يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ

ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইয়াশফা‘ঊনা ইল্লালিমানিরতাদা-ওয়া হুম মিন খাশইয়াতিহী মুশফিকূন।উচ্চারণ

যা কিছু তাদের সামনে আছে এবং যা কিছু আছে তাদের অগোচরে সবই তিনি জানেন। যাদের পক্ষে সুপারিশ শুনতে আল্লাহ‌ সম্মত তাদের পক্ষে ছাড়া আর কারো সুপারিশ তারা করে না এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত। ২৭ তাফহীমুল কুরআন

তিনি তাদের সম্মুখ ও পিছনের সবকিছু জানেন। তারা কারও জন্য সুপারিশ করতে পারে না, কেবল তাদের ছাড়া, যাদের জন্য আল্লাহর পছন্দ হয়। তারা তাঁর ভয়ে থাকে ভীত।মুফতী তাকী উসমানী

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত।মুজিবুর রহমান

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে, তা তিনি জানেন। তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের সামনে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তারা সুপারিশ করে শুধু এদের জন্যে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। আর তারা শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। তারা তাঁর ভয়ে ভীত।*আল-বায়ান

তাদের সামনে আর পেছনে যা আছে তা তিনি জানেন। তিনি যাদের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট তাদের ব্যাপারে ছাড়া তারা কোন সুপারিশ করে না। তারা তাঁর ভয় ও সম্মানে ভীত-সন্ত্রস্ত।তাইসিরুল

তিনি জানেন যা কিছু আছে তাঁদের সম্মুখে আর যা আছে তাঁদের পশ্চাতে, আর তাঁরা সুপারিশ করেন না তার জন্য ছাড়া যার প্রতি তিনি সন্তষ্ট হয়েছেন, আর তাঁর ভয়ে তাঁরা ভীত-সন্ত্রস্ত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৭

মুশরিকরা দু’টি কারণে ফেরেশতাদেরকে মাবুদে পরিণত করতো। এক, তাদের মতে তারা ছিল আল্লাহর সন্তান। দুই তাদেরকে পূজা (খোশামোদ তোশামোদ) করার মাধ্যমে তারা তাদেরকে আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য শাফায়াতকারীতে (সুপারিশকারী) পরিণত করতে চাচ্ছিল। যেমন-

وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ (يونس: )

(সূরা ইউনূস আয়াত ১৮) এবং مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى (الزمر:) এবং (সূরা যুমার আয়াত ৩)

এ আয়াতগুলোতে এ দু’টি কারণই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এ জায়গায় এ বিষয়টিও প্রণিধানযোগ্য যে, কুরআন সাধারণত শাফায়াতের মুশরিকী আকীদা বিশ্বাস খণ্ডন করতে গিয়ে এ সত্যটির ওপর জোর দিয়ে থাকে যে, যাদেরকে তোমরা শাফায়াতকারী গণ্য করছো তারা অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী নয় এবং তাদের গোচরে ও অগোচরে যেসব কথা আছে আল্লাহ সেগুলো জানেন। এ থেকে একথা হৃদয়ঙ্গম করানোই উদ্দেশ্য যে, তারা যখন প্রত্যেক মানুষের সামনের-পেছনেরও গোপন-প্রকাশ্য অবস্থা জানে না তখন তারা শাফায়াত করার একচ্ছত্র ও শর্তহীন অধিকার কেমন করে লাভ করতে পারে? কাজেই ফেরেশতা, নবী সৎলোক প্রত্যেকের শাফায়াত করার এখতিয়ার অবশ্য আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষ। আল্লাহ তাঁদের কাউকে কোন ব্যক্তির পক্ষে শাফায়াত করার অনুমতি দিলে তবেই তিনি তার পক্ষে শাফায়াত করতে পারবেন। নিজেই অগ্রণী হয়ে তারা যে কোন ব্যক্তির শাফায়াত করতে পারেন না। আর যখন শাফায়াত শোনা বা না শোনা এবং তা কবুল করা বা না করা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল তখন এ ধরনের ক্ষমতাহীন শাফায়াতকারীর সামনে মাথা নোয়ানো এবং প্রার্থনার হাত পাতা কিভাবে সমীচীন ও উপযোগী হতে পারে? (আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হাঃ ৮৫-৮৬ টীকা)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮. তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা সবই তিনি জানেন। আর তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্যই যাদের প্ৰতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত।(১)

(১) মুশরিকরা দু'টি কারণে ফেরেশতাদেরকে মাবুদে পরিণত করতো। এক. তাদের মতে তারা ছিল আল্লাহর সন্তান। দুই. তাদেরকে পূজা (খোশামোদ তোশামোদ) করার মাধ্যমে তারা তাদেরকে আল্লাহর কাছে নিজেদের জন্য শাফা'আতকারীতে (সুপারিশকারী) পরিণত করতে চাচ্ছিল। এ আয়াতগুলোতে এ দু'টি কারণই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৮) তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তারা সুপারিশ করে কেবল তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট(1) এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত।

(1) এখান হতে জানা গেল যে, নেক লোক ও নবীগণ ছাড়া ফিরিশতাগণও সুপারিশ করবেন। সহীহ হাদীসেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। কিন্তু ঐ সুপারিশ ঐ সকল লোকেদের জন্য হবে যাদেরকে আল্লাহ পছন্দ করবেন। আর এ কথা পরিষ্কার যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর অবাধ্য বান্দাদের জন্য নয়; বরং গোনাহগার বাধ্য বান্দাদের জন্য, অর্থাৎ ঈমানদার ও তাওহীদপন্থীদের জন্যই সুপারিশ পছন্দ করবেন।