يَٰبَنِيٓ إِسۡرَـٰٓءِيلَ قَدۡ أَنجَيۡنَٰكُم مِّنۡ عَدُوِّكُمۡ وَوَٰعَدۡنَٰكُمۡ جَانِبَ ٱلطُّورِ ٱلۡأَيۡمَنَ وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَنَّ وَٱلسَّلۡوَىٰ

ইয়া-বানীইছরঈলা কাদ আনজাইনা-কুমমিন‘আদুওবিকুমওয়াওয়া-‘আদনা-কুমজানিবাততূরিল আইমানা ওয়া নাঝঝালনা-‘আলাইকুমুল মান্না ওয়াছছালওয়া-।উচ্চারণ

হে বনী ইসরাঈল! ৫৬ আমি তোমাদের শত্রুদের হাত থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়েছি এবং তূরের ডান পাশে ৫৭ তোমাদের উপস্থিতির জন্য সময় নির্ধারণ করেছি ৫৮ আর তোমাদের প্রতি মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করেছি ৫৯ তাফহীমুল কুরআন

হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডান পাশে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আর তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছিলাম মান্ন ও সালওয়া।মুফতী তাকী উসমানী

হে বানী ইসরাঈল! আমিতো তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু হতে উদ্ধার করেছিলাম, আমি তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করেছিলাম।মুজিবুর রহমান

হে বনী-ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শক্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছি, তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি এবং তোমাদের কাছে ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল করেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে বনী ইসরাঈল! আমি তো তোমাদেরকে শত্রু হতে উদ্ধার করেছিলাম, আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সাল্ওয়া প্রেরণ করেছিলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বনী ইসরাঈল, আমিই তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে নাজাত দিয়েছি। আর তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পাশের* এবং আমি তোমাদের জন্য অবতরণ করেছিলাম ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’।আল-বায়ান

হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছিলাম আর আমি তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডানপাশে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম (তাওরাত দানের জন্য) আর তোমাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সালওয়া।তাইসিরুল

হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমরা নিশ্চয় তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম তোমাদের শত্রুদের থেকে, আর আমরা তোমাদের সঙ্গে একটি ওয়াদা করেছিলাম পর্বতের ডান পার্শ্বে, আর তোমাদের নিকট আমরা পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সালওয়া --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৬

মাঝখানে সমুদ্র পার হওয়া থেকে নিয়ে সিনাই পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা বলা হয়নি। সূরা আ'রাফের ১৬-১৭ রুকূ’তে এর বিস্তারিত বিবরণ এসে গেছে। সেখানে একথাও বলা হয়েছে যে, মিসর থেকে বের হয়েই সিনাই উপদ্বীপে একটি মন্দির দেখে বনী ইসরাঈল নিজেদের জন্য একজন কৃত্রিম খোদার দাবী করে বসেছিল। (তাফহীমুল কুরআন, সূরা আ’রাফ, ৯৮ টীকা)।

৫৭

অর্থাৎ তূর পাহাড়ের পূর্ব পাদদেশে।

৫৮

সূরা বাকারার ৬ রুকূ’ ও সূরা আ’রাফের ১৭ রুকূ’তে) বলা হয়েছে, আল্লাহ‌ বনী ইসরাঈলকে শরীয়াতের নির্দেশনা দেবার জন্য চল্লিশ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। এর পর মূসা আলাইহিস সালামকে পাথরের ফলকে লিখিত বিধান দেয়া হয়েছিল।

৫৯

মান্না ও সালওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন সূরা বাকারাহ ৭৩ ও সূরা আ’রাফ ১১৯ টীকা। বাইবেলের বর্ণনা মতে মিসর থেকে বের হবার পর যখন বনী ইসরাঈল সীন মরুভূমিতে ইলীম ও সীনাইর মাঝখান দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল এবং মজুদ খাদ্য খতম হয়ে গিয়ে অনাহার অর্ধাহারের পালা শুরু হয়ে গিয়েছিল তখনই মান্না ও সালওয়ার অবতরণ শুরু হয় এবং ফিলিস্তীনের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছে যাওয়া পর্যন্ত পুরো চল্লিশ বছর ধরে এ ধারাবাহিক কার্যক্রম চলতে থাকে। (যাত্রা পুস্তক ১৬ অধ্যায়, গণনা পুস্তক ১১: ৭-৯, যিহেশূয়৫: ১২) যাত্রা পুস্তকে মান্না ও সালওয়ার নিম্নোক্ত অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছেঃ

“পরে সন্ধ্যাকালে ভারুই পক্ষী উড়িয় আসিয়া শিবির স্থান আচ্ছাদান করিল এবং প্রাতঃকালে শিবিরের চারিদিকে শিশির পড়িল। পরে পতিত শিশির উর্দ্ধগত হইলে দেখ ভূমিস্থিত নীহারের ন্যায় সরু বীজাকার সূক্ষ্ম বস্তু বিশেষ প্রান্তরের উপর পড়িয়া রহিল। আর তাহা দেখিয়া ইস্রায়েল সন্তানগণ পরস্পর কহিল উহা কি? কেননা তাহা কি, তাহারা জানিল না।” (১৬: ১৩-১৫)

“আর ইস্রায়েল কুল ঐ খাদ্যের মান্না রাখিল, তাহা ধনিয়া বীজের মত, শুক্ল বর্ণ এবং তাহার আস্বাদ মধুমিশ্রিত পিষ্টকের ন্যায় ছিল।” (১৬: ৩১)

গণনা পুস্তকে আরো বেশী বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছেঃ

“লোকেরা ভ্রমণ করিয়া তাহা কুড়াইত এবং যাঁতায় পিষিয়া কিংবা উখলিতে চূর্ণ করিয়া বহুগুণাতে সিদ্ধ করিত ও তদ্বারা পিষ্টক পুস্তক করিত; তৈলপক্ক পিষ্টকের ন্যায় তাহার আস্বাদ ছিল। রাত্রিতে শিবিরের উপরে শিশির পড়িলে ঐ মান্না তাহার উপরে পড়িয়া থাকিত।” (১১: ৮-৯)

এটাও ছিল একটি মু’জিযা। কারণ চল্লিশ বছর পরে বনী ইসরাঈল যখন খাদ্যের প্রাকৃতিক উপায়-উপকরণ লাভ করলো তখন খাদ্য সরবরাহের এ ধারাটি বন্ধ করে দেয়া হলো। এখন ঐ এলাকায় বাবুই পাখির প্রাচুর্য নেই এবং মান্নাও কোথাও পাওয়া যায় না। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী বনী ইসরাঈল যে এলাকায় চল্লিশ বছর মরুচারী জীবন যাপন করেছিল গবেষক ও অনুসন্ধানকারীরা সেই সমগ্র এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজেছেন। কোথাও তারা মান্নার সাক্ষাত পাননি। তবে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদেরকে বোকা বানাবার জন্য অবশ্যি মান্নার হালুয়া বিক্রি করে থাকে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৮০. হে বনী ইসরাঈল! আমরা তো তোমাদেরকে শত্রু থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আর আমরা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তুর পর্বতের ডান পাশে(১) এবং তোমাদের উপর মান্না ও সালওয়া নাযিল করেছিলাম(২),

(১) অর্থাৎ ফিরআউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া এবং সমুদ্র পার হওয়ার পর আল্লাহ তা'আলা মুসা আলাইহিস সালাম-কে এবং তার মধ্যস্থতায় বনী-ইসরাঈলকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, তারা তুর পর্বতের ডান পার্শ্বে চলে আসুক, যাতে আল্লাহ তা'আলা মূসার সাথে কথা বলেন। এখানেই মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিলেন এবং তাকে এখানেই তাওরাত দেয়া হয়। (ইবন কাসীর)

(২) এটা তখনকার ঘটনা, যখন বনী-ইসরাঈল সমুদ্র পার হওয়ার পর সামনে অগ্রসর হয় এবং তাদেরকে একটি পবিত্র শহরে প্রবেশ করার আদেশ দেয়া হয়। তারা আদেশ অমান্য করে। তখন সাজা হিসেবে তাদেরকে তীহ নামক উপত্যকায় আটক করা হয়। তারা চল্লিশ বছর পর্যন্ত এ উপত্যকা থেকে বাইরে যেতে সক্ষম হয়নি। এই শাস্তি সত্বেও মূসা আলাইহিস সালাম-এর দো'আয় নানা রকম নেয়ামত বৰ্ষিত হতে থাকে। ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া” ছিল এইসব নেয়ামতের অন্যতম, যা তাদের আহারের জন্যে দেয়া হত। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮০) হে বানী ইস্রাঈল! নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু হতে উদ্ধার করলাম, আমি তোমাদেরকে ত্বুর পাহাড়ের ডান পাশে (তাওরাত) দানের প্রতিশ্রুতি দিলাম(1) এবং তোমাদের নিকট ‘মান্ন্’ ও ‘সালওয়া’ প্রেরণ করলাম। (2)

(1) ووَاعَدنَاكُم ‘‘আমি তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডান পাশে (তাওরাত) দানের প্রতিশ্রুতি দিলাম।’’ এখানে ‘তোমাদের’ সর্বনাম বহুবচন ব্যবহারের অর্থ হল যে, মূসা ত্বুর পাহাড়ে তোমাদেরকে প্রতিনিধিরূপে নিয়ে আসবে, যাতে আমি তোমাদের সামনেই তার সঙ্গে কথোপকথন করতে পারি। অথবা বহুবচন সর্বনাম এই কারণে ব্যবহার করা হয়েছে, যেহেতু মূসা (আঃ)-কে ত্বুর পাহাড়ে আহবান করা হয়েছিল বানী ইস্রাঈলদের স্বার্থেই তাদেরকে সঠিক পথ দেখানোর জন্যই।

(2) ‘মান্ন্ ও সালওয়া’ অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা সূরা বাক্বারাহ ৫৭নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। ‘মান্ন্’ ছিল কোন মিষ্টি খাদ্য যা আকাশ হতে অবতীর্ণ হত। আর ‘সালওয়া’ হল এক জাতীয় পাখি যা অধিক সংখ্যায় তাদের কাছে আসত এবং তারা তাদের প্রয়োজন মত তা ধরত ও রান্না করে খেত। (ইবনে কাসীর)