مَّن ذَا ٱلَّذِي يُقۡرِضُ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضۡعَافٗا كَثِيرَةٗۚ وَٱللَّهُ يَقۡبِضُ وَيَبۡصُۜطُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ

মান যাল্লাযী ইউকরিদুল্লা-হা কারদান হাছানান ফাইউদা-‘ইফাহূলাহুআদ‘আ ফান কাছীরতাওঁ ওয়াল্লা-হু ইয়াকবিদুওয়া ইয়াবছুতুওয়াইলাইহি তুরজা‘ঊন।উচ্চারণ

তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহকে ‘করযে হাসানা’ দিতে প্রস্তুত, ২৬৭ যাতে আল্লাহ‌ তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তাকে ফেরত দেবেন?কমাবার ক্ষমতা আল্লাহর আছে, বাড়াবারও এবং তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরে যেতে হবে। তাফহীমুল কুরআন

কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার কল্যাণে তা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন? #%১৮৩%# আল্লাহই সংকট সৃষ্টি করেন এবং তিনিই স্বচ্ছলতা দান করেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।মুফতী তাকী উসমানী

কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণদান করে? অনন্তর তিনি তাকে দ্বিগুণ, বহুগুণ বর্ধিত করেন এবং আল্লাহই (মানুষের আর্থিক অবস্থাকে) কৃচ্ছ বা স্বচ্ছল করে থাকেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।মুজিবুর রহমান

এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কে সে, যে আল্লাহ্কে করযে হাসানা প্রদান করবে ? তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন। আর আল্লাহ্ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁর পানেই তোমরা ফিরে যাবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।আল-বায়ান

এমন ব্যক্তি কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করবে? তাহলে তার সেই কর্জকে তার জন্য আল্লাহ বহু গুণ বর্ধিত করে দেবেন এবং আল্লাহই সীমিত ও প্রসারিত ক’রে থাকেন এবং তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।তাইসিরুল

কে আছে যে আল্লাহ্‌কে কর্জ দেবে সর্বাঙ্গসুন্দর ঋণ? তিনি তখন তা বাড়িয়ে দেবেন তার জন্য বহুগুণিত করে। আর আল্লাহ্ গ্রহণ করেন ও তিনি সম্প্রসারণ করেন আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৬৭

‘করযে হাসানা’ এর শাব্দিক অনুবাদ হচ্ছে “ভালো ঋণ”। এর অর্থ হচ্ছেঃ এমন ঋণ যা কেবলমাত্র সৎকর্ম অনুষ্ঠানের প্রেরণায় চালিত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাউকে দেয়া হয়। অনুরূপভাবে আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করলে আল্লাহ‌ তাকে নিজের জন্য ঋণ বলে গণ্য করেন। এক্ষেত্রে তিনি কেবল আসলটি নয় বরং তার ওপর কয়েকগুণ বেশী দেয়ার ওয়াদা করেন। তবে এজন্য শর্ত আরোপ করে বলেন যে, সেটি ‘করযে হাসানা’ অর্থাৎ এমন ঋণ হতে হবে যা দেয়ার পেছনে কোন হীন স্বার্থ বুদ্ধি থাকবে না বরং নিছক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ঋণ দিতে হবে এবং তা এমন কাজে ব্যয় করতে হবে যা আল্লাহ‌ পছন্দ করেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলাকে ঋণ দেওয়ার অর্থ তাঁর পথে খরচ করা। গরীবদেরকে সাহায্য করা যেমন এর অন্তর্ভুক্ত, তেমনি জিহাদের ক্ষেত্রসমূহে ব্যয় করাও। একে ঋণ বলা হয়েছে রূপকার্থে। কেননা এর বিনিময় দেওয়া হবে সওয়াবরূপে। ‘উত্তম পন্থা’-এর অর্থ ইখলাসের সাথে আল্লাহ তাআলাকে খুশী করার মানসে দান করা। মানুষকে দেখানো কিংবা পার্থিব প্রতিদান লাভ উদ্দেশ্য হবে না। যদি জিহাদের জন্য বা গরীবদের সাহায্য করার জন্য ঋণও দেওয়া হয়, তবে তাতে কোনরূপ সুদের দাবী না থাকা। কাফিরগণ তাদের সামরিক প্রয়োজনে সুদে ঋণ নিত। মুসলিমদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রথমত তারা যেন ঋণ না দিয়ে বরং চাঁদা দেয়। অগত্যা যদি ঋণ দেয়, তবে মূল অর্থের বেশি দাবী না করে। কেননা যদিও দুনিয়ায় তারা সুদ পাবে না, কিন্তু আল্লাহ তাআলা আখিরাতে তার যে সওয়াব দেবেন তা আসলের চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে। এরূপ ব্যয় করলে অর্থ-সম্পদ কমে যাওয়ার যে খতরা থাকে, সে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, সংকট ও সচ্ছলতা আল্লাহরই হাতে। আল্লাহর দীনের জন্য যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ ব্যয় করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে সংকটের সম্মুখীন করবেন না যদি সে তা আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ব্যয় করে থাকে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪৫. কে সে, যে আল্লাহকে করযে হাসানা প্রদান করবে? তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন(১)। আর আল্লাহ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

(১) কর্জ বা ঋণ দান করলে তার বৃদ্ধি করার কথা এক হাদীসে এসেছে যে, যে ব্যক্তি তার উত্তম সম্পদ থেকে খেজুর সমপরিমাণ সদকা করবে, আল্লাহ উত্তম সম্পদ ছাড়া কবুল করেন না, আল্লাহ সে সম্পদ ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর সদকাকারীর জন্য তা রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকেন, যেমনি তোমাদের কেউ তার ঘোড়া শাবককে লালন-পালন করে পাহাড়সম বড় হওয়া পর্যন্ত। (বুখারীঃ ১৪১০) আল্লাহকে ঋণ দেয়ার এ অর্থও বলা হয়েছে যে, তার বান্দাদেরকে ঋণ দেয়া এবং তাদের অভাব পূরণ করা। তাই হাদীসে অভাবীদেরকে ঋণ দেয়ারও অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ কোন একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দু’বার ঋণ দিলে এ ঋণদান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য'। (ইবনে মাজাহঃ ২৪৩০) রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যে তার (ঋণের) হককে উত্তমরূপে পরিশোধ করে। তবে, যদি অতিরিক্ত দেয়ার শর্ত করা হয়, তাহলে তা সুদ এবং হারাম বলে গণ্য হবে। (বুখারীঃ ২৬০৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪৫) কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে?(1) আল্লাহ তা তার জন্য বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন। আল্লাহই জীবিকা সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন। আর তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যানীত হবে।

(1) قَرْضٌ حَسَنٌ (উত্তম ঋণ) প্রদান করার অর্থ আল্লাহর পথে এবং জিহাদে মাল ব্যয় করা। অর্থাৎ, জানের মত মালের কুরবানী দিতেও দ্বিধা করো না। রুযীর প্রসারণ ও সংকোচনের এখতিয়ার কেবল আল্লাহরই হাতে। তিনি উভয়েরই মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন; কখনো রুযী হ্রাস করে এবং কখনো তার প্রসার ঘটিয়ে। অতএব আল্লাহর পথে ব্যয় করলে কমে না, বরং মহান আল্লাহ এতে অনেক অনেক বৃদ্ধি দান করেন। কখনো বাহ্যিকভাবে, আবার কখনো অভ্যন্তরীণভাবে মালে বরকত দিয়ে। আর আখেরাতে যে বৃদ্ধি হবে তা অবশ্য অবশ্যই বিস্ময়কর হবে।