قَالَ فَإِنَّا قَدۡ فَتَنَّا قَوۡمَكَ مِنۢ بَعۡدِكَ وَأَضَلَّهُمُ ٱلسَّامِرِيُّ

ক-লা ফাইন্না-কাদ ফাতান্না-কাওমাকা মিম বা‘দিকা ওয়া আদাল্লাহুমুছ ছামিরিইয়ু।উচ্চারণ

তিনি বললেন, “ভালো কথা, তাহলে শোনো, আমি তোমার পেছনে তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি এবং সামেরী ৬৩ তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে।” তাফহীমুল কুরআন

আল্লাহ বললেন, তোমার চলে আসার পর আমি তোমার সম্প্রদায়কে ফিতনায় ফেলেছি আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে। #%৩৬%#মুফতী তাকী উসমানী

তিনি বললেনঃ আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।মুজিবুর রহমান

বললেনঃ আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি তোমার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনি বললেন, ‘আমি তো তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর এবং সামিরী এদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ বললেন, ‘তোমার চলে আসার পর আমি তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি। আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে’।আল-বায়ান

তিনি বললেন, ‘তোমার অনুপস্থিতিতে আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি আর সামিরী তাদেরকে গুমরাহ্ করেছে।তাইসিরুল

তিনি বললেন -- "আমরা কিন্তু তোমার পরে তোমার লোকদের তো সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছি, কারণ সামিরী তাদের বিপথে নিয়েছে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৩

এটা ঐ ব্যক্তির নাম নয়। বরং শব্দের শেষে সম্বন্ধসূচক ইয়া (ى) ব্যবহারের সুস্পষ্ট আলামত থেকে একথা জানা যায় যে, এটা গোত্র, বংশ বা স্থানের সাথে সম্পর্কিত কোন শব্দ। তারপর আবার কুরআন যেভাবে আসসামেরী বলে তার উল্লেখ করছে তা থেকে একথাও অনুমান করা যায় যে, সে সময় সামেরী গোত্র, বংশ বা স্থানের বহু লোক ছিল এবং তাদের এক বিশেষ ব্যক্তি ছিল বনী ইসরাঈলের মধ্যে স্বর্ণ নির্মিত গো-বৎস পূজার প্রচলনকারী এ সামেরী। কুরআনের এ জায়গার ব্যাখ্যার জন্য প্রকৃতপক্ষে এর চাইতে বেশী কিছু বর্ণনার দরকার নেই। কিন্তু এ জায়গায় যা বলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে খৃস্টান মিশনারীরা বিশেষ করে পাশ্চাত্যের প্রাচ্যবিদরা কুরআনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আপত্তি উত্থাপন করেছেন। তারা বলেন, (নাউযুবিল্লাহ) এটা কুরআন রচয়িতার মারাত্মক অজ্ঞতার প্রমাণ। কারণ এ ঘটনার কয়েকশ’ বছর পর খৃস্টপূর্ব ৯২৫ অব্দের কাছাকাছি সময় ইসরাঈলী সাম্রাজ্যের রাজধানী “সামেরীয়া” নির্মিত হয়। তারপর এরও কয়েকশ’ বছর পর ইসরাঈলী ও অইসরাঈলীদের সমন্বয়ে শংকর প্রজন্মের উদ্ভব হয়, যারা “সামেরী” নামে পরিচিত হয়। তাদের মতে এই সামেরীদের মধ্যে অন্যান্য মুশরিকী বিদআতের সাথে সাথে সোনালী বাছুর পূজার রেওয়াজও ছিল এবং ইহুদীদের মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের একথা শুনে নিয়ে থাকবেন, তাই তিনি একে নিয়ে হযরত মূসার যুগের সাথে জুড়ে দিয়েছেন এবং এ কাহিনী তৈরী করেছেন যে, সেখানে সোনার বাছুর পূজার প্রচলনকারী সামেরী নামে এক ব্যক্তি ছিল। এ ধরনের কথা এরা হামানের ব্যাপারেও বলেছে। কুরআন এই হামানকে ফেরাউনের মন্ত্রী হিসেবে পেশ করেছে। অন্যদিকে খৃস্টান মিশনারী ও প্রাচ্যবিদরা তাকে ইরানের বাদশাহ আখসোয়ার্সের সভাসদ ও উমরাহ “হামান” এর সাথে মিলিয়ে দিয়ে বলেন, এটা কুরআন রচয়িতার অজ্ঞতার আর একটা প্রমাণ। সম্ভবত এ জ্ঞান ও গবেষণার দাবীদারদের ধারণা প্রাচীন যুগে এক নামের একজন লোক, একটি গোত্র অথবা একটি স্থানই হতো এবং এক নামের দুজন লোক, গোত্র বা দু’টি স্থান হবার আদৌ কোন সম্ভাবনাই ছিল না। অথচ প্রাচীনকালের একটি অতি পরিচিত জাতি ছিল সুমেরী। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের যুগে ইরাক ও তার আশপাশের এলাকায় এ জাতিটি বসবাস করতো। আর এ জাতির বা এর কোন শাখার লোকদেরকে মিসরে সামেরী বলা হতে পারে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর এই সামেরীয়ার মূলের দিকেও নজর দিন। এরই সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতেই তো পরবর্তীকালে উত্তর ফিলিস্তীনের লোকদেরকে সামেরী বলা হতে থাকে। বাইবেলের বর্ণনা মতে ইসরাঈল রাজ্যের শাসক উমরী “সামেরী” (বা শেমর) নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি পাহাড় কিনেছিলেন যার ওপর পরে তিনি নিজের রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। যেহেতু পাহাড়ের সাবেক মালিকের নাম সামর ছিল তাই এ শহরের নাম রাখা হয় সামেরিয়া(বা শামরিয়া) (১-রাজাবলী ১৬-২৪) এ থেকে পরিষ্কার জানা যায়, সামেরিয়ার অস্তিত্ব লাভের পূর্বে “সামর” নামক লোকের অস্তিত্ব ছিল এবং তার সাথে সম্পর্কিত হয়ে তার বংশ বা গোত্রের নাম সামেরী এবং স্থানের নাম সামেরীয়া হওয়া অবশ্যই সম্ভবপর ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সামেরী ছিল এক যাদুকর। সে মুখে মুখে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনেছিল, যে কারণে সে তাঁর সঙ্গ নিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে সে ছিল মুনাফেক।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৫. তিনি বললেন, আমরা তো আপনার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি আপনার চলে আসার পর। আর সামেরী(১) তাদেরকে পথভ্ৰষ্ট করেছে।

(১) কোন কোন মুফাসসির বলেন, সামেরী কোন ব্যক্তির নাম নয় বরং সে সময় সামেরী নামে এক গোত্র ছিল এবং তাদের এক বিশেষ ব্যক্তি ছিল বনী ইসরাঈলের মধ্যে স্বর্ণ নির্মিত গো-বৎস পূজার প্রচলনকারী এ সামেরী। সে তাদেরকে গো বৎস পূজার আহবান জানিয়েছিল এবং শির্কে নিপতিত করেছিল। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৫) তিনি বললেন, ‘তুমি (চলে আসার) পর আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলেছি এবং সামেরী ওদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।’ (1)

(1) মূসার ত্বুর পাহাড়ে যাওয়ার পর সামেরী নামক এক ব্যক্তি বানী-ইস্রাঈলদেরকে বাছুর পূজায় লাগিয়ে দিল। যার সংবাদ আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-কে ত্বুর পাহাড়েই দিলেন যে, সামেরী তোমার জাতিকে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে। ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলার সম্পর্ক আল্লাহ নিজের দিকেই করেছেন শুধু সৃষ্টিকর্তা হিসাবে। নচেৎ এই পথভ্রষ্টতার কারণ হল সামেরী; যেমন أَضَلَّهمُ السَّامري (সামেরী ওদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে) বাক্য দ্বারা পরিষ্কার।