্জ স্তরের ওপর স্তর, এমনকি সে হাত বের করলে তা আদৌ দেখতে পাবে না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেন না তার জন্যে কোন জ্যোতিই নেই।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অথবা (তাদের আমলসমূহ) গভীর সমূদ্রে ঘনিভূত অন্ধকারের মত, যাকে আচ্ছন্ন করে ঢেউয়ের উপরে ঢেউ, তার উপরে মেঘমালা। অনেক অন্ধকার; এক স্তরের উপর অপর স্তর। কেউ হাত বের করলে আদৌ তা দেখতে পায় না। আর আল্লাহ যাকে নূর দেন না তার জন্য কোন নূর নেই।আল-বায়ান
অথবা (কাফিরদের অবস্থা) বিশাল গভীর সমুদ্রে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ঢেউয়ের উপরে ঢেউ, তার উপরে মেঘ, একের পর এক অন্ধকারের স্তর, কেউ হাত বের করলে সে তা একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোন আলো নেই।তাইসিরুল
অথবা গভীর সমুদ্রের তলার ঘোর অন্ধকারের ন্যায়, তাকে ঢেকে রাখে এক ঢেউ, তার উপরে আরেক ঢেউ, তার উপরে আছে মেঘ। ঘোর অন্ধকার -- যার একটি অপরটির উপরে। সে যখন তার হাত বাড়ায় সে তা যেন দেখতেই পায় না। আর যাকে আল্লাহ্ তার নিমিত্তে আলোক দেন নি তার জন্য তবে কোনো আলোক নেই।মাওলানা জহুরুল হক
৭২
এ উপমায় সকল কাফের মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। লোক দেখানো সৎকাজকারীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এদের সবার সম্পর্কে বলা হচ্ছে, জাগতিক পরিভাষায় তারা মহাপণ্ডিত ও জ্ঞান সাগরের মহান দিশারী হলেও হতে পারে কিন্তু নিজেদের সমগ্র জীবন যাপন করছে তারা চরম ও পূর্ণ মূর্খতার মধ্যে। তারা হচ্ছে এমন ব্যক্তির মতো যে এমন কোন জায়গায় আবদ্ধ হয়ে আছে যেখানে পুরোপুরি অন্ধকারের রাজত্ব, আলোর সামান্যতম শিখাও যেখানে পৌঁছতে পারে না। তারা মনে করে আণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন বিমান এবং চাঁদে ও গ্রহান্তরে পাড়ি দেবার জন্য মহাশূন্য যান তৈরী করার নাম জ্ঞান। তাদের মতে, খাদ্য নীতি, অর্থনীতি, আইন শাস্ত্র ও দর্শনে পারদর্শিতা অর্জন করার নাম জ্ঞান। কিন্তু আসল জ্ঞান এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিসের নাম। তার স্পর্শ থেকে তারা অনেক দূর রয়ে গেছে। সেই জ্ঞানের দৃষ্টিতে তারা নিছক মূর্খ ও অজ্ঞ ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্যদিকে একজন অশিক্ষিত গেঁয়ো যদি সত্যকে চেনে ও উপলব্ধি করে তাহলে সে জ্ঞানবান।
৭৩
এখানে পৌঁছে আসল কথা পরিষ্কার করে বলে দেয়া হয়েছে। এর সূচনা করা হয়েছিল اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ এর বিষয়বস্তু থেকে। বিশ্ব-জাহানে যখন মূলত আল্লাহর আলো ছাড়া আর কোন আলো নেই এবং সে আলো থেকেই হচ্ছে যাবতীয় সত্যের প্রকাশ তখন যে ব্যক্তি আল্লাহর আলো পাবে না সে পূর্ণ ও নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে ডুবে থাকবে না তো আর কি হবে? আর কোথাও তো আলো নেই। কাজেই অন্য কোথাও থেকে আলোর একটি শিখাও লাভ করার সম্ভাবনা করো নেই।
যেসব কাফের আখেরাতকেও মানে না, এটা তাদের দৃষ্টান্ত। বিশ্বাসের দিক থেকে এরা অধিকতর নিঃস্ব হওয়ার কারণে এরা অতটুকু আলোও পাবে না, যতটুকু প্রথমোক্ত দল পেয়েছিল। তারা তো অন্তত এই আশা করতে পেরেছিল যে, তাদের কর্ম আখেরাতে তাদের উপকারে আসবে, কিন্তু এই দলের সে রকম আশারও লেশমাত্র থাকবে না। কোন কোন মুফাসসির উপমা দু’টির পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, কাফেরদের কর্ম দু’রকম হয়ে থাকে। (এক) সেই সকল কাজ, যাকে তারা পুণ্য মনে করে এবং সেই বিশ্বাসেই তা করে। তাদের আশা তা করলে তাদের উপকার হবে। এ জাতীয় কাজের দৃষ্টান্ত হল মরীচিকা। (দুই) এমন সব কাজ যাকে তারা পুণ্য মনে করে না এবং তাতে তাদের উপকারের আশাও থাকে না। এর দৃষ্টান্ত হল পুঞ্জীভূত অন্ধকার, যাতে আলোর লেশমাত্র থাকে না। এখানে সমুদ্রগর্ভের অন্ধকার হল তাদের কুফরী আকীদা-বিশ্বাসের উপমা। তাতে এক তরঙ্গ তাদের অসৎকর্মের আর দ্বিতীয় তরঙ্গ জেদ ও হঠকারিতার উপমা। এভাবে উপর-নিচ স্তরবিশিষ্ট নিবিড় অন্ধকার পুঞ্জীভূত হয়ে গেল। এরূপ ঘন অন্ধকারের ভেতর মানুষ যেমন নিজের হাতও দেখতে পায় না, তেমনিভাবে কুফর ও নাফরমানীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকার কারণে তারা নিজেদের স্বরূপও উপলব্ধি করতে পারছে না।
৪০. অথবা তাদের কাজ গভীর সাগরের তলের অন্ধকারের মত, যাকে আচ্ছন্ন করে তরংগের উপর তরঙ্গ, যার ঊর্ধ্বে মেঘপুঞ্জ, অন্ধকারপুঞ্জ স্তরের উপর স্তর, এমনকি সে হাত বের করলে তা আদৌ দেখতে পাবে না। আর আল্লাহ্ যার জন্য নূর রাখেননি তার জন্য কোন নূরই নেই।
(৪০) অথবা (ওদের কর্মের উপমা) গভীর সমুদ্রতলের অন্ধকার সদৃশ,(1) তরঙ্গের উপর তরঙ্গ যাকে আচ্ছন্ন করে, যার ঊর্ধ্বদেশে ঘন মেঘ, এক অন্ধকারের উপর আর এক অন্ধকার, কেউ নিজ হাত বার করলে তা প্রায় দেখতেই পায় না।(2) আর আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোন আলো নেই।(3)
(1)( সমুদ্রের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে ঘন অন্ধকার রয়েছে। এখানে রয়েছে অভ্যন্তরীণ তরঙ্গ। এখানে বসবাসকারী প্রাণীদের নিজস্ব আলো আছে, যার মাধ্যমে চলাফেরা করে থাকে। -সম্পাদক
(2) এটি দ্বিতীয় উপমা, তাদের আমল অন্ধকারের ন্যায়। অর্থাৎ, তাদের আমলগুলি মরীচিকার মত অথবা অন্ধকারের মত। অথবা আগের উপমা ছিল কাফেরদের আমলের। আর এটি তাদের কুফরের উপমা, যার মধ্যে একজন কাফের সারা জীবন নিমজ্জিত থাকে। কুফর, অবিশ্বাস, অস্বীকার, মিথ্যাজ্ঞান ও ভ্রষ্টতার অন্ধকার, নিকৃষ্ট আমল ও শিরকী বিশ্বাসের অন্ধকার এবং প্রতিপালক ও তাঁর পরকালের আযাব সম্বন্ধে অজ্ঞানতার অন্ধকার। এই সমস্ত অন্ধকার তাকে হিদায়াতের কোন পথই দেখতে দেয় না; যেমন অন্ধকারে মানুষ তার নিজের হাতও দেখতে পায় না।
(3) অর্থাৎ পৃথিবীতে ঈমান ও ইসলামের আলো ভাগ্যে জোটে না। আর আখেরাতে ঈমানদাররা যে আলো পাবে, তা থেকেও বঞ্চিত থাকবে।