أَمِ ٱتَّخَذُوٓاْ ءَالِهَةٗ مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ هُمۡ يُنشِرُونَ

আমিততাখাযূআ-লিহাতাম মিনাল আরদিহুম ইউনশিরূন।উচ্চারণ

এদের তৈরি মাটির দেবতাগুলো কি এমন পর্যায়ের যে, তারা (প্রাণহীনকে প্রাণ দান করে) দাঁড় করিয়ে দিতে পারে? ২১ তাফহীমুল কুরআন

তবে কি তারা যমীন থেকে এমন মাবুদ বানিয়েছে, যারা নতুন জীবন দিতে পারে? #%১০%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা মাটি হতে তৈরী যে সব দেবতা গ্রহণ করেছে সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?মুজিবুর রহমান

তারা কি মৃত্তিকা দ্বারা তৈরী উপাস্য গ্রহণ করেছে, যে তারা তাদেরকে জীবিত করবে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা মৃত্তিকা হতে তৈরি যেসব দেবতা গ্রহণ করেছে সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা যেসব মাটির দেবতা গ্রহণ করেছে, সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?আল-বায়ান

তারা (অর্থাৎ মুশরিকরা) মাটি থেকে (তৈরী) যে সব দেবতা গ্রহণ করেছে তারা কি (মৃতদেরকে) জীবিত করতে সক্ষম?তাইসিরুল

অপরপক্ষে তারা কি মাটি থেকে উপাস্যদের গ্রহণ করেছে যারা প্রাণবন্ত করতে পারে?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২১

মূলে يُنْشِرُونَ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ শব্দটি انشار থেকে উদ্ভূত। ‘ইনশার’ মানে হচ্ছে কোন পড়ে থাকা প্রাণহীন বস্তুকে তুলে দাঁড় করিয়ে দেয়া। যদিও এ শব্দটিকে কুরআন মজীদে সাধারণত মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে তবুও এর পারিভাষিক অর্থ বাদ দিলে মূল আভিধানিক অর্থের দিক দিয়ে এ শব্দটি নিষ্প্রাণ বস্তুর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে দেয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা মনে করি এ শব্দটি এখানে এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে যেসব সত্তাকে তারা ইলাহ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে এবং যাদেরকে নিজেদের মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে নিষ্প্রাণ বস্তুর বুকে প্রাণ সঞ্চার করতে পারে? যদি এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো মধ্যে এ শক্তি না থেকে থাকে আর আরবের মুশরিকরা নিজেরাই একথা স্বীকার করতো যে, এ শক্তি কারো মধ্যে নেই--- তাহলে তারা তাদেরকে ইলাহ ও মাবুদ বলে মনে নিচ্ছে কেন?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অধিকাংশ মুফাসসির ‘নতুন জীবন দান’-এর ব্যাখ্যা করেছেন, মৃত্যুর পর জীবন দান করা। অর্থাৎ মুশরিকগণ যেই দেব-দেবীকে প্রভুত্বের মর্যাদা দান করেছে, তারা কি মৃতদেরকে নতুন জীবন দান করার ক্ষমতা রাখে? যদিও মুশরিকগণ মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে স্বীকার করত না, কিন্তু যখন কোন সত্তাকে প্রভুত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে, তখন যুক্তির দাবি তো এটাই যে, সে সত্তা নতুন জীবন দানেও সক্ষম হবে। তা মুশরিকরা কি দেব-দেবীকে এরূপ ক্ষমতার অধিকারী বলে বিশ্বাস করে? কিন্তু কোন কোন মুফাসসির নতুন জীবন দানের ব্যাখ্যা করেছেন এরূপ যে, মুশরিকদের বিশ্বাস ছিল দেব-দেবী ভূমিকে নতুন জীবন দান করে, ফলে তা সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে তাদের এ বিশ্বাসের ভিত্তি হল ‘ঈশ্বর দু’জন’এই মতবাদের উপর। এক শ্রেণীর কাফের বিশ্বাস করত আকাশের ঈশ্বর একজন এবং পৃথিবীর আরেকজন। আল্লাহ তাআলার প্রভুত্ব আকাশে আর দেব-দেবীর পৃথিবীতে। এই অবাস্তব ধারণা থেকেই তাদের এ বিশ্বাসের উৎপত্তি। সেটাকেই রদ করে বলা হয়েছে, তোমরা যাদেরকে পৃথিবীর প্রভু মনে করছ, তারা কি পৃথিবীকে সঞ্জীবিত করার ক্ষমতা রাখে?

তাফসীরে জাকারিয়া

২১. এরা যমীন থেকে যেগুলোকে মা’বুদ হিসেবে গ্রহণ করেছে সেগুলো কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?(১)

(১) ‘ইনশার’ মানে হচ্ছে, কোন পড়ে থাকা প্রাণহীন বস্তুকে তুলে দাঁড় করিয়ে দেয়া। (কুরতুবী) এতে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়, যেসব সত্তাকে তারা ইলাহ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে এবং যাদেরকে নিজেদের মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে, নিষ্প্রাণ বস্তুর বুকে প্ৰাণ সঞ্চার করতে পারে? যদি এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো মধ্যে এ শক্তি না থেকে থাকে আর আরবের মুশরিকরা নিজেরাই একথা স্বীকার করতো যে, এ শক্তি কারো মধ্যে নেই তাহলে তারা তাদেরকে ইলাহ্ ও মাবুদ বলে মেনে নিচ্ছে কেন? (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১) ওরা মাটি হতে তৈরী যে সব উপাস্য গ্রহণ করেছে সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম? (1)

(1) জিজ্ঞাসা অস্বীকৃতির জন্য। অর্থাৎ, তারা তা করতে পারবে না। তাহলে যারা কোন জিনিসেরই ক্ষমতা রাখে না তাদেরকে কিভাবে তারা আল্লাহর শরীক বানায় ও তাদের ইবাদত করে?