وَقَالُواْ لَوۡلَا يَأۡتِينَا بِـَٔايَةٖ مِّن رَّبِّهِۦٓۚ أَوَلَمۡ تَأۡتِهِم بَيِّنَةُ مَا فِي ٱلصُّحُفِ ٱلۡأُولَىٰ

ওয়া ক-লূলাওলা-ইয়া’তীনা-বিআ-য়াতিম মির রব্বিহী আওয়ালাম তা’তিহিম বাইয়িনাতুমা-ফিসসুহুফিল ঊলা-।উচ্চারণ

তারা বলে, এ ব্যক্তি নিজের রবের পক্ষ থেকে কোন নিশানী (মুজিযা) আনে না কেন? আর এদের কাছে কি আগের সহীফাগুলোর সমস্ত শিক্ষার সুস্পষ্ট বর্ণনা এসে যায়নি? ১১৬ তাফহীমুল কুরআন

তারা বলে, সে (অর্থাৎ নবী!) আমাদের কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তবে কি তাদের কাছে পূর্ববর্তী (আসমানী) সহীফাসমূহে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সাক্ষ্য আসেনি? #%৬৭%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলেঃ সে তার রবের নিকট হতে আমাদের জন্য কোন নিদর্শন কেন আনয়ন করেনা? তাদের নিকট কি আসেনি সুস্পষ্ট প্রমাণ যা আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে?মুজিবুর রহমান

এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন? তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট হতে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন ?’ এদের নিকট কি আসে নাই সুস্পষ্ট প্রমাণ যা আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা বলে, ‘সে তার রবের কাছ থেকে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন’? পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে তা কি তাদের কাছে আসেনি?আল-বায়ান

তারা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট থেকে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তাদের কাছে কি আসেনি স্পষ্ট প্রমাণ যা ছিল পূর্ববর্তী (ওয়াহীকৃত) কিতাবগুলোতে।’তাইসিরুল

আর তারা বলে -- "কেন সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের জন্য একটি নিদর্শন নিয়ে আসে না?" কী! তাদের কাছে কি পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোয় যা আছে সে সন্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে নি?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১৬

অর্থাৎ এটা কি কোন ছোটখাটো মু’জিযা যে, তাদের মধ্য থেকে এক নিরক্ষর ব্যক্তি এমন একটি কিতাব পেশ করেছেন, যাতে শুরু থেকে নিয়ে এ পর্যন্তকার সমস্ত আসমানী কিতাবের বিষয়বস্তু ও শিক্ষাবলীর নির্যাস বের করে রেখে দেয়া হয়েছে? মানুষের পথ নির্দেশনার জন্য ঐ সমস্ত কিতাবের মধ্যে যা কিছু ছিল তা কেবলমাত্র তার মধ্যে একত্রই করা হয়নি বরং তা এমন উন্মুক্ত করে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে যে, একজন মরুচারী বেদুইনও তা অনুধাবন করে লাভবান হতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াতে بَيِّنَةٌ (সাক্ষ্য) দ্বারা কুরআন মাজীদ বোঝানো হয়েছে। ‘সহীফা’ হল পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব। এ আয়াতের ব্যাখ্যা দু’ভাবে করা যায়। (এক) কুরআন এমন এক কিতাব, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া হয়েছিল যে, আখেরী যামানায় এ কিতাব নাযিল করা হবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, সে সব সহীফা কুরআন মাজীদের সত্যতা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছিল। (দুই) কুরআন মাজীদ পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সমর্থন করে আর এভাবে এ কিতাব সেগুলোর আসমানী কিতাব হওয়ার সপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে, অথচ যার মুবারক মুখে এ বাণী উচ্চারিত হচ্ছে, সেই আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন উম্মী। তাঁর কাছে অতীতের কিতাবসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের কোন মাধ্যম নেই। তা সত্ত্বেও যখন তাঁর পবিত্র মুখে সেসব কিতাবের বিসয়বস্তু বিবৃত হচ্ছে, তখন এটা আপনিই প্রমাণ হয়ে যায় যে, এসব বিষয়বস্তু আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতেই এসেছে এবং কুরআন মাজীদ তাঁরই কিতাব। এরপরও তোমরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের পক্ষে আর কী নিদর্শন দাবী করছ?

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩৩. আর তারা বলে, সে তার রব-এর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি যা আগেকার গ্রন্থসমূহে রয়েছে?(১)

(১) অর্থাৎ এটা কি কোন ছোটখাটো মু'জিযা যে, তাদের মধ্য থেকে এক নিরক্ষর ব্যক্তি এমন একটি কিতাব পেশ করেছেন, যাতে শুরু থেকে নিয়ে এ পর্যন্তকার সমস্ত আসমানী কিতাবের বিষয়বস্তু ও শিক্ষাবলীর নির্যাস বের করে রেখে দেয়া হয়েছে তাওরাত, যবুর, ইঞ্জল ও ইবরাহিমী সহীফা ইত্যাদি। আল্লাহর গ্রন্থসমূহ সৰ্বকালেই শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত ও রেসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছে। এগুলোর বহিঃপ্রকাশ অবিশ্বাসীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ নয় কি? (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩৩) ওরা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট হতে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আনে না কেন?’(1) তাদের নিকট কি পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত হয়নি? (2)

(1) অর্থাৎ, তাদের ইচ্ছামত কোন নিদর্শন; যেমন সামূদ জাতির জন্য উটনী আনা হয়েছিল।

(2) ‘পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ’ বলতে তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবূর ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঐগুলোতে কি নবী (সাঃ)-এর গুণাবলীর কথা উল্লেখ নেই, যার দ্বারা তাঁর নবী হওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হয়? অথবা অর্থ এই যে, এদের কি পূর্ববর্তী জাতিদের অবস্থা জানা নেই যে, তারা যখন তাদের ইচ্ছামত মু’জিযা প্রদর্শনের দাবি করল এবং তাদেরকে তা দেখানো হল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনল না বলে তাদেরকে ধ্বংস করা হল?