ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুরকা‘উওয়াছজুদূওয়া‘বুদূরব্বাকুম ওয়াফ‘আলুলখাইর লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।উচ্চারণ
হে ঈমানদারগণ! রুকূ’ ও সিজদা করো, নিজের রবের বন্দেগী করো এবং নেক কাজ করো, হয়তো তোমাদের ভাগ্যে সফলতা আসবে। ১২৭ তাফহীমুল কুরআন
হে মুমিনগণ! রুকু কর, সিজদা কর, তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর এবং সৎকর্ম কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার।*মুফতী তাকী উসমানী
হে মু’মিনগণ! তোমরা রুকু কর, সাজদাহ কর এবং তোমাদের রবের ইবাদাত কর ও সৎ কাজ কর যাতে সফলকাম হতে পার। [সাজদাহ] ۩মুজিবুর রহমান
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
হে মু’মিনগণ ! তোমরা রুক‚‘ কর, সিজ্দা কর এবং তোমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদত কর ও সৎকর্ম কর, যাতে সফলকাম হতে পার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মুমিনগণ, তোমরা রুকূ‘ কর, সিজদা কর, তোমাদের রবের ইবাদাত কর এবং ভাল কাজ কর, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে। [সাজদাহ] ۩আল-বায়ান
হে মু’মিনগণ! তোমরা রুকূ‘ কর, সেজদা কর আর তোমাদের প্রতিপালকের ‘ইবাদাত কর ও সৎকাজ কর যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার। [সাজদাহ] ۩তাইসিরুল
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা রুকু করো ও সিজদা করো, আর তোমাদের প্রভুর এবাদত করো এবং ভালকাজ করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।মাওলানা জহুরুল হক
১২৭
অর্থাৎ এ নীতি অবলম্বন করলে সফলতার আশা করা যেতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি এ নীতি অবলম্বন করবে তার নিজের কার্যক্রমের ব্যাপারে এমন অহংকার থাকা উচিত নয় যে, সে যখন এত বেশী ইবাদাতগুজার ও নেককার তখন সে নিশ্চয়ই সফলকাম হবে। বরং তার আল্লাহর অনুগ্রহ প্রার্থী হওয়া এবং তাঁরই রহমতের সাথে সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা বিজড়িত করা উচিত। তিনি সফলতা দান করলেই কোন ব্যক্তি সফলতা পেতে পারে। নিজে নিজেই সফলতা লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই।
“হয়তো তোমাদের ভাগ্যে সফলতা আসবে” ---এ বাক্যটি বলার অর্থ এ নয় যে, এ ধরনের সফলতা লাভ করার বিষয়টি সন্দেহপূর্ণ। বরং এটি একটি রাজকীয় বর্ণনা পদ্ধতি। বাদশাহ যদি তাঁর কোন কর্মচারীকে বলেন, অমুক কাজটি করো, হয়তো তুমি অমুক পদটি পেয়ে যাবে, তখন কর্মচারীর গৃহে খুশীর বাদ্য বাজতে থাকে। কারণ এর মধ্যে রয়েছে আসলে একটি প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত। কোন সদাশয় প্রভুর কাছ থেকে কখনো এটি আশা করা যেতে পারে না যে, কোন কাজের পুরস্কার স্বরূপ কাউকে তিনি নিজেই কিছু দান করার আশা দেবেন এবং তারপর নিজের বিশ্বস্ত সেবককে হতাশ করবেন।
ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমদ, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ্--- এর মতে সূরা হজ্জের এ আয়াতটিও সিজদার আয়াত। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, হাসান বসরী, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, সাঈদ ইবনে জুবাইর, ইবরাহীম নাখঈ ও সুফিয়ান সওরী এ জায়গায় তেলাওয়াতের সিজদার প্রবক্তা নন। উভয় পক্ষের যুক্তি প্রমাণ আমি এখানে সংক্ষেপে উদ্ধৃত করছি।
প্রথম দলটির প্রথম যুক্তিটির ভিত্তি হচ্ছে আয়াতের বাহ্যিক অর্থ। যাতে সিজদার হুকুম দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় যুক্তি হচ্ছে উকবাহ ইবনে আমেরের (রা.) রেওয়ায়াত। আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মারদুইয়া ও বাইহাকী এটি উদ্ধৃত করেছেন। বলা হয়েছেঃ
قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفُضِّلَتْ سُورَةُ الْحَجِّ عَلَى سَائِرِ الْقُرْآنِ بِسَجْدَتَيْنِ قَالَ نَعَمْ فَمَنْ لَمْ يَسْجُدْهُمَا فَلاَ يَقْرَأْهُمَا
“আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সূরা হজ্জ কি সমগ্র কুরআনের ওপর এ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে যে, তার মধ্যে দু’টি সিজদা আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; কাজেই যে সেখানে সিজদা করবে না সে যেন তা না পড়ে।”
তৃতীয় যুক্তি হচ্ছে, আবু দাউদ ও ইবনে মাজার হাদীস, যাতে আমর ইবনুল আস (রা.) বলছেন, নবী ﷺ তাঁকে সূরা হজ্জের দু’টি সিজদা শিখিয়েছিলেন। চতুর্থ যুক্তি হচ্ছে, হযরত উমর (রা.), উসমান (রা.), আলী (রা.), ইবনে উমর (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), আবুদ দারদা (রা.), আবু মূসা আশআরী (রা.) ও আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) থেকে একথা উদ্ধৃত হয়েছে যে, সূরা হজ্জে দু’টি সিজদা আছে।
দ্বিতীয় দলের যুক্তি হচ্ছে, আয়াতে নিছক সিজদার হুকুম নেই বরং একসাথে রুকূ’ ও সিজদা করার হুকুম আছে আর কুরআনে যখনই রুকূ’ ও সিজদা মিলিয়ে বলা হয়, তখনই এর অর্থ হয় নামায। তাছাড়া রুকূ’ ও সিজদার সম্মিলিত রূপ একমাত্র নামাযের মধ্যেই পাওয়া যায়। উকবা ইবনে আমেরের (রা.) রেওয়ায়াত সম্পর্কে তারা বলেন, এর সনদ দুর্বল। একে ইবনে লাহীআহ বর্ণনা করেছেন আবুল মাস’আব বাসরী থেকে এবং এরা দু’জনই যঈফ তথা অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। বিশেষ করে আবু মাস’আব তো এমন এক ব্যক্তি যিনি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের সাথে ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে কা’বা ঘরের ওপর পাথর বর্ষণ করেছিলেন। আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণিত রেওয়ায়াতটিকেও তাঁরা নির্ভরযোগ্য নয় বলে গণ্য করেছেন। কারণ এটি সাঈদুল আতীক রেওয়ায়াত করেছেন আবুদল্লাহ ইবনে মুনাইন আল কিলাবী থেকে। এরা দু’জনই অপরিচিত। কেউ জানে না এরা কারা এবং কোন পর্যায়ের লোক ছিল। সাহাবীদের উক্তি সম্পর্কে তারা বলেন, ইবনে আব্বাস সূরা হজ্জে দু’টি সিজদা হবার এই পরিষ্কার অর্থ বলেছেন যে, الاولى عزمة والاخرة تعليم অর্থাৎ প্রথম সিজদা অপরিহার্য এবং দ্বিতীয়টি শিক্ষামূলক।
৭৭. হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ’ কর, সিজদা কর এবং তোমাদের রব-এর ইবাদাত কর ও সৎকাজ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।(১) (সাজদাহ) ۩
(১) অর্থাৎ সফল হতে হলে এ কাজগুলো করতে হবে। সালাত কায়েম করতে হবে, রুকু ও সিজদার মাধ্যমে, এ দু'টি সালাতেরই গুরুত্বপূর্ণ রুকন। আর এ ইবাদতই হচ্ছে চক্ষু শীতলকারী, চিন্তান্বিত অন্তরের জন্য সান্ত্বনা। আর আল্লাহর রুকুবিয়াতে বিশ্বাসের এটাই দাবী যে, বান্দা একমাত্র তারই ইবাদাত করবে এবং যাবতীয় কল্যাণের কাজ করবে। (সা’দী)
(৭৭) হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা রুকূ কর, সিজদা কর(1) এবং তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর ও সৎকর্ম কর; যাতে তোমরা সফলকাম(2) হতে পার। (3) ( (সাজদাহ) ۩ ইমাম শাফেয়ীর মতে)
(1) অর্থাৎ, নামাযের প্রতি যত্নবান হও যা শরীয়তে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইবাদতের আদেশও করা হয়েছে, যার মধ্যে নামাযও শামিল। কিন্তু নামাযের বিশেষ গুরুতত্ত্ব ও মর্যাদার দিক দিয়ে লক্ষ্য রেখে তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ হয়েছে।
(2) অর্থাৎ, সফলতা আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর আনুগত্যে; অর্থাৎ সৎকর্ম সম্পাদনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে শুধু দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও বিলাস-সামগ্রীর আধিক্যে সফলতা নেই; যেমন অধিকাংশ মানুষের ধারণা।
(3) এই আয়াত শেষে তিলাঅতের সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দ্রষ্টব্য।