ওয়া ইয়াছতা‘জিলূনাকা বিল‘আযা-বি ওয়ালাইঁ ইউখলিফাল্লা-হু ওয়া‘দাহূ ওয়া ইন্না ইয়াওমান ‘ইনদা রব্বিকা কাআলফি ছানাতিম মিম্মা-তা‘উদ্দূন।উচ্চারণ
তারা আযাবের জন্য তাড়াহুড়ো করছে ৯২ আল্লাহ কখনো তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন না। কিন্তু তোমার রবের কাছের একটি দিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান হয়। ৯৩ তাফহীমুল কুরআন
তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি এনে দিতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনই নিজ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। নিশ্চিত জেনে রেখ, তোমার প্রতিপালকের কাছে এক দিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান। #%২৯%#মুফতী তাকী উসমানী
তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি কখনও ভংগ করেননা। তোমার রবের একদিন তোমাদের গণনায় সহস্র বছরের সমান।মুজিবুর রহমান
তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ্ তার প্রতিশ্রুতি কখনও ভঙ্গ করেন না। তোমার প্রতিপালকের নিকট একদিন তোমাদের গণনার সহস্র বৎসরের সমান; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা তোমাকে আযাব তরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। আর তোমার রবের নিকট নিশ্চয় এক দিন তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।আল-বায়ান
তারা তোমাকে তাড়াতাড়ি শাস্তি নিয়ে আসতে বলে (কিন্তু শাস্তি তো আসবে আল্লাহর ও‘য়াদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে), কেননা আল্লাহ কক্ষনো তাঁর ওয়া‘দা খেলাফ করেন না, তোমার প্রতিপালকের একদিন হল তোমাদের গণনায় এক হাজার বছরের সমান।তাইসিরুল
আর তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ্ তাঁর ওয়াদার কখনো খেলাফ করবেন না। আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর কাছে এক দিন তোমরা যা গণনা কর তার এক হাজার বছরের সমান।মাওলানা জহুরুল হক
৯২
অর্থাৎ বারবার চ্যালেঞ্জ করছে। তারা বলছে যদি তুমি সাচ্চা নবী হয়ে থাকো, তাহলে আল্লারহ সত্য নবীকে অস্বীকার করার ফলে যে আযাব আসা উচিত এবং যার ব্যাপারে তুমি বারবার হুমকি দিয়েছো তা আসছে না কেন?
৯৩
অর্থাৎ মানুষের ইতিহাসে আল্লাহর ফায়সালা তোমাদের সময় নির্ধারক ও পঞ্জিকার হিসেব অনুযায়ী হয় না। যেমন আজকে একটি ভুল বা সঠিক নীতি অবলম্বন করা হলো এবং কালই তার মন্দ বা ভালো ফলাফল প্রকাশ হয়ে গেলো, এমন নয়। কোন জাতিকে বলা হয়, অমুক কর্মপদ্ধতি অবলম্বনের ফল দাঁড়াবে তোমাদের ধ্বংস। এর জবাবে তারা যদি এ যুক্তি পেশ করে যে, এ কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করার পর আমাদের দশ-বিশ-পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, এখনো তো আমাদের কোন ক্ষতি হয়নি, তাহলে তারা হবে বড়ই নির্বোধ। ঐতিহাসিক ফলাফলের জন্য দিন, মাস ও বছর তো সামান্য ব্যাপার শতাব্দীও কোন বিরাট ব্যাপার নয়।
আল্লাহ তাআলার কাছে এক দিন আমাদের হিসাবের এক হাজার বছরের সমান এ কথার অর্থ কি? এর যথাযথ মর্ম তো আল্লাহ তাআলাই জানেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু একে মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে আয়াতটির অর্থ বোঝার জন্য এতটুকু ব্যাখ্যাই যথেষ্ট যে, কাফেরদেরকে যখন বলা হত কুফরের পরিণামে তাদেরকে দুনিয়া বা আখেরাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে, তখন তারা একথা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত এবং বলত, কই এত দিন পার হয়ে গেল, কোন শাস্তি তো আসল না! যদি সত্যিই শাস্তি আসার হয় তবে এখনই কেন আসছে না? এর উত্তরে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন, তা অবশ্যই পূরণ হবে। বাকি কখন তা পূরণ হবে সেটা নির্ভর করে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর। তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী তা স্থির করবেন। তোমরা যে মনে করছ তা আসতে অনেক বিলম্ব হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তা তোমাদের হিসাবের ব্যাপার। আল্লাহর হিসাব অন্য রকম। তোমাদের হিসাব অনুযায়ী যা এক হাজার বছর আল্লাহর হিসাবের তা একদিন মাত্র। এ আয়াতে আরও ব্যাখ্যা সামনে সূরা মা‘আরিজ (৭০ : ৩)-এ আসবে ইনশাআল্লাহু তাআলা।
৪৭. আর তারা আপনাকে শাস্তি তত্ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি কখনো ভঙ্গ করেন না।(১) আর নিশ্চয় আপনার রব-এর কাছে একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান(২);
(১) আয়াতের পূর্ণ অর্থ কি? এ ব্যাপারে কয়েকটি মত রয়েছে- (এক) এসব মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীরা তাদের মূর্খতা, অবাধ্যতা ও অদূরদর্শিতার কারণে তাড়াতাড়ি আল্লাহর আযাব কামনা করছে। অথচ আল্লাহ কখনো ওয়াদা খেলাফ করেন না। তিনি যে শাস্তির ধমকি দিয়েছেন, তা আসবেই। তারা আপনার কাছে তাড়াতাড়ি সে শাস্তি কামনা করলেও তা তো আর আপনার কাছে নেই, সুতরাং তাদের এই তাড়াহুড়া করা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কিছুই নেই। কেননা, তাদের সামনে রয়েছে কেয়ামত দিবস, যেদিন তিনি পূর্বাপর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে একত্রিক করবেন। তখন তিনি তাদেরকে তাদের প্রতিফল দেবেন। তাদের উপর তো চিরস্থায়ী শাস্তি আপতিত হবে। সুতরাং দুনিয়ার বুকে তাদের উপর শাস্তি আসুক বা নাই আসুক, সেদিন তা তাদের উপর আসবেই। (দেখুন, ইবন কাসীর) (দুই) যদি আয়াতে উল্লেখিত আযাব দ্বারা দুনিয়ার আযাব উদ্দেশ্য হয় তখন আগের অংশের সাথে পরের অংশের মিল হবে এভাবে যে, তোমাদের উপর আযাব দুনিয়াতেই আসবে। আর সেটা এসেছিল বদরের যুদ্ধে। (কুরতুবী)
(২) এ আয়াতে বলা হয়েছে, “আপনার রব-এর কাছে একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান”। আখেরাতের একদিন সার্বক্ষণিকভাবে দুনিয়ার এক হাজার বছরের সমান হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীসে এর পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘নিঃস্ব মুসলিমগণ ধনীদের থেকে অর্ধেক দিন পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে যাবে।” (তিরমিযিঃ ২৩৫৩, ২৩৫৪)। সুতরাং আয়াতের অর্থ হবে, বান্দাদের এক হাজার বছরের সমান হচ্ছে আল্লাহর একদিন। (ইবন কাসীর)
(৪৭) তারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে; অথচ আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি কখনো ভঙ্গ করেন না। তোমার প্রতিপালকের একদিন তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান। (1)
(1) এই কারণে এরা নিজেদের হিসাব অনুসারে জলদি করে। কিন্তু আল্লাহর হিসাবে এক দিন হাজার বছরের সমান। এই হিসাবে আল্লাহ যদি কাউকে একদিন (২৪ ঘণ্টার) অবকাশ দেন তাহলে আযাবের জন্য এক হাজার বছর, অর্ধেক দিনের অবকাশে ৫০০ বছর, ছয় ঘণ্টার অবকাশে ২৫০ বছর প্রয়োজন। এইভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে এক ঘণ্টা অবকাশ পাওয়ার অর্থ কমবেশি ৪০ বছরের অবকাশ পাওয়া যায়। (আইসারুত্ তাফাসীর) আয়াতের অন্য একটি অর্থ হল, আল্লাহর কুদরতে এক দিন ও এক হাজার বছর উভয়ই সমান। সুতরাং তরান্বিত বা বিলম্বিত করাতে কোন পার্থক্য নেই। এরা ত্বরান্বিত করে, আর তিনি বিলম্বিত করেন। তবে এ কথা সুনিশ্চিত যে, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করবেন। আবার কেউ কেউ এর তাৎপর্য পরকাল মনে করে বলেছেন যে, কিয়ামতের ভয়াবহতা এত বেশি হবে যে, তার একদিন কারো নিকট এক হাজার বছর; বরং অনেকের নিকট ৫০ হাজার বছর বলে মনে হবে। আবার কেউ কেউ বলেন যে, পরকালের একদিন বাস্তবেই এক হাজার বছর সমান হবে।