لَوۡ أَرَدۡنَآ أَن نَّتَّخِذَ لَهۡوٗا لَّٱتَّخَذۡنَٰهُ مِن لَّدُنَّآ إِن كُنَّا فَٰعِلِينَ

লাও আরদনাআন নাত্তাখিযা লাহওয়াল্লাত্তাখাযনা -হু মিল্লাদুন্না ইন কুন্না-ফা-‘ইলীন ।উচ্চারণ

যদি আমি কোন খেলনা তৈরি করতে চাইতাম এবং এমনি ধরনের কিছু আমাকে করতে হতো তাহলে নিজেরই কাছ থেকে করে নিতাম। ১৬ তাফহীমুল কুরআন

আমি যদি কোন খেলার ব্যবস্থা করতে চাইতাম, তবে আমি নিজের কাছ থেকেই তার কোন ব্যবস্থা করে নিতাম একান্ত যদি আমার তা করতেই হত। মুফতী তাকী উসমানী

আমি যদি ক্রীড়ার উপকরণ চাইতাম তাহলে আমি আমার নিকট যা আছে তা দিয়েই ওটা করতাম, আমি তা করিনি।মুজিবুর রহমান

আমি যদি ক্রীড়া উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার কাছে যা আছে তা দ্বারাই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি যদি ক্রীড়ার উপকরণ চাইতাম তবে আমি আমার নিকট যা আছে তা নিয়েই তা করতাম ; আমি তা করি নাই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যদি খেলার উপকরণ গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমার কাছে যা আছে তা দিয়েই করতাম। কিন্তু আমি তা করিনি।আল-বায়ান

আমি যদি খেলাধূলার বস্তু বানাতে চাইতাম তাহলে আমার কাছে যা আছে তা নিয়েই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত!তাইসিরুল

আমরা যদি চাইতাম আমোদ-প্রমোদের জন্য গ্রহণ করতে, তবে আমরা অবশ্যই আমাদের নিজেদের থেকেই তাকে গ্রহণ করতাম, আমরা নিশ্চয়ই তা করব না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৬

অর্থাৎ যদি আমি খেলা করতেই চাইতাম তাহলে খেলনা বানিয়ে নিজেই খেলতাম। এ অবস্থায় একটি অনুভূতিশীল, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রাণী সৃষ্টি এবং তার মধ্যে সত্য-মিথ্যার এ দ্বন্দ্ব ও টানাহেঁচড়ার অবতারণা করে নিছক নিজের আনন্দ ও কৌতুক করার জন্য অন্যকে অনর্থক কষ্ট দেবার মতো জুলুম কখনোই করা হতো না। তোমাদের মহান প্রভু আল্লাহ এ দুনিয়াটাকে রোমান সম্রাটদের রংগভূমি (Colosseum) রূপে তৈরী করেননি। এখানে বান্দাদেরকে পরস্পরের মধ্যে লড়াই করিয়ে তাদের শরীরের গোশত ছিড়ে উৎক্ষিপ্ত করিয়ে আনন্দে অট্রহাসি হাসা হয় না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কোন রকমের খেলা করতে চাচ্ছেন- এ রকমের ধারণা তাঁর সম্পর্কে করা বেহুদা অর্বাচীনতা। এই অসম্ভবকে যদি সম্ভব ধরেও নেওয়া হয় এবং বলা হয় একটু আনন্দ-স্ফূর্তি করাই তার উদ্দেশ্য ছিল (নাউযুবিল্লাহ), তবে সেজন্য এই বিস্ময়কর মহাবিশ্ব সৃষ্টির কী প্রয়োজন ছিল? তিনি তো তাঁর নিজের কাছে আগে থেকেই যেসব ফিরিশতা বা অন্যান্য সৃষ্টি আছে তাদের দ্বারাই খেলার কোন ব্যবস্থা করে নিতে পারতেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭. আমরা যদি খেলার উপকরণ গ্রহণ করতে চাইতাম তবে আমরা আমাদের কাছ থেকেই তা গ্ৰহণ করতাম; কিন্তু আমরা তা করিনি।(১)

(১) অর্থাৎ আমি যদি ক্রীড়াচ্ছলে কোন কাজ গ্রহণ করতে চাইতাম এবং একাজ আমাকে করতেই হত, তবে পৃথিবী ও আকাশ সৃষ্টি করার কি প্রয়োজন ছিল? একাজ তো আমার নিকটস্থ বস্তু দ্বারাই হতে পারত। لَهْوٌا শব্দের আসল অর্থ, কর্মহীনতার কর্ম, বা রং-তামাশার জন্য যা করা হয় তা। উদ্দেশ্য এই যে, যেসব বোকা ঊর্ধ্ব জগত ও অধঃজগতের সমস্ত আশ্চর্যজনক সৃষ্টবস্তুকে রং তামাশা ও ক্রীড়া মনে করে, তারা কি এতটুকুও বোঝে না যে, খেলা ও রং তামাশার জন্য এত বিরাট বিরাট কাজ করা হয় না। একাজ যে করে, সে এভাবে করে না। এ আয়াতে ইঙ্গিত আছে যে, রং তামাশা ও ক্রীড়ার যে কোন কাজ কোন ভালো বিবেকবান মানুষের পক্ষেও সম্ভবপর নয় - আল্লাহ্ তা'আলার মাহাত্ম্য তো অনেক ঊর্ধ্বে।

তাছাড়া لَهْوٌا শব্দটি কোন কোন সময় স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এখানে এ অর্থ ধরা হলে আয়াতের উদ্দেশ্য হবে ইয়াহুদী ও নাসারাদের দাবী খণ্ডন করা। তারা উযায়ের ও ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র বলে। আয়াতে বলা হয়েছে যে, যদি আমাকে সন্তানই গ্রহণ করতে হত, তবে মানবকে কেন গ্রহণ করতাম, আমার নিকটস্থ সৃষ্টিকেই গ্রহণ করতাম। (দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) এ আয়াতটির বক্তব্য অন্য আয়াতের মত, যেখানে বলা হয়েছে, “আল্লাহ সন্তান গ্ৰহণ করতে চাইলে তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছে বেছে নিতেন। পবিত্র ও মহান তিনি! তিনি আল্লাহ, এক, প্রবল প্রতাপশালী।” (সূরা আয-যুমার: ৪)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৭) আমি যদি চিত্তবিনোদনের উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার নিকট যা আছে তা নিয়েই করতাম; (1) যদি আমি তা করতামই। (2)

(1) অর্থাৎ, নিজের কাছেই কিছু জিনিস খেলার জন্য সৃষ্টি করে নিতেন এবং নিজের শখ পূরণ করে নিতেন। এ বিশাল বিশ্ব ও তাতে সচেতন জীব ও জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন সৃষ্টির কি প্রয়োজন ছিল?

(2) ‘আমি তা করিনি’ --এই অনুবাদের তুলনায় আরবী বাগধারায় ‘যদি আমি তা করতামই’ বেশী সঠিক। (ফাতহুল কাদীর)