يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِۦ عِلۡمٗا

ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিহী ‘ইলমা-।উচ্চারণ

-তিনি লোকদের সামনের পেছনের সব অবস্থা জানেন এবং অন্যেরা এর পুরো জ্ঞান রাখে না। ৮৬ তাফহীমুল কুরআন

তিনি মানুষের অগ্র-পশ্চাৎ সবকিছুই জানেন। কিন্তু তারা তাকে জ্ঞানায়ত্ত করতে পারে না। #%৫৪%#মুফতী তাকী উসমানী

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু রয়েছে তা তিনি অবগত, কিন্তু তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না।মুজিবুর রহমান

তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে পারে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের সামনে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত, কিন্তু এরা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তাদের আগের ও পরের সব কিছুই জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে বেষ্টন করতে পারবে না।আল-বায়ান

তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে তা তিনি জানেন, তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না।তাইসিরুল

তিনি জানেন কি আছে তাদের সামনে আর কি রয়েছে তাদের পেছনে, আর তারা এটি জ্ঞানের দ্বারা ধারণা করতে পারে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৬

সুপারিশের প্রতি এ বিধি-নিষেধ আরোপিত কেন, এর কারণ এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। ফেরেশতা, আম্বিয়া বা আউলিয়া যে-ই হোন না কেন কারো রেকর্ড সম্পর্কে এদের কারো কিছুই জানা নেই এবং জানার কোন ক্ষমতাও এদের নেই। দুনিয়ায় কে কি করতো এবং আল্লাহর আদালতে কে কোন ধরনের ভূমিকা ও কার্যাবলী এবং কেমন দায়িত্বের বোঝা নিয়ে এসেছে তাও কেউ জানে না। অপরদিকে আল্লাহ‌ প্রত্যেকের অতীতের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড জানেন। তার বর্তমান ভূমিকাও তিনি জানেন। সে সৎ হলে কেমন ধরনের সৎ। অপরাধী হলে কোন পর্যায়ের অপরাধী। তার অপরাধ ক্ষমা যোগ্য কি না। সে কি পূর্ণ শাস্তি লাভের অধিকারী অথবা কম শাস্তির। এহেন অবস্থায় কেমন করে ফেরেশতা, নবী ও সৎলোকদেরকে তাদের ইচ্ছা মতো যার পক্ষে যে কোন ধরনের সুপারিশ তারা চায় তা করার জন্য তাদেরকে অবাধ অনুমতি দেয়া যেতে পারে? একজন সাধারণ অফিসার তার নিজের ক্ষুদ্রতম বিভাগে যদি নিজের প্রত্যেকটি বন্ধু ও আত্মীয়ের সুপারিশ শুনতে শুরু করে দেন তাহলে মাত্র চারদিনেই সমগ্র বিভাগটিকে ধ্বংস করে ছাড়বেন। তাহলে আকাশ ও পৃথিবীর শাসনকর্তার কাছ থেকে কেমন করে আশা করা যেতে পারে যে, তার দরবারে ব্যাপকভাবে সুপারিশ চলতে থাকবে এবং প্রত্যেক বুযর্গ সেখানে গিয়ে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করিয়ে আনবেন। অথচ তাদের কেউই যাদের সুপারিশ তারা করছেন তাদের কার্যকলাপ কেমন তা জানেন না। দুনিয়ায় যে কর্মকর্তা দায়িত্বের সামান্যতম অনুভূতিও রাখেন তার কর্মনীতি এ পর্যায়েরই হয়ে থাকে যে, যদি তার কোন বন্ধু তার কোন অধস্তন কর্মচারীর সুপারিশ নিয়ে আসে তাহলে সে তাকে বলে, আপনি জানেন না এ ব্যক্তি কত বড় ফাঁকিবাজ, দায়িত্বহীন, ঘুষখোর ও অত্যাচারী। আমি এর যাবতীয় কীর্তিকলাপের খবর রাখি। কাজেই আপনি মেহেরবানী করে অন্তত আমার কাছে তার সুপারিশ করবেন না। এ ছোট্ট উদাহরণটির ভিত্তিতে অনুমান করা যেতে পারে যে, এ আয়াতে সুপারিশ সম্পর্কে যে নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে তা কতদূর সঠিক, যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়ভিত্তিক। আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করার দরজা বন্ধ হবে না। আল্লাহর সৎ বান্দারা, যারা দুনিয়ায় মানুষের সাথে সহানুভূতিশীল ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিলেন তাদেরকে আখেরাতেও সহানুভূতির অধিকার আদায় করার সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু তারা সুপারিশ করা আগে অনুমতি চেয়ে নেবেন। যার পক্ষে আল্লাহ‌ তাদেরকে বলার অনুমতি দেবেন একমাত্র তার পক্ষেই তারা সুপারিশ করতে পারবেন। আবার সুপারিশ করার জন্যও শর্ত হবে যে, তা সঙ্গত এবং ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে যেমন وَقَالَ صَوَابًا এবং ঠিক কথা বলবে) আল্লাহর এ উক্তিটি পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে যে, সেখানে আজেবাজে সুপারিশ করার কোন সুযোগ থাকবে না। যেমন একজন দুনিয়ায় শত শত হাজার হাজার লোকের অধিকার গ্রাস করে এসেছে কিন্তু কোন এক বুযুর্গ হঠাৎ উঠে তার পক্ষে সুপারিশ করে দিলেন যে, হে আল্লাহ! তাকে পুরস্কৃত করুন কারণ সে আমার বিশেষ অনুগ্রহ ভাজন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মানুষের পক্ষে আল্লাহ তাআলাকে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়। তাঁর সত্তাকে তো নয়ই, তাঁর গুণাবলীও সম্পূর্ণরূপে জানতে পারে না, যেমন তাঁর জ্ঞানের বিষয়টা। তিনি তো নিজ সৃষ্টিজগতের বর্তমান ও ভূত-ভবিষ্যত সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ জানেন, কিন্তু তিনি যা কিছু জানেন, মানুষের পক্ষে তা সব জানা সম্ভব নয়। মানুষ জানে তার কিঞ্চিতমাত্র। ‘অথৈ সাগর থেকে এক বিন্দু জল’ এর সাথেও তাকে তুলনা করা যায় না। তবে বান্দা হিসেবে মাবুদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যতটুকু জ্ঞান দরকার, আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে তা মানুষকে সরবরাহ করেছেন। তাঁর সম্পর্কে অতটুকু জানাই মানুষের জন্য যথেষ্ট। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

১১০. তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে, তা তিনি অবগত, কিন্তু তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১১০) তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। কিন্তু ওরা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না। (1)

(1) পূর্বের আয়াতে সুপারিশ সম্পর্কে যে নিয়ম-নীতির কথা উল্লেখ হয়েছে এখানে তার কারণ বর্ণনা করা হচ্ছে। আর তা হল আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো এ ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান নেই যে, কে কত বড় অপরাধী এবং সে সুপারিশ পাবার অধিকারী কিনা? সেই জন্য একমাত্র আল্লাহই এ ব্যাপারে ফায়সালা করবেন যে, কোন্ কোন্ ব্যক্তি নবী ও সৎলোকদের সুপারিশের অধিকারী? কারণ প্রত্যেক মানুষের অপরাধের প্রকারভেদ ও কেমনত্ব আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না, জানতে পারেও না।