কাযা-লিকা নাকুসসু‘আলাইকা মিন আমবাই মা কাদ ছাবাকা ওয়া কাদ আতাইনা-কা মিল্লাদুন্না-যিকর-।উচ্চারণ
হে মুহাম্মাদ! ৭৫ এভাবে আমি অতীতে যা ঘটে গেছে তার অবস্থা তোমাকে শুনাই এবং আমি বিশেষ করে নিজের কাছ থেকে তোমাকে একটি ‘যিকির’(উপদেশমালা) দান করেছি। ৭৬ তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী!) আমি এভাবে অতীতে যা ঘটেছে তার কিছু সংবাদ তোমাকে অবহিত করি আর আমি তোমাকে আমার নিকট থেকে দান করেছি এক উপদেশবাণী। #%৪৭%#মুফতী তাকী উসমানী
পূর্বে যা ঘটেছে উহার সংবাদ আমি এভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার নিকট হতে তোমাকে দান করেছি উপদেশ।মুজিবুর রহমান
এমনিভাবে আমি পূর্বে যা ঘটেছে, তার সংবাদ আপনার কাছে বর্ণনা করি। আমি আমার কাছ থেকে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
পূর্বে যা ঘটেছে তার সংবাদ আমি এইভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার নিকট হতে তোমাকে দান করেছি উপদেশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উপদেশ দান করেছি।আল-বায়ান
এভাবে পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, আর আমি আমার নিকট থেকে তোমাকে দান করেছি উপদেশ (বা কুরআন)।তাইসিরুল
এইভাবেই আমরা তোমার কাছে বিবৃত করি যা ইতিপূর্বে ঘটছে তার সংবাদ, আর আমরা নিশ্চয় তোমাকে দিয়েছি আমাদের কাছ থেকে এক স্মারক-গ্রন্থ।মাওলানা জহুরুল হক
৭৫
মূসা আলাইহিস সালামের কাহিনী খতম করে আবার ভাষণের মোড় সেদিকে ফিরে যাচ্ছে যা দিয়ে সূরার সূচনা হয়েছিল। সামনে এগিয়ে যাবার আগে আর একবার সূরার সেই প্রারম্ভিক আয়াতগুলো পড়ে নিন----যেগুলোর পর হঠাৎ হযরত মূসার কাহিনী শুরু হয়ে গিয়েছিল। এ থেকে ভালোভাবে বুঝা যাবে, সূরার আসল আলোচ্য বিষয় কি, মাঝখানে মূসার কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে কেন এবং কাহিনী খতম করে কিভাবে ভাষণটি তার মূল বিষয়বস্তুর দিকে ফিরে আসছে।
৭৬
অর্থাৎ এ সূরার প্রথমে যে কুরআনের কথা বলা হয়েছিল সেটা এমন কোন বিষয় ছিল না যার মাধ্যমে তোমাদের কোন অসম্ভব কাজে লিপ্ত করা বা তোমাদের ওপর অনর্থক একটা কষ্টকর কাজ চাপিয়ে দেবার জন্য তা নাযিল করা হয়েছিল। সেটা তো ছিল একটা স্মারক ও উপদেশ (তাযকিরাহ), এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে অন্তরে আল্লাহকে ভয় করে।
হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার পর এ আয়াতে বলা হচ্ছে, একজন উম্মী ও নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও এবং জ্ঞানার্জন ও ইতিহাস সম্পর্কে অবগতি লাভের কোন মাধ্যম হাতে না থাকার পরও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখে এসব ঘটনা বিবৃত হওয়া তাঁর রিসালাতের উজ্জ্বল দলীল। এটা প্রমাণ করে তিনি একজন সত্য রাসূল এবং তিনি যে সব আয়াত পাঠ করেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ।
৯৯. পূর্বে যা ঘটেছে তার কিছু সংবাদ আমরা এভাবে আপনার নিকট বর্ণনা করি। আর আমরা আমাদের নিকট হতে আপনাকে দান করেছি যিকর।(১)
(১) অর্থাৎ যেভাবে আপনার কাছে মূসা আলাইহিস সালামের কাহিনী বর্ণনা করলাম এবং তার সাথে ফিরআউন ও তার দলবলের ঘটনা বিবৃত করলাম। এভাবেই আমরা পূর্ববর্তী কালের সংবাদ আপনার কাছে কোন রূপ বৃদ্ধি বা কমতি না করে বর্ণনা করব। আর আপনার কাছে তো যিকর বা কুরআন তো আমাদের পক্ষ থেকেই প্রদান করা হয়েছে। এটা এমন কিতাব যার সামনে বা পিছনে কোথাও বাতিলের কোন হাত নেই। হিকমতওয়ালা ও প্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। এ কুরআনের মত কোন কিতাব পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি। (ইবন কাসীর) এখানে কুরআনকে যিকর নাম দেয়া হয়েছে। কারণ এতে কর্তব্যকর্মসমূহ স্মরণিকা ও শিক্ষণীয়রূপে তুলে ধরা হয়েছে। অথবা যিকর বলতে এখানে সম্মান বোঝানো হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আর নিশ্চয় এ কুরআন আপনার ও আপনার সম্প্রদায়ের জন্য সম্মান।” (সূরা আয-যুখরুফ: ৪৪) (ফাতহুল কাদীর)
(৯৯) পূর্বে যা ঘটেছে তার সংবাদ আমি এইভাবে তোমার নিকট বর্ণনা করি(1) এবং নিশ্চয় আমি তোমাকে আমার নিকট হতে উপদেশ (কুরআন) দান করেছি। (2)
(1) অর্থাৎ, যেরূপ আমি ফিরআউন ও মূসার ঘটনা বর্ণনা করেছি, ঠিক অনুরূপ বিগত নবীদের ঘটনাও তোমার সামনে তুলে ধরছি; যাতে তুমি তাদের সম্পর্কে অবহিত হও এবং তার মধ্যে যে সব শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে তা লোকেদের সামনে প্রকাশ কর; যাতে লোকেরা তার আলোকে সঠিক পন্থা অবলম্বন করতে পারে।
(2) ذِكر (উপদেশ বা স্মরণ) বলতে (কুরআন আযীম)-কে বুঝানো হয়েছে। যা দ্বারা বান্দা নিজের প্রভুকে স্মরণ করে সরল পথের অনুসরণ করে, (উপদেশ গ্রহণ করে) মুক্তি তথা সুখ-সৌভাগ্যের পথ অবলম্বন করে।