إِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمۡ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ وَأَنَا۠ رَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُونِ

ইন্না হা-যিহীউম্মাতুকুম উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়া আনা রব্বুকুম ফা‘বুদূ ন।উচ্চারণ

তোমাদের এ উম্মত আসলে একই উম্মত। আর আমি তোমাদের রব। কাজেই তোমরা আমার ইবাদাত করো। তাফহীমুল কুরআন

(হে মানুষ!) নিশ্চয়ই এটাই তোমাদের দীন, যা একই দীন #%৪৮%# (সমস্ত নবী-রাসূল যার দাওয়াত দিত) এবং আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত কর।মুফতী তাকী উসমানী

এই যে তোমাদের জাতি, এটাতো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রাব্ব, অতএব আমার ইবাদাত কর।মুজিবুর রহমান

তারা সকলেই তোমাদের ধর্মের; একই ধর্মে তো বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের পালনকর্তা, অতএব আমার বন্দেগী কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এই যে তোমাদের জাতি-এটা তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব আমার ‘ইবাদত কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি তো একই জাতি। আর আমিই তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত কর।আল-বায়ান

তোমাদের এ সব জাতিগুলো একই জাতি, আর আমি তোমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমারই ‘ইবাদাত কর।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ তোমাদের এই সম্প্রদায় একই সম্প্রদায়, আর আমিই তোমাদের প্রভু, সুতরাং আমাকেই তোমরা উপাসনা করো।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ সমস্ত দীনের মূল কথা একই এক আল্লাহর ‘ইবাদত-আনুগত্য করা। সমস্ত নবীর মূল শিক্ষা ছিল এটাই। তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল কেবল ইবাদত-আনুগত্যের রীতি-নীতি তথা দীনের শাখাগত বিষয়ে যাকে শরীআত বলে। শাখাগত সে পার্থক্য হয়েছে স্থান-কাল ভেদে এবং তাও আল্লাহপ্রদত্ত। আখেরী যমানায় সমগ্র বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্য মুহাম্মাদী শরীআত দেওয়া হয়েছে। এখন এরই অনুসরণ অপরিহার্য। কিন্তু শরীআতেরও মূলকথা এক আল্লাহ তাআলার ‘ইবাদত-আনুগত্য, তথা তাওহীদ, যা অন্যান্য ধর্মেরও মূলকথা ছিল। কিন্তু ইয়াহুদী-নাসারা প্রভৃতি সম্প্রদায় তাতে নিজেদের পক্ষ থেকে শিরকের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। ফলে এসব ধর্মের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। যা পরের আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৯২. নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি—এ তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ‘ইবাদাত কর।(১)

(১) এখানে “তোমরা” শব্দের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে সমস্ত মানুষকে। এর অর্থ হচ্ছে, হে মানবজাতি! তোমরা সবাই আসলে একই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। (ইবন কাসীর) দুনিয়ায় যত নবী এসেছেন তারা সবাই একই দ্বীন নিয়ে এসেছেন। আর তাদের সেই আসল দ্বীন এই ছিলঃ কেবলমাত্র এক ও একক আল্লাহই মানুষের রব এবং এক আল্লাহরই বন্দেগী করা উচিত। পরবর্তীকালে যতগুলো ধর্ম তৈরী হয়েছে সবগুলোই এ দ্বীনেরই বিকৃত রূপ। অন্যত্র রাসূলদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে, “আর আপনাদের এ যে জাতি এ তো একই জাতি এবং আমিই আপনাদের রব; অতএব আমার তাকওয়া অবলম্বন করুন।” (সূরা আল-মুমিনুনঃ ৫২) সুতরাং যে রাসূলদের কথা বলা হলো, তারা তোমাদের নেতা, তোমাদেরকে তাদেরই অনুসরণ করতে হবে, তাদের হেদায়াতই তোমাদের জন্য পাথেয়। তারা সবাই একই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের পথ একটিই, তাদের রবও একজনই। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯২) নিঃসন্দেহে তোমাদের এ জাতি, (আসলে) একই জাতি।(1) আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক। অতএব তোমরা আমার উপাসনা কর।

(1) এখানে ‘উম্মাহ’ (উম্মত বা জাতি) বলতে দ্বীন ও ধর্মকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের সকলের ধর্ম একই। আর তা হল তাওহীদ (একতত্ত্ববাদ, অদ্বিতীয়বাদ বা একেশ্বরবাদের) ধর্ম; যার প্রতি সকল আম্বিয়া মানুষকে আহবান করেছেন এবং মিল্লাত হল মিল্লাতে ইসলাম যা ছিল সকল আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম)-দের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ)। যেমন নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আমরা নবীর দল আপোসে বৈমাত্রেয় ভাই (সকলের পিতা এক, মা পৃথক পৃথক); আমাদের দ্বীন একই। (ইবনে কাসীর)