ওয়ালা- ইয়াঝা-লুল্লাযীনা কাফারূফী মিরইয়াতিম মিনহু হাত্তা- তা’তিয়াহুমুছছা-‘আতু বাগতাতান আও ইয়া’তিয়াহুম ‘আযা-বুইয়াওমিন ‘আকীম।উচ্চারণ
অস্বীকারকারীরা তো তার পক্ষ থেকে সন্দেহের মধ্যেই পড়ে থাকবে যতক্ষণ না তাদের ওপর কিয়ামত এসে পড়বে অকস্মাত অথবা নাযিল হয়ে যাবে একটি ভাগ্যাহত ১০২ দিনের শাস্তি। তাফহীমুল কুরআন
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা এ সম্পর্কে (অর্থাৎ কুরআন সম্পর্কে) অব্যাহতভাবে সন্দেহে পতিত থাকবে, যাবৎ না তাদের উপর অকস্মাৎ কিয়ামত উপস্থিত হয় অথবা তাদের উপর এমন এক দিবসের শাস্তি এসে পড়ে যা (তাদের জন্য) কোনও রকমের #%৩২%# কল্যাণপ্রসূ নয়।মুফতী তাকী উসমানী
যারা কুফরী করেছে তারা ওতে সন্দেহ পোষণ করা হতে বিরত হবেনা, যতক্ষণ না তাদের নিকট কিয়ামাত এসে পড়বে আকস্মিকভাবে, অথবা এসে পড়বে ঐ দিনের শাস্তি যা থেকে রক্ষার উপায় নেই।মুজিবুর রহমান
কাফেররা সর্বদাই সন্দেহ পোষন করবে যে পর্যন্ত না তাদের কাছে আকস্মিকভাবে কেয়ামত এসে পড়ে অথবা এসে পড়ে তাদের কাছে এমন দিবসের শাস্তি যা থেকে রক্ষার উপায় নেই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা কুফরী করেছে তারা এতে সন্দেহ পোষণ হতে বিরত হবে না, যতক্ষণ না এদের নিকট কিয়ামত এসে পড়বে আকস্মিকভাবে, বা এসে পড়বে এক বন্ধ্যা দিনের শাস্তি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা কুফরী করে, তারা এতে সন্দেহ পোষণ করতে থাকবে যতক্ষণ না তাদের নিকট আকস্মিকভাবে কিয়ামত এসে পড়বে অথবা তাদের নিকট এসে পড়বে এক বন্ধ্যা দিনের আযাব।আল-বায়ান
অবিশ্বাসীরা তাতে (অর্থাৎ ওয়াহীতে) সন্দেহ পোষণ করা থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না কিয়ামাত আসবে হঠাৎ ক’রে অথবা তাদের উপর শাস্তি এসে যাবে এক বন্ধ্যা দিনে (যা কাফিরদেরকে কোন সুফল দিবে না)।তাইসিরুল
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা এ সন্বন্ধে সন্দেহ করা থেকে বিরত হবে না যতক্ষণ না ঘড়িঘন্টা অতর্কিতে তাদের উপরে এসে পড়ে, অথবা তাদের উপরে এসে পড়ে এক ধ্বংসাত্মক দিনে শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক
১০২
মূলে আছে عَقِيمٍ শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে “বন্ধ্যা” দিনকে বন্ধ্যা বলার দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, এমন ভাগ্য বিড়ম্বিত দিন যার মধ্যে কোন রকম কলাকৌশল কার্যকর হয় না। প্রত্যেকটা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় প্রত্যেকটা আশা নিরাশায় পরিণত হয়। দুই, এমন দিন যার পরে রাত দেখা আর ভাগ্যে জোটে না। উভয় অবস্থায়ই এর অর্থ হচ্ছে, এমন দিন যেদিন কোন জাতির ধ্বংসের ফায়সালা হয়ে যায়। যেমন, যেদিন নূহের জাতির ওপর তুফান এলো সেদিনটি তাদের জন্য ছিল ‘বন্ধ্যা’ দিন। এমনিভাবে আদ, সামূদ, লূতের জাতি, মাদয়ানবাসী ও অন্যান্য সকল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির জন্য আল্লাহর আযাব নাযিলের দিনটি বন্ধ্যা দিনই প্রামাণিত হয়েছে। কারণ “সেদিনের” পরে আর তার “পরের দিন” দেখা যায়নি এবং নিজেদের বিপর্যস্ত ভাগ্যকে সৌভাগ্যে রূপান্তরিত করার কোন পথই খুঁজে পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
কিয়ামত দিবসকে عقيم (বন্ধ্যা) বলা হয়েছে এ কারণে যে, কাফেরদের জন্য সেদিন হবে সম্পূর্ণ নিষ্ফল। তা থেকে তারা ভালো কিছু লাভ করবে না। অর্থাৎ তাদের কল্যাণ সাধনের পক্ষে তা যেন বন্ধ্যা। অথবা বন্ধ্যা বলার কারণ, এর পর আর কোনও দিন নেই। প্রতিটি দিন যেন পরের দিনকে জন্ম দেয়। কিয়ামতই যেহেতু দুনিয়ার সর্বশেষ দিন, তাই তা আর কোন দিনকে জন্ম দেবে না। সে হিসেবে তা বন্ধ্যাতুল্য। -অনুবাদক
৫৫. আর যারা কুফৱী করেছে, তারা তাতে সন্দেহ পোষণ থেকে বিরত হবে না, যতক্ষণ না তাদের কাছে কেয়ামত এসে পড়বে হঠাৎ করে, অথবা এসে পড়বে এক বন্ধ্যা দিনের শাস্তি।(১)
(১) মূলে আছে عقيم শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে “বন্ধ্যা”। (ফাতহুল কাদীর) দিনকে বন্ধ্যা বলার দুটি অর্থ হতে পারে। যদি দুনিয়ার দিন উদ্দেশ্য হয়, তখন অর্থ হবে, আযাব ও শাস্তি নাযিলের দিন। যা এমন ভাগ্য বিড়ম্বিত দিন তাতে কোনরকম কলাকৌশল কার্যকর হয় না। কোন কল্যাণ ও দয়া অবশিষ্ট থাকে না। প্রত্যেকটা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় প্রত্যেকটা আশা নিরাশায় পরিণত হয়। যেমন, বদরের দিন। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) এ দিনটি প্রতি উম্মতের জন্যই এসেছিল। যেদিন নূহের জাতির উপর তুফান এলো সেদিনটি তাদের জন্য ছিল ‘বন্ধ্যা’ দিন। এমনিভাবে আদ, সামুদ, লুতের জাতি, মাদইয়ানবাসী ও অন্যান্য সকল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির জন্য আল্লাহর আযাব নাযিলের দিনটি বন্ধ্যা দিনই প্রমাণিত হয়েছে।
কারণ, “সেদিনের” পরে আর তার “পরের দিন” দেখা যায়নি এবং নিজেদের বিপর্যস্ত ভাগ্যকে সৌভাগ্যে রূপান্তরিত করার কোন পথই খুঁজে পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। রহমত ও দয়ার দেখা তারা আর পায় নি। সুতরাং দুনিয়াতে এ আযাব ও যুদ্ধের দিনগুলো হচ্ছে বন্ধ্যা দিন। অথবা এখানে বন্ধ্যা দিন বলে কিয়ামতের দিনকে বুঝানো হয়েছে। কারণ সেটা এমন দিন যার পরে আর কোন রাত নেই। (কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সা’দী) সেদিন যখন আসবে তখন কাফেররা জানতে পারবে যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল। আর তারা অনুশোচনা করবে, কিন্তু তাদের সে অনুশোচনা কোন কাজে আসবে না। তারা যাবতীয় কল্যাণ হতেই নিরাশ ও হতাশ হয়ে যাবে। তখন আশা করবে, যদি তারা রসুলের উপর ঈমান আনত এবং তার পথে চলত। সুতরাং এ আয়াতে তাদের মিথ্যা পথ ও বানোয়াট রাস্তায় স্থির থাকার ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। (সা’দী)
(৫৫) যারা অবিশ্বাস করেছে তারা ওতে সন্দেহ পোষণ করা হতে বিরত হবে না; যতক্ষণ না তাদের নিকট কিয়ামত এসে পড়বে আকস্মিকভাবে অথবা এসে পড়বে এক বন্ধ্যা (অশুভ) দিনের শাস্তি। (1)
(1) يَومٌ عَقِيم এর মূল অর্থ বন্ধ্যা দিন। আর তা হল কিয়ামতের দিন। এ দিনকে বন্ধ্যা এই কারণে বলা হয়েছে যে, তারপর আর কোন দিন হবে না। যেমন যার সন্তান হয় না তাকে বন্ধ্যা বলা হয়। অথবা এই কারণে যে, সেদিন কাফেরদের জন্য কোন দয়া থাকবে না, অর্থাৎ সেদিন তাদের জন্য কল্যাণশূন্য হবে। যেমন আযাব স্বরূপ আসা ঝড়কে رِيحٌ عَقِيم বলা হয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, {إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ} অর্থাৎ, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বায়ু। (সূরা যারিয়াতঃ ৪১) অর্থাৎ এমন বায়ু; যার মধ্যে কোন কল্যাণ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না।