وَإِذۡ بَوَّأۡنَا لِإِبۡرَٰهِيمَ مَكَانَ ٱلۡبَيۡتِ أَن لَّا تُشۡرِكۡ بِي شَيۡـٔٗا وَطَهِّرۡ بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡقَآئِمِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ

ওয়া ইয বাওওয়া’না- লিইবর-হীমা মাক-নাল বাইতি আল্লা-তুশরিক বী শাইআও ওয়াতাহহির বাইতিয়া লিততাইফীনা ওয়াল কাইমীনা ওয়াররুক্কা‘ইছছুজুদ ।উচ্চারণ

স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন আমি ইবরাহীমের জন্য এ ঘরের (কাবাঘর) জায়গা নির্ধারণ করেছিলাম (এ নির্দেশনা সহকারে) যে, আমার সাথে কোন জিনিসকে শরীক করবে না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী ও রুকূ’-সিজদা-কিয়ামকারীদের জন্য পবিত্র রাখো ৪৫ তাফহীমুল কুরআন

এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সেই ঘর (অর্থাৎ কাবাগৃহ)-এর স্থান জানিয়ে দিয়েছিলাম। #%১৬%# (এবং তাকে হুকুম দিয়েছিলাম) আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার ঘরকে সেই সকল লোকের জন্য পবিত্র রেখ, যারা (এখানে) তাওয়াফ করে, ইবাদতের জন্য দাঁড়ায় এবং রুকূ-সিজদা আদায় করে।মুফতী তাকী উসমানী

আর স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই গৃহের স্থান তখন বলেছিলামঃ আমার সাথে কোন শরীক স্থির করনা এবং আমার গৃহকে পবিত্র রেখ তাদের জন্য যারা তাওয়াফ করে এবং যারা দন্ডায়মান থাকে, রুকু করে ও সাজদাহ করে।মুজিবুর রহমান

যখন আমি ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তাওয়াফকারীদের জন্যে, নামাযে দন্ডায়মানদের জন্যে এবং রকু সেজদাকারীদের জন্যে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং স্মরণ কর, যখন আমি ইব্রাহীমের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সেই গৃহের স্থান, তখন বলেছিলাম, ‘আমার সঙ্গে কোন শরীক স্থির কর না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রেখ তাদের জন্যে যারা তাওয়াফ করে এবং যারা সালাতে দাঁড়ায়, রুক‚‘ করে ও সিজ্দা করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সে ঘরের (বায়তুল্লাহ্র) স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং আমার ঘরকে পাক সাফ রাখবে তাওয়াফকারী, রুকূ-সিজদা ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারীর জন্য’।আল-বায়ান

স্মরণ কর যখন আমি ইবরাহীমকে (পবিত্র) গৃহের স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম, (তখন বলেছিলাম) আমার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার গণ্য করবে না, আর আমার গৃহকে পবিত্র রাখবে তাওয়াফকারী, নামাযে কিয়ামকারী, রূকু‘কারী ও সেজদাকারীদের জন্য।তাইসিরুল

আর স্মরণ করো! আমরা ইব্রাহীমের জন্য গৃহের স্থান স্থির করে দিয়েছিলাম এই বলে -- "আমার সঙ্গে কোনো-কিছুকে অংশী করো না, আর আমার গৃহকে পবিত্র করো তওয়াফকারীদের জন্য এবং দন্ডায়মানদের ও রুকু-সিজদা-কারীদের জন্য।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৫

কোন কোন মুফাসসির হযরত ইবরাহীমকে (আ) যে ফরমান দেয়া হয়েছিল “পবিত্র রাখো” পর্যন্তই তা শেষ করে দিয়েছেন এবং “হজ্জের জন্য সাধারণ হুকুম দিয়ে দাও” নির্দেশটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে উচ্চারিত হয়েছে বলে মনে করেছেন। কিন্তু বক্তব্যের ধরণ পরিষ্কার বলে দিচ্ছে, এ সম্বোধনও হযরত ইবরাহীমের প্রতিই করা হয়েছে এবং তাঁকে কাবাঘর নির্মাণের সময় যে হুকুম দেয়া হয়েছিল এটি তারই একটি অংশ। এছাড়াও এখানে বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একথা বলা যে, প্রথম দিন থেকেই এ ঘরটি এক আল্লাহর বন্দেগী করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং আল্লাহর বন্দেগীকারী সকল মানুষের এখানে আসার সাধারণ অনুমতি ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বে সূরা বাকারায় (২ : ১২৭) গত হয়েছে যে, বাইতুল্লাহ শরীফ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আগেই নির্মিত হয়েছিল এবং কালক্রমে বিধ্বস্ত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলার পুনঃর্নিমাণের জন্য তাঁকে তার স্থান জানিয়ে দেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬. আর স্মরণ করুন, যখন আমরা ইবরাহীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম(১) ঘরের স্থান(২), তখন বলেছিলাম, আমার সাথে কোন কিছু শরীক করবেন না(৩) এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, সালাতে দণ্ডায়মান, এবং রুকূ’ ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখুন।(৪)

(১) এ আয়াতে যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদাত করে তাদের ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। যারা আল্লাহর সাথে এমন ঘরে শির্ক করে যার ভিত্তি রচিত হয়েছিল তাওহীদের উপর। আল্লাহ জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সেটার স্থান দেখিয়ে দিলেন, তার কাছে সমৰ্পন করলেন এবং তা তৈরী করার অনুমতি দিলেন। (ইবন কাসীর) অভিধানে بوأ শব্দের অর্থ বর্ণনা করা। (জালালাইন) অপর অর্থ, তৈরী করা, কারণ সেটার স্থান অপরিচিত ছিল। (মুয়াসসার) আয়াতের অর্থ এইঃ একথা উল্লেখযোগ্য ও স্মর্তব্য যে, আমি ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম-কে বায়তুল্লাহর অবস্থানস্থলের ঠিকানা বর্ণনা করে দিয়েছি।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যখন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম-কে ঘর বানানোর নির্দেশ দেয়া হলো, তিনি বিবি হাজেরা ও ইসমাঈলকে নিয়ে তা বানাতে বের হলেন, যখন মক্কার উপত্যকায় আসলেন তখন তিনি তার মাথার উপর ঘরের স্থানটুকুতে মেঘের মত দেখলেন, যাতে মাথার মত ছিল, সে মাথা থেকে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম-কে বলা হলঃ হে ইবরাহীম! আপনি আমার ছায়ায় বা আমার পরিমাণ স্থানে ঘর বানান, এর চেয়ে কমাবেন না, বাড়াবেনও না। তারপর যখন ঘর বানানো শেষ করলেন, তখন তিনি বের হয়ে চলে গেলেন এবং ইসমাঈল ও হাজেরাকে ছেড়ে গেলেন, আর এটাই আল্লাহর বাণীঃ (وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ) আয়াতের মর্মার্থ। (মুস্তাদরাকে হাকিমঃ ২/৫৫১)

(২) (مَكَانَ الْبَيْتِ) শব্দে ইঙ্গিত রয়েছে যে, বায়তুল্লাহ্ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, এর প্রথম নির্মাণ আদম আলাইহিস সালাম-কে পৃথিবীতে আনার পূর্বে অথবা সাথে সাথে হয়েছিল। আদম 'আলাইহিস সালাম ও তৎপরবর্তী নবীগণ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতেন। কিন্তু এ সমস্ত বর্ণনা খুব শক্তিশালী নয়। সহীহ বৰ্ণনানুসারে ইবরাহীম আলাইহিস সালামই প্রথম কা'বা শরীফ নির্মাণ করেছিলেন। তখন আয়াতের অর্থ হবে, আমরা তাকে হবু ঘরের স্থান দেখিয়েছিলাম। এ অর্থ হবে না যে, সেখানে ঘর ছিল আর তা নষ্ট হয়ে যাবার পরে আবার তা ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে নির্মাণের জন্য দেখিয়ে দেয়া হয়েছিল।

ইবনে কাসীর রাহেমাহুল্লাহ বলেন, এ আয়াত থেকেই অনেকে প্রমাণ করেছেন যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালামই প্রথম আল্লাহর ঘর নির্মাণ করেছেন। তার পূর্বে সেটি নির্মিত হয়নি। এর সপক্ষে প্রমাণ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক হাদীস, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন মসজিদটি প্রথম নির্মিত হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদুল হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, বাইতুল মুকাদ্দাস। আমি বললাম, এ দুয়ের মাঝখানে কত সময়? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (বুখারী: ৩৩৬৬; মুসলিম: ৫২০)

(৩) অর্থাৎ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-কে এই ঘরের কাছেই পুনর্বাসিত করার পর কতগুলো আদেশ দেয়া হয়। তন্মধ্যে প্রথম নির্দেশটি ছিল সর্বকালের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। আর তা হলো, “আমার সাথে কাউকে শরীক করবেন না।” ইবন কাসীর বলেন, এর অর্থ, একমাত্র আমার জন্যই এ ঘরটি বানাবেন। অথবা এ ঘরে শুধু আমাকেই ডাকবেন। অথবা এর অর্থ, আমার সাথে কাউকে শরীক করবেন না। (ফাতহুল কাদীর)

(৪) দ্বিতীয় আদেশ এরূপ দেয়া হয় যে, আমার গৃহকে পবিত্র রাখুন। পবিত্র করার অর্থ কুফর ও শির্ক থেকে পবিত্র রাখা। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) অনুরূপভাবে বাহ্যিক ময়লা-আবর্জনা থেকেও পবিত্র রাখা। (ফাতহুল কাদীর) ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম-কে একথা বলার উদ্দেশ্য অন্য লোকদেরকে এ ব্যাপারে সচেষ্ট করা। কারণ, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নিজেই শির্ক ও কুফারী থেকে মুক্ত ছিলেন, তিনি আল্লাহর ঘরকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত করতেন। এতদসত্বেও যখন তাকে একাজ করতে বলা হয়েছে, তখন অন্যদের এ ব্যাপারে কতটুকু যত্নবান হওয়া উচিত, তা সহজেই অনুমেয়। আয়াত থেকে আরও স্পষ্ট হচ্ছে যে, এখানে কাবাঘরের সেবার দাবীদার তৎকালীন কাফের মুশরিকদের সাবধান করা হচ্ছে যে, এ ঘর নির্মাণের জন্য তোমাদের পিতার উপর শর্ত দেয়া হয়েছিল যে, তিনি এটাকে শির্কমুক্ত রাখবেন। তোমরা সে শর্তটি পূর্ণ করতে পারনি। বরং শির্ক দ্বারা কলুষিত করেছ। (ফাতহুল কাদীর)

এ নির্দেশের সাথে কাদের জন্য ঘরটি পবিত্র রাখবেন তাদের কথাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা হচ্ছেন, তাওয়াফকারী ও সালাতে দণ্ডায়মানকারী, রুকুকারী ও সিজদাকারী লোকদের জন্য। বিশেষ করে তাওয়াফ এ ঘর ছাড়া আর কোথাও জায়েয নেই, আর সালাত এ ঘর ব্যতীত অন্য কোন দিকে মুখ করে পড়া (নফল ও যুদ্ধের সময়কার সালাত ব্যতীত) জায়েয নেই। অনুরূপভাবে রুকু ও সিজদা বলার কারণে ইবাদাতের মধ্যে এ দু'টি রুকনের গুরুত্ব প্রকাশ পাচ্ছে। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৬) আর স্মরণ কর, যখন আমি ইব্রাহীমের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম কাবা গৃহের স্থান,(1) (তখন বলেছিলাম,) আমার সাথে কোন শরীক স্থির করো না(2) এবং আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, নামায আদায়কারী, রুকূ ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখো। (3)

(1) অর্থাৎ, কা’বা-গৃহের স্থান চিনিয়ে দিয়েছিলাম ও সেখানে ইবরাহীমের বংশধরের জন্য বসতি স্থাপন করলাম। এখান হতে বুঝা যাচ্ছে যে, নূহ (আঃ)-এর যুগে বন্যার ধ্বংসকারিতার পর কা’বার পুনর্নির্মাণ সর্বপ্রথম ইবরাহীম (আঃ)-এর হাত দ্বারা হয়েছে। যেমন সহীহ হাদীস দ্বারাও এ কথা প্রমাণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম মসজিদ ‘মাসজিদুল হারাম’ এবং ওর চল্লিশ বছর পর ‘মাসজিদুল আক·সা’ নির্মিত হয়েছে। আহমাদ ৫/১৫০, ১৬৬-১৬৭, মুসলিমঃ মাসাজিদ)

(2) কা’বা নির্মাণের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হচ্ছে যে, এখানে শুধু একমাত্র আমার ইবাদত হবে। এ কথা বলার উদ্দেশ্য হল যে, মুশরিকরা এখানে যে সব মূর্তি সাজিয়ে রেখেছে এবং এখানে এসে যে তাদের ইবাদত করছে, তা পরিষ্কার অন্যায়। যেখানে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত হওয়া উচিত ছিল, সেখানে দেব-দেবীর পূজা হচ্ছে! (আর একজনের অধিকার অন্যজনকে দেওয়ার নামই হল, অন্যায়।)

(3) অর্থাৎ, কুফরী, মূর্তিপূজা এবং অন্যান্য অপবিত্র ও নোংরা জিনিস হতে পবিত্র রেখো। এখানে শুধু নামায আদায়কারী ও তাওয়াফকারীদের কথা বলা হয়েছে, কারণ এই দুটি ইবাদত কা’বার জন্য বিশেষ ইবাদত। নামাযের সময় ঐ দিকেই মুখ করে দাঁড়াতে হয় এবং তাওয়াফ একমাত্র ঐ ঘরেরই করা হয়। কিন্তু বিদআতীরা অনেক মাজারের তাওয়াফও আবিষ্কার করে ফেলেছে। আবার কোন কোন নামাযের জন্য তাদের কিবলাও অন্য! আল্লাহ আমাদেরকে পানাহ দিন। আমীন।