ওয়া ইযা-রআ-কাল্লাযীনা কাফারূইয়ঁইয়াত্তাখিযূনাকা ইল্লা-হুঝুওয়ান আহাযাল্লাযী ইয়াযকুরু আ-লিহাতাকুম ওয়া হুম বিযিকরির রহমা-নি হুম ক-ফিরূন।উচ্চারণ
এ সত্য অস্বীকারকারীরা যখন তোমাকে দেখে, তোমাকে বিদ্রূপের পাত্রে পরিণত করে। বলে, “এ কি সেই ব্যক্তি যে তোমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করে?” ৩৯ অথচ তাদের নিজেদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা করুণাময়ের যিকরের অস্বীকারকারী। ৪০ তাফহীমুল কুরআন
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তাদের কাজ হয় কেবল তোমাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা। (তারা বলে,) এই লোকই কি সেই, যে তোমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করে (অর্থাৎ বলে, এদের কোন ভিত্তি নেই)। অথচ তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) অবস্থা হল, তারা ‘রহমান’-এর উল্লেখ করার বিরোধী। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী
কাফিরেরা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে শুধু বিদ্রুপের পাত্র রূপেই গ্রহণ করে। তারা বলেঃ এই কি সে যে তোমাদের দেবতাগুলির সমালোচনা করে? অথচ তারাইতো ‘রাহমান’ এর উল্লেখের বিরোধিতা করে।মুজিবুর রহমান
কাফেররা যখন আপনাকে দেখে তখন আপনার সাথে ঠাট্টা করা ছাড়া তাদের আর কোন কাজ থাকে না, একি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করে? এবং তারাই তো রহমান’ এর আলোচনায় অস্বীকার করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কাফিররা যখন তোমাকে দেখে তখন এরা তোমাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে। এরা বলে, ‘এই কি সেই, যে তোমাদের দেব-দেবীগুলির সমালোচনা করে ?’ অথচ এরাই তো ‘রহমান’-এর উল্লেখের বিরোধিতা করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা কুফরী করে তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে, ‘এ কি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই ‘রহমান’-এর আলোচনার বিরোধিতা করে।আল-বায়ান
কাফিররা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে একমাত্র উপহাসের পাত্র হিসেবেই গণ্য করে। (আর তারা বলে) ‘এই কি সেই লোক যে তোমাদের দেবতাগুলোর ব্যাপারে কথা বলে? অথচ এই লোকগুলোই ‘রহমান’ (শব্দটির) উল্লেখকে অগ্রাহ্য করে।তাইসিরুল
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা যখন তোমাকে দেখে তখন তারা তোমাকে বিদ্রপের পাত্র ছাড়া অন্যভাবে গ্রহণ করে না। "একি সে যে তোমাদের দেবদেবী সন্বন্ধে সমালোচনা করে?" বস্তুতঃ তারা নিজেরাই পরম করুণাময়ের নাম-কীর্তনের বেলা অবিশ্বাস ভাজন করে।মাওলানা জহুরুল হক
৩৯
অর্থাৎ তাদের সম্পর্কে বিরূপ কথা বলে। এখানে আরো এতটুকু কথা বুঝে নিতে হবে যে, এ বাক্যটি তাদের বিদ্রূপের বিষয়বস্তু বর্ণনা করছে না বরং বিদ্রূপ করার কারণ ও ভিত্তিভূমির ওপর আলোকপাত করছে। একথা সুস্পষ্ট যে, এ বাক্যটি মূলত কোন বিদ্রূপাত্মক বাক্য নয়। বিদ্রূপ তারা অন্যভাবে করে থাকবে এবং এজন্য কোন অন্য ধরনের ধ্বনি দিয়েও বাক্য উচ্চারণ করে থাকবে। তবে তিনি তাদের মনগড়া উপাস্যদের প্রভুত্ব কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করতেন বলেই তারা এভাবে মনের ঝাল মিটাতো।
৪০
অর্থাৎ মূর্তি ও বানোয়াট ইলাহদের বিরোধিতা তাদের কাছে এত বেশী অপ্রীতিকর যে, এর প্রতিশোধ নেবার জন্য তোমার প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও অবমাননা করে, কিন্তু তারা যে আল্লাহ বিমুখ এবং আল্লাহর নামোল্লেখে তারা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়, নিজেদের এ অবস্থার জন্য তাদের লজ্জাও হয় না।
অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেব-দেবীর প্রভুত্ব যে ভিত্তিহীন একথা প্রচার করলে তারা এটাকে তাঁর একটা বড় দোষ গণ্য করছিল এবং বলছিল, তিনি আমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করেন। অথচ তাদের নিজেদের অবস্থা হল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আল্লাহ তাআলার ‘রহমান’ নামটি উল্লেখ করতেন, তখন তারা আপত্তি জানাত এবং বলত, রহমান আবার কী? দেখুন সূরা ফুরকান (২৫ : ৬০)।
৩৬. আর যারা কুফরি করে, যখন তারা আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে শুধু বিদ্রুপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে। তারা বলে, এ কি সে, যে তোমাদের দেব-দেবীগুলোর সমালোচনা করে? অথচ তারাই তো রহমান তথা দয়াময়ের স্মরণে কুফরী করে।(১)
(১) অর্থাৎ মূর্তি ও বানোয়াট ইলাহদের বিরোধিতা তাদের কাছে এত বেশী অগ্ৰীতিকর যে, এর প্রতিশোধ নেবার জন্য আপনার প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও অবমাননা করে, কিন্তু তারা যে আল্লাহ বিমূখ এবং আল্লাহর নামোল্লেখে ক্ৰোধে অগ্নিশৰ্মা হয়, নিজেদের এ অবস্থার জন্য তাদের লজ্জাও হয় না। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “আর তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্ররূপে গণ্য করে বলে, এ-ই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগণ হতে দূরে সরিয়েই দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যের উপর অবিচল থাকতাম। আর যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন জানতে পারবে কে অধিক পথভ্রষ্ট।” (সূরা আল-ফুরকান: ৪১–৪২)
(৩৬) অবিশ্বাসীরা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে শুধু বিদ্রূপের পাত্ররূপেই গ্রহণ করে; তারা বলে, ‘এই কি সেই, যে তোমাদের উপাস্যগুলির সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই পরম করুণাময়ের আলোচনার বিরোধিতা করে থাকে। (1)
(1) এর পরেও তারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে নিয়ে বিদ্রূপ-ঠাট্টা করে? যেমন অন্যত্র বলেছেন, {وَإِذَا رَأَوْكَ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي بَعَثَ اللهُ رَسُولًا} অর্থাৎ, ওরা যখন তোমাকে দেখে তখন ওরা তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্ররূপে গণ্য করে এবং বলে, ‘এই কি সেই; যাকে আল্লাহ রসূল করে পাঠিয়েছেন? (ফুরকানঃ ৪১)