ওয়া ক-লা লাহুম নাবিইয়ুহুম ইন্নাল্লা-হা কাদ বা ‘আছা লাকুম তা-লূতা মালিকান কালূআন্না-ইয়াকূনু লাহুল মুলকু‘আলাইনা-ওয়া নাহনুআহাক্কুবিলমুলকি মিনহু ওয়ালাম ইউ’তা ছা‘আতাম মিনাল মা-লি ক-লা ইন্নাল্লা-হাসতাফা-হু ‘আলাইকুম ওয়াঝা-দাহু বাছতাতান ফিল‘ইলমি ওয়াল জিছমি ওয়াল্লা-হু ইউ’তী মুলকাহু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ওয়া-ছি‘উন ‘আলীম।উচ্চারণ
তাদের নবী তাদেরকে বললোঃ আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুতকে ২৬৯ বাদশাহ বানিয়ে দিয়েছেন। একথা শুনে তারা বললোঃ “সে কেমন করে আমাদের ওপর বাদশাহ হবার অধিকার লাভ করলো? তার তুলনায় বাদশাহী লাভের অধিকার আমাদের অনেক বেশী। সে তো কোন বড় সম্পদশালী লোকও নয়।” নবী জবাব দিলঃ “আল্লাহ্ তোমাদের মোকাবিলায় তাকেই নবী মনোনীত করেছেন এবং তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক উভয় ধরনের যোগ্যতা ব্যাপকহারে দান করেছেন। আর আল্লাহ তাঁর রাজ্য যাকে ইচ্ছা দান করার ইখতিয়ার রাখেন। আল্লাহ অত্যন্ত ব্যাপকতার অধিকারী এবং সবকিছুই তাঁর জ্ঞান-সীমার মধ্যে রয়েছে।” তাফহীমুল কুরআন
তাদের নবী তাদেরকে বলল, আল্লাহ তোমাদের জন্য তালূতকে বাদশাহ করে পাঠিয়েছেন। তারা বলতে লাগল, তার কি করে আমাদের উপর বাদশাহী লাভ হতে পারে, যখন তার বিপরীতে আমরাই বাদশাহীর বেশি হকদার? তাছাড়া তার তো আর্থিক স্বচ্ছলতাও লাভ হয়নি। নবী বলল, আল্লাহ তাকে তোমাদের উপর মনোনীত করেছেন এবং জ্ঞান ও শরীরের দিক থেকে তাকে (তোমাদের অপেক্ষা) সমৃদ্ধি দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর রাজত্ব যাকে ইচ্ছা দান করে থাকেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।মুফতী তাকী উসমানী
এবং তাদের নাবী তাদেরকে বলেছিলঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য রাজা রূপে নির্বাচিত করেছেন; তারা বললঃ আমাদের উপর তালূতের রাজত্ব কি রূপে (সঙ্গত) হতে পারে? রাজত্বে তার অপেক্ষা আমাদেরই স্বত্ব অধিক, পক্ষান্তরে যথেষ্ট আর্থিক স্বচ্ছলতাও তার নেই; তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাকেই মনোনীত করেছেন এবং তাকে প্রচুর জ্ঞান ও দৈহিক শক্তি দান করেছেন, আল্লাহ তাঁর রাজত্ব যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন এবং আল্লাহ হচ্ছেন দানশীল, সর্বজ্ঞাতা।মুজিবুর রহমান
আর তাদেরকে তাদের নবী বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ সাব্যস্ত করেছেন। তারা বলতে লাগল তা কেমন করে হয় যে, তার শাসন চলবে আমাদের উপর। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। আর সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। নবী বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তাকে পছন্দ করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও জ্ঞানের দিক দিয়ে প্রাচুর্য দান করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তাকেই রাজ্য দান করেন, যাকে ইচ্ছা। আর আল্লাহ হলেন অনুগ্রহ দানকারী এবং সব বিষয়ে অবগত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর তাদের নবী তাদের বলেছিল, আল্লাহ্ অবশ্যই তালূতকে তোমাদের রাজা করেছেন। তারা বলল, ‘আমাদের ওপর তার রাজত্ব কিরূপে হবে, যখন আমরা তা অপেক্ষা রাজত্বের অধিক হক্দার আর তাকে প্রচুর ঐশ্বর্য দেওয়া হয় নাই!’ নবী বলল, ‘আল্লাহ্ অবশ্যই তাকে তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাকে জ্ঞানে ও দেহে সমৃদ্ধ করেছেন।’ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা স্বীয় রাজত্ব দান করেন। আল্লাহ্ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাদেরকে তাদের নবী বলল, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য তালূতকে রাজারূপে পাঠিয়েছেন। তারা বলল, ‘আমাদের উপর কীভাবে তার রাজত্ব হবে, অথচ আমরা তার চেয়ে রাজত্বের অধিক হকদার? আর তাকে সম্পদের প্রাচুর্যও দেয়া হয়নি’। সে বলল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাকে তোমাদের উপর মনোনীত করেছেন এবং তাকে জ্ঞানে ও দেহে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ যাকে চান, তাকে তাঁর রাজত্ব দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ’।আল-বায়ান
তাদেরকে তাদের নাবী বলল, আল্লাহ যথার্থই তালুতকে তোমাদের বাদশাহ ঠিক করেছেন। তারা বলল, ‘আমাদের উপর কী প্রকারে তার রাজক্ষমতা মিলতে পারে যখন তার চেয়ে আমরাই রাজশক্তির অধিক যোগ্যপাত্র আর তাকে আর্থিক স্বচ্ছলতাও প্রদান করা হয়নি’! নাবী বলল, আল্লাহ তাকেই তোমাদের উপর পছন্দ করেছেন এবং তাকে জ্ঞানে ও দেহে সমৃদ্ধ করেছেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে নিজের রাজ্য দান করেন, বস্তুতঃ আল্লাহ পর্যাপ্ত দাতা ও প্রজ্ঞাময়।তাইসিরুল
আর তাদের নবী তাদের বলেছিলেন -- "নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এখন তোমাদের জন্য তালুতকে রাজা করেছেন।" তারা বললে -- "সে কেমন ক’রে আমাদের উপরে রাজত্ব পেতে পারে যখন রাজত্বে তার চাইতে আমাদেরই বেশী দাবী, আর তাকে ধনদৌলতের প্রাচুর্যও প্রদান করা হয় নি? তিনি বললেন -- "নিশ্চয় আল্লাহ্ তাকে মনোনীত করেছেন তোমাদের উপরে, আর তিনি তাকে অগাধভাবে প্রাচুর্যও দিয়েছেন জ্ঞানে ও দেহে। আর আল্লাহ্ তাঁর রাজত্ব দেন যাকে ইচ্ছে করেন, কারণ আল্লাহ্ সর্বব্যাপ্ত, সর্বজ্ঞাতা।"মাওলানা জহুরুল হক
২৬৯
বাইবেলে তাকে ‘শৌল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ছিলেন বনী ইয়ামীন গোত্রের একজন ত্রিশ বছরের যুবক। বনী ইসরাঈলদের মধ্যে তার চেয়ে সুন্দর ও সুশ্রী পুরুষ দ্বিতীয় জন ছিল না। তিনি এমনি সুঠাম ও দীর্ঘ দেহের অধিকারী ছিলেন যে, লোকদের মাথা বড়জোর তার কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছতো। নিজের বাপের হারানো গাধা খুঁজতে বের হয়েছিলেন। পথে সামুয়েল নবীর অবস্থান স্থলের কাছে পৌঁছলে আল্লাহ তাঁর নবীকে ইংগীত করে জানালেন, এই ব্যক্তিকে আমি বনী ইসরাঈলদের বাদশাহ হিসেব মনোনীত করেছি। কাজেই সামুয়েল নবী তাকে নিজের গৃহে ডেকে আনলেন। তেলের কুপি নিয়ে তার মাথায় ঢেলে দিলেন এবং তাকে চুমো খেয়ে বললেনঃ “খোদা তোমাকে ‘মসহ’ করেছেন, যাতে তুমি তার উত্তরাধিকারের অগ্রনায়ক হতে পারো।” অতঃপর তিনি বনী ইসরাঈলদের সাধারণ সভা ডেকে তার বাদশাহ হবার কথা ঘোষণা করে দিলেন।” (১-সামুয়েল ৯ ও ১০ অধ্যায়)।
বনী ইসরাঈলদের মধ্যে আল্লাহর নির্দেশক্রমে ‘মসহ’ করে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করার ব্যাপারে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এর আগে হযরত হারুনকে পুরোহিত শ্রেষ্ট (Chief Priest) হিসেবে ‘মসহ’ করা হয়েছিল। এরপর মসহকৃত তৃতীয় ব্যক্তি হলেন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম এবং চতুর্থ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম। কিন্তু তালুতকে নবুওয়াতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়েছিল বলে কুরআনে বা হাদীসে কোন সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই। নিছক বাদশাহী করার জন্য মনোনীত করা একথা মেনে নেয়ার জন্য যথেষ্ট নয় যে, তিনি নবীও ছিলেন।
২৪৭. আর তাদের নবী তাদেরকে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ অবশ্যই তালুতকে তোমাদের রাজা করে পাঠিয়েছেন। তারা বলল, আমাদের উপর তার রাজত্ব কিভাবে বেশী হকদার এবং তাকে প্রচুর ঐশ্বর্যও দেয়া হয়নি!' তিনি বললেন, আল্লাহ অবশ্যই তাকে তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাকে জ্ঞানে ও দেহে সমৃদ্ধ করেছেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় রাজত্ব দান করেন। আর আল্লাহ সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
(২৪৭) তাদের নবী তাদেরকে বলেছিল, আল্লাহ তালূতকে তোমাদের রাজা নিযুক্ত করেছেন। তারা বলল, সে কিরূপে আমাদের উপর রাজা হতে পারে, অথচ রাজা হওয়ার (জন্য) আমরা তার চেয়ে অধিক হকদার; তাছাড়া তাকে আর্থিক সচ্ছলতাও দেওয়া হয়নি। নবী বলল, আল্লাহই তাকে মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাকে (সকল প্রকার) জ্ঞানে এবং দেহে (পটুতায়) সমৃদ্ধ করেছেন।(1) বস্তুতঃ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রাজত্ব দান করেন। আর আল্লাহ বিশাল অনুগ্রহশীল, প্রজ্ঞাময়।
(1) ত্বালূত সেই বংশের ছিলেন না, যে বংশ থেকে ধারাবাহিকতার সাথে বানী-ইস্রাঈলদের মধ্যে রাজাদের আগমন ঘটেছে। তিনি দরিদ্র ও সাধারণ একজন সৈনিক ছিলেন। তাই তারা অভিযোগ করল। নবী বললেন, এটা তো আমার নির্বাচন নয়, বরং মহান আল্লাহ তাঁকে নির্বাচন করেছেন। তাছাড়া নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব করার জন্য সম্পদের চেয়ে জ্ঞান-বুদ্ধি ও দৈহিক শক্তির প্রয়োজন বেশী এবং এতে (জ্ঞান-বুদ্ধি ও দৈহিক শক্তিতে) তিনি তোমাদের সবার ঊর্ধ্বে। আর এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁকে এই পদের জন্য মনোনীত করে নিয়েছেন। তিনি বড়ই অনুগ্রহশীল। তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহদানে ধন্য করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে অবগত। অর্থাৎ, তিনি জানেন যে, রাজত্ব পাওয়ার কে যোগ্য এবং কে অযোগ্য। (মনে হয় যখন তাদেরকে বলা হল যে, এই মনোনয়ন মহান আল্লাহ কর্তৃক, তখন তারা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো কোন নিদর্শন কামনা করে, তাই পরের আয়াতে আরো একটি নিদর্শনের বর্ণনা এসেছে।)