فَأَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُودِهِۦ فَغَشِيَهُم مِّنَ ٱلۡيَمِّ مَا غَشِيَهُمۡ

ফাআতবা‘আহুম ফির‘আওনুবিজুনূদিহী ফাগাশিয়াহুম মিনাল ইয়াম্মি মা-গাশিইয়াহুম।উচ্চারণ

পিছন থেকে ফেরাউন তার সেনাবাহিনী নিয়ে পৌঁছলো এবং তৎক্ষণাত সমুদ্র তাদের উপর ছেয়ে গেলো যেমন ছেয়ে যাওয়া সমীচীন ছিল। ৫৪ তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর ফির‘আউন নিজ সেনাবাহিনীসহ তার পশ্চাদ্ধাবন করলে সাগরের যে (ভয়াল) জিনিস তাকে আচ্ছন্ন করার তা তাকে আচ্ছন্ন করল। #%৩৪%#মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর ফির‘আউন তার সৈন্যবাহিনীসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল, অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণ রূপে নিমজ্জিত করল।মুজিবুর রহমান

অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর ফির‘আওন তার সৈন্যবাহিনীসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল, এরপর সমুদ্র এদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারপর ফির‘আউন তার সেনাবাহিনী সহ তাদের পিছু নিল। অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল।আল-বায়ান

অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে তাদের পিছু নিল, অতঃপর সমুদ্র তাদের উপর চড়াও হল আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিল।তাইসিরুল

অতঃপব ফিরআউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্বাবন করল, তখন সাগর থেকে তাদের ডুবিয়ে দিল যা তাদের ডুবিয়েছিল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৪

সূরা শূ’আরায় বলা হয়েছে, মুহাজিরদের সাগর অতিক্রম করার পর পরই ফেরাউন তার সৈন্য সামন্তসহ সমুদ্রের বুকে তৈরী হওয়া এ পথে নেমে পড়লো। (৬৩-৬৪ আয়াত) এখানে বলা হয়েছে, সমুদ্র তাকে ও তার সেনাদেরকে ডুবিয়ে মারলো। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, বনী ইসরাঈল সমুদ্রের অন্য তীর থেকে ফেরাউন ও তার সেনাদলকে ডুবে যেতে দেখেছিল। (৫০ আয়াত) অন্যদিকে সূরা ইউনুসে বলা হয়েছে, ডুবে যাবার সময় ফেরাউন চিৎকার করে উঠলোঃ

آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ

“আমি মেনে নিয়েছি যে আর কোন ইলাহ নেই সেই ইলাহ ছাড়া যাঁর প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে এবং আমিও মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।”

কিন্তু এ শেষ মুহূর্তের ঈমান গৃহীত হয়নি এবং জবাব দেয়া হলোঃ

آلْآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ - فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً

“এখন ঈমান আনছো? আর ইতিপূর্বে এমন অবস্থা ছিল যে, নাফরমানীতেই ডুবে ছিলে এবং বিপর্যয় সৃষ্টি করেই চলেছিলে। বেশ, আজ আমি তোমার লাশটাকে রক্ষা করেছি, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকে।” (৯০-৯২আয়াত)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘যে জিনিস তাকে আচ্ছন্ন করার তা তাকে আচ্ছন্ন করল’, এভাবে আচ্ছন্নকারী বস্তুকে অব্যাখ্যাত রেখে ইশারা করা উদ্দেশ্য যে, সে জিনিস বর্ণনাতীত বিভীষিকাময়। অর্থাৎ, ফির‘আউন ও তার বাহিনী যেভাবে সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল সে দৃশ্য ছিল অতি ভয়াবহ।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৮. অতঃপর ফির’আউন তাঁর সৈন্যবাহিনীসহ তাদের পিছনে ছুটল, তারপর সাগর তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল।(১)

(১) এখানে বলা হয়েছে, সমুদ্র তাকে ও তার সেনাদেরকে ডুবিয়ে মারলো। অন্যত্র বলা হয়েছে, মুহাজিরদের সাগর অতিক্রম করার পর পরই ফিরআউন তার সৈন্য সামন্ত সহ সমুদ্রের বুকে তৈরী হওয়া এ পথে নেমে পড়লো। (সূরা আশ-শু'আরাঃ ৬৩–৬৪) সূরা আল-বাকারায় বলা হয়েছে, বনী ইসরাঈল সমুদ্রের অন্য তীর থেকে ফিরআউন ও তার সেনাদলকে ডুবে যেতে দেখছিল। (সূরা আল-বাকারাহ্‌ঃ ৫০) অন্যদিকে সূরা ইউনুসে বলা হয়েছে, ডুবে যাবার সময় ফিরআউন চিৎকার করে উঠলোঃ “আমি মেনে নিয়েছি যে আর কোন ইলাহ নেই সেই ইলাই ছাড়া যাঁর প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে এবং আমিও মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা ইউনুসঃ ৯০) কিন্তু এ শেষ মুহুর্তের ঈমান গৃহীত হয়নি এবং জবাব দেয়া হলোঃ “এখন! আর ইতিপূর্বে এমন অবস্থা ছিল যে, নাফরমানীতেই ডুবে ছিলে এবং বিপর্যয় সৃষ্টি করেই চলছিলো। বেশ, আজ আমি তোমার লাশটাকে রক্ষা করছি, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকে।” (সূরা ইউনুসঃ ৯১–৯২)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৮) অতঃপর ফিরআউন তার সেনাবাহিনীসহ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করলে সমুদ্র ওদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল।(1)

(1) যখন সেই শুকনো রাস্তা দিয়ে ফিরআউন তার সৈন্য সামন্তরা চলতে শুরু করল, তখন আল্লাহ সমুদ্রকে আদেশ করলেন, ‘তুমি আগের অবস্থায় ফিরে যাও।’ আর তা সঙ্গে সঙ্গে চোখের পলকে শুকনো রাস্তা সমুদ্রের ঢেউয়ে পরিণত হল এবং ফিরআউন তথা তার সৈন্য-সামন্ত সবই সমুদ্রে ডুবে মরল। غَشِيَهم এর অর্থ عَلاهُم وأصَابَهُم অর্থাৎ, সমুদ্রের পানি তাদের উপরে এসে তাদেরকে ঢেকে নিল। مَا غَشِيَهم এর পুনরাবৃত্তি ভয়ঙ্করতা বর্ণনার জন্য।