আও কাসাইয়িবিম মিনাছছামাই ফীহি জুলুমা-তুওঁ ওয়া র‘দুওঁ ওয়া বারকুইঁ ইয়াজ‘আলূনা আসা-বি‘আহুম ফীআ-যা-নিহিম মিনাসসাওয়া-‘ইকিহাযারল মাওতি ওয়াল্লা-হু মুহীতূম বিলক-ফিরীন।উচ্চারণ
অথবা এদের দৃষ্টান্ত এমন যে, আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। তার সাথে আছে অন্ধকার মেঘমালা, বজ্রের গর্জন ও বিদ্যুৎ চমক। বজ্রপাতের আওয়াজ শুনে নিজেদের প্রাণের ভয়ে এরা কানে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ এ সত্য অস্বীকারকারীদেরকে সবদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। ১৮ তাফহীমুল কুরআন
অথবা (ওই মুনাফিকদের দৃষ্টান্ত এ রকম) #%১৮%# যেমন আকাশ থেকে বর্ষ্যমান বৃষ্টি, যার মধ্যে আছে অন্ধকার, বজ্র ও বিজলী। তারা বজ্রধ্বনির কারণে মৃত্যুভয়ে নিজেদের কানে আঙ্গুল দেয় এবং আল্লাহ তাআলা কাফিরদেরকে ঘেরাও করে রেখেছেন। #%১৯%#মুফতী তাকী উসমানী
অথবা আকাশ হতে বারি বর্ষণের ন্যায় যাতে অন্ধকার, গর্জন ও বিদ্যুৎ রয়েছে, তারা বজ্রধ্বনি বশতঃ মৃত্যুভয়ে তাদের কর্ণসমূহে স্ব স্ব অঙ্গুলী গুজে দেয়, এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদের পরিবেষ্টনকারী।মুজিবুর রহমান
আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কিংবা যেমন আকাশের বর্ষণমুখর ঘন মেঘ-যাতে আছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ-চমক। বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে তারা তাদের কর্ণে অঙ্গুলি প্রবেশ করায়। আল্লাহ্ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিংবা আকাশের বর্ষণমুখর মেঘের ন্যায়, যাতে রয়েছে ঘন অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক। বজ্রের গর্জনে তারা মৃত্যুর ভয়ে তাদের কানে আঙুল দিয়ে রাখে। আর আল্লাহ কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন।আল-বায়ান
অথবা যেমন আকাশের বর্ষণমুখর মেঘ, যাতে আছে গাঢ় অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমক, বজ্রধ্বনিতে মৃত্যু ভয়ে তারা তাদের কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়। আল্লাহ কাফেরদেরকে পরিবেষ্টন করে আছেন।তাইসিরুল
অথবা আকাশ থেকে আসা ঝড় বৃষ্টির মতো -- তার মাঝে আছে গাঢ় অন্ধকার এবং বজ্রপাত ও বিদ্যুতের ঝলকানি। তারা তাদের গোটা আঙ্গুলগুলো চেপে ধরে তাদের কানের ভেতরে বজ্রের শব্দে মরার ভয়ে। কিন্তু আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের ঘিরে ফেলেন।মাওলানা জহুরুল হক
১৮
কানে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে এরা ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যাবে – এ ধারণায় কিছুক্ষণের জন্য ডুবে যেতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এভাবে তারা বাঁচতে পারবে না। কারণ আল্লাহ তাঁর সমগ্র শক্তি দিয়ে তাদেরকে ঘিরে রেখেছেন।
প্রথম দৃষ্টান্তটি ছিল সেই সকল মুনাফিকের, যারা ইসলামের সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ সামনে আসা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বুঝে শুনেই কুফর ও নিফাকের পথ অবলম্বন করেছিল। এবার মুনাফিকদের আরেক শ্রেণীর দৃষ্টান্ত পেশ করা হচ্ছে। এরা ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে দোদুল্যমানতার শিকার ছিল। যখন ইসলামের সত্যতা সম্পর্কিত দলীল-প্রমাণ সামনে আসত তখন তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হত এবং তখন তারা ইসলামের দিকে অগ্রসর হত। কিন্তু যখন ইসলামী আহকামের দায়িত্ব-কর্তব্য ও হালাল-হারামের বিষয়সমূহ সামনে আসত, তখন নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের কারণে তারা থেমে যেত। এখানে ইসলামকে এক বর্ষ্যমান বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর কুফর ও শিরকের অনিষ্ট ও মন্দত্বের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তাকে অন্ধকারের সাথে এবং কুফর ও শিরকের কারণে যে শাস্তির ধমক দেওয়া হয়েছে, তাকে বজ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তাছাড়া কুরআন মাজীদে সত্যের যে দলীল-প্রমাণ এবং সত্যের অনুসারীদের জন্য জান্নাতের নিয়ামতরাজির যে সুসংবাদ শোনানো হয়েছে তাকে বিজলীর আলোর সাথে উপমিত করা হয়েছে। যখন এ আলো তাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, তখন তারা হাঁটা শুরু করে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই যখন কু-প্রবৃত্তির অন্ধকার তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।
১৯. কিংবা আকাশ হতে মুষলধারে বৃষ্টির ন্যায়, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি(১) ও বিদ্যুৎচমক বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে তাদের কানে আঙ্গুল দেয়। আর আল্লাহ কাফেরদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন(২)।
১. হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইয়াহুদীরা জিজ্ঞেস করলো যে رَعْدٌ কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্য হতে এক ফেরেশতা। যাকে মেঘ-মালা সঞ্চালনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার হাতে আগুনের চাবুক। সে এটা দিয়ে মেঘকে যেখানে আল্লাহর নির্দেশ হয় সেখানে ধমকিয়ে ও হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। তারা বলল, তাহলে যে আওয়াজ শুনা যায় সেটা কি? তিনি বললেন, সেটা তার গর্জন। তারা বললঃ আপনি সত্য বলেছেন। (তিরমিযী: ৩১১৭, মুসনাদে আহমদ ১/২৭৪)
ইবনে কাসীর বলেন, আয়াতে ظُلْمَاتٌ বা ‘অন্ধকার’ বলে তাদের সংশয়, অবিশ্বাস, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও নিফাক বোঝানো হয়েছে। আর رَعْدٌ বা বজ্রধ্বনি বলে এমন গর্জন বোঝানো হয়েছে, যা তাদের অন্তরে ভয়ের উদ্রেক করে। মুনাফিকদের জন্য তা অত্যধিক শংকাগ্রস্ত ও কম্পন সৃষ্টিকারী। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “তারা যে কোন আওয়াজকেই তাদের বিরুদ্ধে মনে করে (সূরা আল-মুনাফিকুন: ৪) অন্যত্র বলেন, “ওরা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, ওরা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ওরা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বস্তুত ওরা এমন এক সম্প্রদায় যারা ভয় করে থাকে। ওরা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গিরিগুহা অথবা কোন প্রবেশস্থল পেলে ওদিকেই দ্রুত পালিয়ে যাবে।” (সূরা আত-তাওবাহ ৫৬-৫৭)
২. ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ আল্লাহ কাফেরদের উপর আযাব নাযিল করবেন। সে জন্য তারা তার বেষ্টনী থেকে বের হতে পারবে না। মুজাহিদ বলেন, বেষ্টন করার অর্থ, তিনি তাদেরকে (কিয়ামতের দিন) একত্রিত করবেন। (আত-তাফসীরুস সহীহ) ইবনে কাসীর বলেন, অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা কাফের-মুনাফিকদের সকল দিক থেকেই ঘিরে রেখেছেন। তার অসীম ক্ষমতা ও ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার কোন ক্ষমতাই তাদের নেই। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেছেন, “আপনার কাছে কি পৌছেছে সৈন্যবাহিনীর বৃত্তান্ত--- ফিরআউন ও সামূদের? তবু কাফিররা মিথ্যা আরোপ করায় রত, আর আল্লাহ তাদের অলক্ষ্যে তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন (সূরা আল-বুরুজ ১৭-২০)
১৯। কিংবা যেমন আকাশের মুষলধারা বৃষ্টি, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ-চমক। বজ্রধ্বনিতে তারা মৃত্যুভয়ে তাদের কানে আঙ্গুল দেয়। আল্লাহ অবিশ্বাসীদের পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।