وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوۡنَ مِنكُمۡ وَيَذَرُونَ أَزۡوَٰجٗا وَصِيَّةٗ لِّأَزۡوَٰجِهِم مَّتَٰعًا إِلَى ٱلۡحَوۡلِ غَيۡرَ إِخۡرَاجٖۚ فَإِنۡ خَرَجۡنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ فِي مَا فَعَلۡنَ فِيٓ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعۡرُوفٖۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٞ

ওয়াল্লাযীনা ইউতাওয়াফফাওনা মিনকুম ওয়া ইয়াযারূনা আঝওয়াজাওঁ ওয়াসিইইয়াতাল লিআঝওয়া-জিহিম মাতা‘আন ইলাল হাওলি গাইর ইখর-জিন ফাইন খারজনা ফালাজুনা-হা ‘আলাইকুম ফী মা-ফা‘আলনা ফীআনফুছিহিন্না মিম্মা‘রূফিওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আঝীঝুন হাকীম।উচ্চারণ

তোমাদের ২৬৪ মধ্য থেকে যারা মারা যায় এবং তাদের পরে তাদের স্ত্রীরা বেঁচে থাকে, তাদের স্ত্রীদের যাতে এক বছর পর্যন্ত ভরণপোষণ করা হয় এবং ঘর থেকে বের করে না দেয়া হয় সেজন্য স্ত্রীদের পক্ষে মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে যাওয়া উচিৎ। তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায় তাহলে তাদের নিজেদের ব্যাপারে প্রচলিত পদ্ধতিতে তারা যাই কিছু করুক না কেন তার কোন দায়-দায়িত্ব তোমাদের ওপর নেই। আল্লাহ‌ সবার ওপর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাশালী এবং তিনি অতি বিজ্ঞ। তাফহীমুল কুরআন

তোমাদের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়ে যায় এবং স্ত্রী রেখে যায়, তারা যেন (মৃত্যুকালে) স্ত্রীদের অনুকূলে ওসিয়ত করে যায় যে, তারা এক বছর পর্যন্ত (পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে খোরপোষ গ্রহণের) সুবিধা ভোগ করবে এবং তাদেরকে (স্বামীগৃহ থেকে) বের করা যাবে না। #%১৮০%# হাঁ, তারা নিজেরাই যদি বের হয়ে যায়, তবে নিজেদের ব্যাপারে তারা বিধিমত যা করবে, তাতে তোমাদের কোনও গুনাহ নেই। আল্লাহ মহাক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী

এবং তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুমুখে পতিত হয় ও স্ত্রীগণকে ছেড়ে যায় তারা যেন স্বীয় স্ত্রীগণকে বহিস্কৃত না করে এক বছর পর্যন্ত তাদেরকে ভরণ-পোষণ প্রদান করার জন্য অসীয়াত করে যায়, কিন্তু যদি তারা (স্বেচ্ছায়) বের হয়ে যায় তাহলে নিজেদের সম্বন্ধে বিহিতভাবে তারা যে ব্যবস্থা করে তজ্জন্য তোমাদের কোন দোষ নেই, এবং আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময়।মুজিবুর রহমান

আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমাদের মধ্যে যাদের মৃত্যু আসন্ন এবং স্ত্রী রেখে যায় তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে গৃহ হতে বের না করে তাদের এক বৎসরের ভরণ-পোষণের ওসিয়াত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্যে তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যাবে, তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ভরণ-পোষণের ওসিয়ত করবে বের না করে দিয়ে; কিন্তু যদি তারা (স্বেচ্ছায়) বের হয়ে যায়, তাহলে তারা নিজদের ব্যাপারে বিধি মোতাবেক যা করেছে, সে ব্যাপারে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান

তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে, তারা বিবিদের জন্য অসিয়ত করবে যেন এক বৎসরকাল সুযোগ-সুবিধা পায় এবং গৃহ হতে বের ক’রে দেয়া না হয়, তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই তারা নিজেদের ব্যাপারে বৈধভাবে কিছু করলে; আল্লাহ মহাশক্তিধর, সুবিজ্ঞ।তাইসিরুল

আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় এবং রেখে যায় স্ত্রীদের, তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ভরণ-পোষণের ওসিয়ৎ হওয়া চাই, তাদের বহিস্কার না ক’রে, কিন্তু তারা যদি চলে যায় তবে তোমাদের উপরে অপরাধ হবে না যা তারা নিজেদের ব্যাপারে সুসঙ্গতভাবে করে। আর আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৬৪

ভাষণের ধারাবাহিকতা ওপরেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। উপসংহার বা পরিশিষ্ট হিসেবে এখানে এ বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

শেষ দিকে তালাক সম্পর্কিত যে মাসাইলের আলোচনা চলছিল, তার একটি পরিশেষ এ স্থলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিষয়টি তালাকপ্রাপ্তা নারীদের অধিকার সম্পর্কিত। জাহিলী যুগে বিধবার ইদ্দত হত এক বছর। ইসলাম সে মেয়াদ কমিয়ে চার মাস দশ দিন করে দিয়েছে (দ্র. আয়াত ২ : ২৩৪)। এ আয়াত যখন নাযিল হয়, তখনও পর্যন্ত মীরাছের আহকাম নাযিল হয়নি। উপরে ১৮০ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, মৃত্যুপথ যাত্রীর কর্তব্য, তার সম্পদ থেকে কোন আত্মীয় কতটুকু পাবে সে সম্পর্কে ওসিয়ত করে যাওয়া। এ আয়াতে সে নীতি অনুসারেই বলা হচ্ছে যে, যদিও বিধবার ইদ্দত চার মাস দশ দিন, কিন্তু তার স্বামীর উচিত স্ত্রী সম্পর্কে এই ওসিয়ত করে যাওয়া যে, তাকে যেন এক বছর পর্যন্ত তার সম্পদ থেকে খোরপোষ দেওয়া হয় এবং তাকে যেন তার ঘরে থাকারও সুযোগ দেওয়া হয়। অবশ্য সে নিজেই যদি তার এ হক ছেড়ে দেয় এবং চার মাস দশ দিন পর স্বামীর ঘর থেকে বের হয়ে যায়, তবে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু চার মাস দশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে তার জন্য স্বামীগৃহ ত্যাগ করা জায়েয নয়। পরবর্তী বাক্যে যে বলা হয়েছে, ‘হাঁ সে নিজেই যদি বের হয়ে যায়, তবে নিজের ব্যাপারে সে বিধিমত যা-কিছুই করবে তাতে তোমাদের কোনও গুনাহ নেই; তাতে বিধিমত বলতে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, সে ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর বের হতে পারবে, তার আগে নয়। তবে এ সমস্ত বিধান মীরাছের আহকাম নাযিল হওয়ার আগে ছিল। যখন সূরা নিসায় মীরাছের বিধান এসে গেছে এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে স্ত্রীর অংশ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তখন এক বছরের খোরপোষ ও স্বামীগৃহে অবস্থানের হক রহিত হয়ে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪০. আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে ঘর থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণ-পোষণের অসিয়াত করে(১) কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।

(১) স্বামীর মৃত্যুর দরুন স্ত্রীর ইদ্দতকাল ছিল এক বছর। কিন্তু পরবর্তীতে এ সূরার ২৩৪ নং আয়াতের মাধ্যমে বছরের স্থলে চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় জানা আবশ্যক যে, এ আয়াতটি এ সূরার ২৩৪ নং আয়াতের পূর্বে নাযিল হয়েছিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪০) তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য এই অসিয়ত করবে যে, তাদেরকে যেন এক বছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেওয়া হয়(1) এবং গৃহ থেকে বের করে দেওয়া না হয়, কিন্তু যদি (স্বেচ্ছায়) তারা বেরিয়ে যায়, তবে নিয়মমত নিজেদের জন্য যা করবে, তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।

(1) এই আয়াত ক্রমানুসারে পরে উল্লিখিত হলেও তা মানসুখ (রহিত)। এর রহিতকারী (২৩৪নং) আয়াত পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে, যাতে স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত চার মাস দশদিন বলা হয়েছে। এ ছাড়াও উত্তরাধিকার সম্পর্কীয় আয়াত স্ত্রীদের অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। কাজেই স্বামীকে স্ত্রীর জন্য কোন প্রকারের অসিয়ত (উইল) করার প্রয়োজন নেই। না বাসস্থানের, আর না খাওয়া-পরার।