ফাউলকিয়াছ ছাহারতুছুজ্জাদান ক-লূআ-মান্না-বিরব্বি হা-রূনা ওয়া মূছা-।উচ্চারণ
শেষ পর্যন্ত এই হলো যে, সমস্ত যাদুকরকে সিজদাবনত করে দেয়া হলো ৪৩ এবং তারা বলে উঠলোঃ “আমরা মেনে নিলাম হারুন ও মূসার রবকে।” ৪৪ তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং (তাই হল এবং) সমস্ত যাদুকরকে সিজদায় পাতিত করা হল। #%২৯%# তারা বলতে লাগল আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর যাদুকরেরা সাজদাহবনত হল ও বললঃ আমরা হারূণ ও মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।মুজিবুর রহমান
অতঃপর যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। তারা বললঃ আমরা হারুন ও মূসার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর জাদুকরেরা সিজদাবনত হল ও বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যাদুকরেরা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম’।আল-বায়ান
(মূসার স্পষ্ট নিদর্শন যখন দেখল) তখন যাদুকরেরা (আল্লাহর প্রতি) সাজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের উপর ঈমান আনলাম।’তাইসিরুল
তারপর জাদুকররা লুটিয়ে পড়ল সিজদাবনত হয়ে, তারা বললেন -- "আমরা ঈমান আনলাম হারূন ও মূসার প্রভুর প্রতি।"মাওলানা জহুরুল হক
৪৩
অর্থাৎ মূসার লাঠির কৃতিত্ব দেখার সাথে সাথেই তাদের বিশ্বাস হয়ে গেছে যে, এটি নিশ্চিতভাবেই মু’জিযা, যাদু কোনক্রমেই নয়। তাই তারা হঠাৎ স্বতষ্ফর্তভাবে সিজদাবনত হয়, যেন কেউ তাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছে।
৪৪
এর মানে হচ্ছে, সেখানে সবাই জানতো কিসের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। সমগ্র জনসমাবেশে একজন ও এ ভুল ধারণা পোষণ করতো না যে, মূসার ও যাদুকরদের কলাকৌশলের মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং কার কৌশল শক্তিশালী সেটিই এখন দেখার বিষয়। সবাই জানতো, একদিকে মূসা নিজেকে আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহর নবী হিসেবে পেশ করছেন এবং নিজের নবুওয়াতের প্রমাণ স্বরূপ দাবী করছেন যে, তাঁর লাঠি অলৌকিকভাবে অজগরে পরিণত হয়। অন্যদিকে যাদুকরদেরকে জনসম্মুখে আহ্বান করে ফেরাউন একথা প্রমাণ করতে চায় যে, লাঠির অজগরে হওয়া অলৌকিক কর্ম নয় বরং নিছক যাদুর তেলেসমাতি। অন্যকথায়, সেখানে ফেরাউন ও যাদুকর এবং সাধারণ অসাধারণ নির্বিশেষে সমগ্র দর্শকমণ্ডলী মু’জিযা ও যাদুর পার্থক্য অবগত ছিল। কাজেই সেখানে এ মর্মে পরীক্ষা চলছিল যে, মূসা যা কিছু দেখাচ্ছেন তা যাদুর পর্যায়ভুক্ত, না রব্বুল আলামীনের অসীম ক্ষমতা ছাড়া অন্য কোন ক্ষমতার সাহায্যে যে মু’জিযা দেখানো যেতে পারে না তার পর্যায়ভুক্ত? এ কারণে যাদুকররা নিজেদের যাদুকে পরাভূত হতে দেখে একথা বলেনি, আমরা মেনে নিলাম, মূসা আমাদের চাইতে বড় যাদুকর। বরং সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিশ্বাস জন্মে গেছে যে, মুসা যথার্থই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাচ্চা পয়গম্বর। তারা চিৎকার করে বলে উঠেছে, আমরা সে আল্লাহকে মেনে নিয়েছি, যার পয়গম্বর হিসেবে মূসা ও হারুন এসেছেন।
এ থেকে সাধারণ জন সমাবেশে এ পরাজয়ের কি প্রভাব পড়ে থাকবে এবং সারা দেশবাসী এর দ্বারা কি সাংঘাতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকবে তা অনুমান করা যেতে পারে। ফেরাউন দেশের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রীয় মেলায় এ প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান করেছিল এ আশায় যে, মিশরের সব এলাকা থেকে আগত লোকেরা স্বচক্ষে দেখে নেবে লাঠি দিয়ে সাপ তৈরী করা মূসার একার কোন অভিনব কৃতিত্ব নয়, প্রত্যেক যাদুকরই এটা করতে পারে। ফলে মূসার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে। কিন্তু তার এ কৌশলের ফাঁদে সে নিজেই আটকে গেছে এবং গ্রাম গ্রামান্তর থেকে আগত লোকদের সামনে যাদুকররাই একযোগে একথার সত্যতা প্রকাশ করেছে যে, মূসা যা কিছু দেখাচ্ছেন তা যাদু নয়, তা হচ্ছে মূলত মু’জিযা। কেবলমাত্র আল্লাহর নবীগণই এ মু’জিযা দেখাতে পারেন।
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম যখন তাঁর লাঠিটি মাটিতে ফেললেন, অমনি সেটি আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি অনুসারে বিরাট অজগর হয়ে গেল এবং যাদুকরেরা যে অলীক সাপ তৈরি করেছিল সেগুলোকে এক-এক করে গিলে ফেলল। এ অবস্থা দেখে যাদুকরগণ নিশ্চিত হয়ে গেল, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কোন যাদুকর নন; বরং তিনি আল্লাহ তাআলার রাসূল। এই উপলব্ধি হওয়া মাত্র তারা সিজদায় পড়ে গেল। লক্ষ্যণীয় যে, এস্থলে কুরআন মাজীদে ‘তারা সিজদায় পড়ে গেল’ না বলে বলা হয়েছে ‘তাদেরকে সিজদায় পাতিত করা হল’। ইঙ্গিত এ বিষয়ের দিকে যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের দেখানো মুজিযা এমন শক্তিশালী ছিল এবং তার প্রভাব এমন অপ্রতিরোধ্য ছিল, যা দেখার পর তাদের পক্ষে সিজদা না করে থাকা সম্ভব ছিল না। যেন সেই মুজিযাই তাদেরকে সিজদা করাল।
৭০. অতঃপর জাদুকরেরা সিজদাবনত হল(১), তারা বলল, আমরা হারূন ও মূসার রব-এর প্রতি ঈমান আনলাম।
(১) অর্থাৎ মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি যখন অজগর হয়ে তাদের কাল্পনিক সাপগুলোকে গ্রাস করে ফেলল, তখন জাদুবিদ্যা বিশেষজ্ঞ জাদুকরদের বুঝতে বাকী রইল না যে, এ কাজ জাদুর জোরে হতে পারে না; বরং নিঃসন্দেহে এটা মু'জিযা, যা একান্তভাবে আল্লাহর কুদরতে প্রকাশ পায়। তাই তারা হঠাৎ স্বতস্ফূৰ্তভাবে সিজদাবনত হয়, যেন কেউ তাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায়ই তারা ঘোষণা করলঃ আমরা মূসা ও হারূনের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আনলাম। (ইবন কাসীর)
(৭০) অতঃপর জাদুকররা সিজদায় পড়ল ও বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।’