ওয়া হার-মুন ‘আলা-কারইয়াতিন আহলাকনা-হাআন্নাহুম লা-ইয়ারজি‘ঊন।উচ্চারণ
আর যে জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি তার অধিবাসীরা আবার ফিরে আসবে, এটা সম্ভব নয়। ৯২ তাফহীমুল কুরআন
আর আমি যে জনপদ (-এর মানুষ)-কে ধ্বংস করেছি, তার পক্ষে এটা অসম্ভব যে, তারা (অর্থাৎ তার বাসিন্দাগণ) আবার (দুনিয়ায়) ফিরে আসবে। #%৪৯%#মুফতী তাকী উসমানী
যে সব জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত –মুজিবুর রহমান
যেসব জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তার সম্পর্কে নিষিদ্ধ হয়েছে যে, তার অধিবাসীবৃন্দ ফিরে আসবে না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি যে জনপদকে ধ্বংস করেছি তার সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তার অধিবাসীবৃন্দ আর ফিরে আসবে না।আল-বায়ান
আমি যে সব জনবসতি ধ্বংস করেছি তাদের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে তারা আর ফিরে আসবে না।তাইসিরুল
আর এটি নিষিদ্ধ সেই জনপদের জন্য যাকে আমরা ধ্বংস করেছি, -- যে তারা আর ফিরে আসবে না।মাওলানা জহুরুল হক
৯২
এ আয়াতটির তিনটি অর্থ হয়ঃ
একঃ যে জাতি একবার আল্লাহর আযাবের মুখোমুখি হয়েছে সে আর কখনো উঠে দাঁড়াতে পারেনি। তার পুনরুত্থান ও নব জীবন লাভ সম্ভব নয়।
দুইঃ ধ্বংস হয়ে যাবার পর আবার তার এই দুনিয়ায় ফিরে আসা এবং পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ লাভ করা তার পক্ষে অসম্ভব। এরপর তো আল্লাহর আদালতেই তার শুনানি হবে।
তিনঃ যে জাতির অন্যায় আচরণ, ব্যভিচার, বাড়াবাড়ি ও সত্যের পথনির্দেশনা থেকে দিনের পরদিন মুখ ফিরিয়ে নেয়া এত বেশী বেড়ে যায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তাকে আবার ফিরে আসার ও তাওবা করার সুযোগ দেয়া হয় না। গোমরাহী থেকে হেদায়াতের দিকে ফিরে আসা তার পক্ষে আর সম্ভব হতে পারে না।
কাফেরগণ বলত, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া যদি অবধারিত হয়ে থাকে, তবে এ যাবৎকাল যে সকল কাফের মারা গেছে তাদেরকে জীবিত করে এখনই কেন তাদের হিসাব নেওয়া হচ্ছে না? এ আয়াত তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। বলা হয়েছে, হিসাব-নিকাশ এবং পুরস্কার ও শাস্তির জন্য আল্লাহ তাআলা একটি সময় স্থির করে রেখেছেন। তার আগে কারও জীবিত হয়ে ইহলোকে ফিরে আসা সম্ভব নয়।
৯৫. আর যে জনপদকে আমরা ধ্বংস করেছি তার সম্পর্কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে, তার অধিবাসীরা ফিরে আসবে না,(১)
(১) এ আয়াতটির কয়েকটি অর্থ হয়ঃ
এক. যে জাতির অন্যায় আচরণ, ব্যাভিচার, বাড়াবাড়ি ও সত্যের পথ নির্দেশনা থেকে দিনের পর দিন মুখ ফিরিয়ে নেয়া এত বেশী বেড়ে যায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তাকে আবার ফিরে আসার ও তাওবা করার সুযোগ দেয়া হয় না। গোমরাহী থেকে হেদায়াতের দিকে ফিরে আসা তার পক্ষে আর সম্ভব হতে পারে না। (ইবন কাসীর)
দুই. যে জনপদ আমি আযাব দ্বারা ধ্বংস করেছি, তাদের কেউ যদি দুনিয়াতে এসে সৎকর্ম করতে চায়, তবে সেই সুযোগ সে পাবে না। এরপর তো শুধু কেয়ামত দিবসের জীবনই হবে। আল্লাহর আদালতেই তার শুনানি হবে। (ইবন কাসীর; সাদী)
তিন. এখানে ‘হারাম’ শব্দটি শরীআতগত ‘অসম্ভব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তখন আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়, যে জনপদ ও তার অধিবাসীদেরকে আমরা ধ্বংস করে। দিয়েছি, তাদের কোন আমল কবুল করা অসম্ভব। (কুরতুবী)
(৯৫) যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি তাদের পক্ষে জরুরী যে, তার অধিবাসীবৃন্দ ফিরে আসবে না। (1)
(1) এখানে حَرَام এর অর্থ বিপরীতমুখী; অপরিহার্য বা জরুরী। যেমন অনুবাদে প্রকাশিত। অথবা لاَ শব্দটি অতিরিক্ত। অর্থাৎ যে জনদপকে আমি ধ্বংস করেছি, তার পৃথিবীতে ফিরে আসা হারাম (অসম্ভব)। অথবা যে জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি, তার তওবা অসম্ভব।