ফাআখরজা লাহুম ‘ইজলান জাছাদাল্লাহূখুওয়া-রুন ফাক-লূহা-যাইলা-হুকুম ওয়াইলা-হু মূছা-ফানাছী-।উচ্চারণ
এবং তাদের জন্য একটি বাছুরের মূর্তি বানিয়ে নিয়ে এলো, যার মধ্য থেকে গরুর মতো আওয়াজ বের হতো। লোকেরা বলে উঠলো, “এ-ই তোমাদের ইলাহ এবং মূসারও ইলাহ, মূসা একে ভুলে গিয়েছে।” তাফহীমুল কুরআন
তারপর সে তাদের জন্য বের করল একটি বাছুর একটি দেহকাঠামো যার ছিল হাম্বা ধ্বনি। তারা বলল, এই তো তোমাদের মাবুদ এবং মূসারও মাবুদ, কিন্তু মূসা ভুলে গিয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর সে তাদের জন্য গড়লো এক গো-বৎস, এক অবয়ব, যা হাম্বা আওয়াজ করত; তারা বললঃ এটা তোমাদের মা‘বূদ এবং মূসারও মা‘বূদ, কিন্তু মূসা ভুলে গেছে।মুজিবুর রহমান
অতঃপর সে তাদের জন্য তৈরী করে বের করল একটি গো-বৎস, একটা দেহ, যার মধ্যে গরুর শব্দ ছিল। তারা বললঃ এটা তোমাদের উপাস্য এবং মূসার ও উপাস্য, অতঃপর মূসা ভুলে গেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘এরপর সে এদের জন্যে গড়ল এক গো-বৎস, এক অবয়ব, যা হাম্বা রব করত।’ এরা বলল, ‘এটা তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু মূসা ভুলে গেছে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারপর সে তাদের জন্য একটা গো বাছুরের প্রতিকৃতি বের করে আনল, যার ছিল আওয়াজ। তখন তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের ইলাহ এবং মূসারও ইলাহ; কিন্তু সে এ কথা ভুলে গেছে’।আল-বায়ান
তখন সে (আগুন থেকে) গো-বৎসের প্রতিকৃতি বের করল, মনে হত সেটা যেন হাম্বা রব করছে। অতঃপর তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের ইলাহ আর মূসারও ইলাহ, কিন্তু মূসা ভুলে গেছে।’তাইসিরুল
তারপর সে তাদের জন্য এক গরুর বাছুর গঠন করল -- এক কায়া মাত্র, ফাঁকা আওয়াজ ছিল তার, আর তারা বলেছিল -- "এটিই তোমাদের খোদা ও মূসারও খোদা, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন!"মাওলানা জহুরুল হক
এখান থেকে এ প্যারার শেষ ইবারত পর্যন্ত চিন্তা করলে পরিষ্কার অনুভব করা যায় যে, জাতির জবাব “ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম” পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তী এ বিস্তারিত বিবরণ আল্লাহ নিজেই দিচ্ছেন। এ থেকে যে আসল ঘটনা জানা যায় তা হচ্ছে এই যে, আসন্ন ফিতনা সম্পর্কে বেখবর হয়ে লোকেরা যার যার গহনাপাতি এনে স্তূপীকৃত করে চলেছে এবং সামেরী সাহেবও তাদের মধ্যে শামিল ছিলো। পরবর্তী পর্যায়ে অলংকার গালাবার দায়িত্ব সামেরী সাহেব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন এবং এমন কিছু জালিয়াতি করেন যার ফলে ইট বা শলাকা তৈরী করার পরিবর্তে একটি বাছুরের মূর্তি তৈরী হয়ে আসে। তার মুখ থেকে গরুর মতো হাম্বা রব বের হতো। এভাবে সামেরী জাতিকে প্রতারিত করে। তার কথা হচ্ছে, আমি তা শুধু সোনা গালাবার দায়িত্ব নিয়েছিলাম কিন্তু তার মধ্য থেকে তোমাদের এ দেবতা নিজেই স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে।
৮৮. অতঃপর সে তাদের জন্য গড়লো এক বাছুর, এক অবয়ব, যা হাম্বা রব করত। তখন তারা বলল, এ তোমাদের ইলাহ এবং মূসারও ইলাহ, অতঃপর সে (মুসা) ভুলে গেছে।(১)
(১) এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. মূসা নিজেই তার ইলাহকে ভুলে দূরে খুঁজতে চলে গেছে। দুই. মূসা ভুলে গেছে তোমাদেরকে বলতে যে, এটাই তার ইলাহ। তিন. সামেরী ভুলে গেল যে সে এক সময় ইসলামে ছিল, অতঃপর সে ইসলাম ছেড়ে শির্কে প্রবেশ করল। (ইবন কাসীর)
(৮৮) অতঃপর সে ওদের জন্য গড়ল এক গো-বৎস (বাছুর); এক অবয়ব, যা গরুর শব্দ করত। ওরা বলল, এই হল তোমাদের এবং মূসার উপাস্য;(1) কিন্তু মূসা ভুলে গেছে।’
(1) زِينَة বলে অলংকার এবং القَوم (সম্প্রদায়) বলে ফিরআউনের সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে। কথিত আছে যে, এই সমস্ত অলংকার তারা ফিরআউনীদের কাছ হতে সাময়িক ব্যবহারের জন্য চেয়ে নিয়েছিল। সেই কারণেই وِزر এর বহুবচন أَوزَار (বোঝা বা ভার) শব্দ ব্যবহার হয়েছে। কারণ এ সব তাদের জন্য বৈধ ছিল না। মোটকথা, ঐ সমস্ত অলংকার জমা করে একটি গর্তে রাখা হল। সামেরী -- যে মুসলিমদের কিছু ভ্রষ্ট দলের মত -- ভ্রষ্ট ছিল সেও কিছু মাটি রাখল; যেমন পরে সে কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। তারপর সে সমস্ত অলংকারকে গলিয়ে একটি এমন ধরনের বাছুর বানাল, যার ভিতর হাওয়া প্রবেশ-বাহির হওয়ার কারণে এক ধরনের শব্দ সৃষ্টি হত। আর সেই শব্দ দ্বারাই সে বানী-ইস্রাঈলকে বিভ্রান্ত করল। সে তাদেরকে বলল, মূসা তো ভুলে গেছেন। তিনি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ত্বুর পাহাড়ে গেছেন, অথচ মূসা ও তোমাদের উপাস্য তো এটিই।