۞لَّيۡسَ عَلَيۡكَ هُدَىٰهُمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يَشَآءُۗ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ

লাইছা ‘আলাইকা হুদা-হুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাূউ ওয়ামা-তুনফিকূ মিন খাইরিন ফালিআনফুছিকুম ওয়ামা-তুনফিকূনা ইল্লাবতিগাআ ওয়াজহিল্লা-হি ওয়ামা-তুনফিকূমিন খাইরিয়ঁ ইউওয়াফফা ইলাইকুম ওয়া আনতুম লা-তুজলামূন।উচ্চারণ

মানুষকে হিদায়াত দান করার দায়িত্ব তোমাদের ওপর অর্পিত হয়নি। আল্লাহ‌ যাকে চান তাকে হিদায়াত দান করেন। তোমরা যে ধন-সম্পদ দান–খয়রাত করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্য ভালো। তোমরা আল্লাহ‌র সন্তুষ্টি লাভ করার জন্যই তো অর্থ ব্যয় করে থাকো। কাজেই দান-খয়রাত করে তোমরা যা কিছু অর্থ ব্যয় করবে, তার পুরোপুরি প্রতিদান দেয়া হবে এবং এক্ষেত্রে কোনক্রমেই তোমাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ৩১৩ তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তাদেরকে (কাফিরদেরকে) সঠিক পথে আনয়ন করা আপনার দায়িত্ব নয়। কিন্তু আল্লাহ যাকে চান সঠিক পথে আনয়ন করেন। #%২০৫%# তোমরা যে সম্পদই ব্যয় কর তা তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণার্থে হয়ে থাকে, আর তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ছাড়া অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ব্যয় কর না। আর তোমরা যে সম্পদই ব্যয় করবে, তোমাদেরকে তা পরিপূর্ণরূপে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।মুফতী তাকী উসমানী

তাদেরকে সুপথে আনার দায়িত্ব তোমার নয়, বরং যাকে ইচ্ছা আল্লাহ তাকে সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং তোমরা ধনসম্পদ হতে যা ব্যয় কর বস্তুতঃ তা তোমাদের নিজেদের জন্য, আর একমাত্র আল্লাহর সন্তোষ লাভের চেষ্টা ব্যতীত (অন্য কোন উদ্দেশে) অর্থ ব্যয় করনা; এবং তোমরা হালাল সম্পদ হতে যা ব্যয় করবে তা সম্পূর্ণভাবে পুনঃপ্রাপ্ত হবে, আর তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবেনা।মুজিবুর রহমান

তাদেরকে সৎপথে আনার দায় তোমার নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। যে মাল তোমরা ব্যয় কর, তা নিজ উপাকারার্থেই কর। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করো না। তোমরা যে, অর্থ ব্যয় করবে, তার পুরস্কার পুরোপুরি পেয়ে যাবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের সৎপথ গ্রহণের দায়িত্ব তোমার নয় ; বরং আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তা তোমাদের নিজেদের জন্যে আর তোমরা তো শুধু আল্লাহ্ র সন্তুষ্টি লাভার্থেই ব্যয় করে থাক। যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তার পুরস্কার তোমাদেরকে পুরাপুরিভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদেরকে হিদায়াত করার দায়িত্ব তোমার নয়, কিন্তু আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত করেন এবং তোমরা যে সম্পদ ব্যয় কর, তা তোমাদের নিজদের জন্যই। আর তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যয় কর এবং তোমরা কোন উত্তম ব্যয় করলে তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। আর তোমাদের প্রতি যুলম করা হবে না।আল-বায়ান

তাদেরকে ঠিক পথে নিয়ে আসা তোমার দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে ঠিক পথে পরিচালিত করেন, বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই এবং তোমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করে থাক এবং যা কিছু তোমরা মাল হতে ব্যয় করবে, তোমাদেরকে তার ফল পুরোপুরি দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।তাইসিরুল

তাদের হেদায়ত করার দায়িত্ব তোমার উপরে নয়, কিন্তু আল্লাহ্ হেদায়ত করেন যাদের তিনি ইচ্ছা করেন। আর ভালো জিনিসের যা-কিছু তোমরা খরচ কর তা তোমাদের নিজেদের জন্য, আর তোমরা আল্লাহ্‌র সন্তষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছাড়া খরচ করো না। আর ভালো যা-কিছু তোমরা খরচ কর তা তোমাদের পুরোপুরি প্রদান করা হবে, আর তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩১৩

প্রথমদিকে মুসলমানরা নিজেদের অমুসলিম আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ অমুসলিম দরিদ্র ও অভাবীদের সাহায্য করার ব্যাপারে ইতস্ততঃ করতো। তারা মনে করছিল কেবলমাত্র মুসলিম অভাবী ও দরিদ্রদের সাহায্য করলেই তা আল্লাহর পথে সাহায্য হিসেবে গণ্য হবে। এই আয়াতে তাদের এই ভুল ধারণার অপনোদন করা হয়েছে। এখানে আল্লাহর বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, এসব লোকের মনে হিদায়াতের মর্মবাণী সুদৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল করে দেয়া তোমরা দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমার দায়িত্ব হচ্ছে কেবল এদের কাছে হক কথা পৌঁছিয়ে দেয়া। হক কথা পৌঁছিয়ে দিয়েই তুমি দায়িত্বমুক্ত হয়ে গেছো। এখন তাদের অন্তর্দৃষ্টি দান করা বা না করা আল্লাহর ইখতিয়ারভূক্ত। আর তোমরা নিছক তাদের হিদায়াত গ্রহণ না করার কারণে পার্থিব অর্থ-সম্পদ দিয়ে তাদের অভাব মোচনের ব্যাপারে ইতস্তত করো না কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে কোন অভাবী লোকের সাহায্য করো না কেন, আল্লাহ‌ তার প্রতিদান অবশ্যি তোমাদের দেবেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কোনও কোনও আনসারী সাহাবীর কিছু গরীব আত্মীয়-স্বজন ছিল, কিন্তু তারা কাফির ছিল বলে তারা তাদের সাহায্য করতেন না। তারা অপেক্ষায় ছিলেন, কবে তারা ইসলাম গ্রহণ করবে আর তখন তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। কোনও কোনও বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই তাদেরকে এরূপ পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয় (রুহুল মাআনী)। এভাবে মুসলিমদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ইসলাম গ্রহণের দায়-দায়িত্ব তোমাদের উপর বর্তায় না। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যদি ওই সকল গরীব কাফিরের পেছনেও অর্থ ব্যয় কর, তবুও তোমরা তার পুরোপুরি সওয়াব পাবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭২ তাদের হিদায়াত দানের দায়িত্ব আপনার নয়; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হিদায়াত দেন। আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর তা তোমাদের নিজেদের জন্য আর তোমরা তো শুধু আল্লাহ্‌কে(১) চেয়েই (তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই) ব্যয় করে থাক। আর তোমরা উত্তম কোন কিছু ব্যয় করে থাকলে তার পুরস্কার তোমাদেরকে পুরোপুরিভাবেই দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।

(১) এ আয়াতে ব্যবহৃত (وَجْهُ اللَّه) অর্থ আল্লাহর চেহারা। কিন্তু এখানে এ শব্দ দ্বারা তার পূর্ণ সত্তাকেই বোঝানো হয়েছে। এটা আল্লাহ্ তা'আলার একটি যাতী গুণ। সুতরাং এ শব্দ দ্বারা আল্লাহর মুখমণ্ডল ও সত্তা দু’টোই সাব্যস্ত হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৭২) তাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার দায়-দায়িত্ব তোমার নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, তা নিজেদের উপকারের জন্যই। আল্লাহর মুখমন্ডল (দর্শন বা সন্তুষ্টি) ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তোমরা দান করো না। আর তোমরা যা দান কর, তার পুরস্কার পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে(1) এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।

(1) তফসীরের বর্ণনায় এই আয়াতের শা’নে নুযূল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, মুসলিমরা তাদের মুশরিক আত্মীয়-স্বজনদেরকে সাহায্য করা বৈধ মনে করত না এবং তারা চাইত যে, এরা (মুশরিকরা) মুসলিম হয়ে যাক। তাই মহান আল্লাহ বললেন, হিদায়াতের পথে নিয়ে আসা তো কেবলমাত্র আল্লাহর এখতিয়ারাধীন। আর দ্বিতীয় কথা বলা হল যে, তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যা কিছু ব্যয় করবে, তার পুরাপুরি প্রতিদান তোমরা পাবে। এ থেকে জানা গেল যে, দান করে অমুসলিম আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাতেও নেকী পাওয়া যায়। তবে যাকাত কেবলমাত্র মুসলিমদের অধিকার, তা কোন অমুসলিমকে দেওয়া যেতে পারে না।