ওয়া ইযা-তাল্লাকতুমুন নিছাআ ফাবালাগনা আজালাহুন্না ফাআমছিকূহুন্না বিমা‘রূফিন আও ছাররিহুহুন্না বিমা‘রূফিওঁ ওয়ালা-তুম ছিকূহুন্না দির-রল লিতা‘তাদূ ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকা ফাকাদ জালামা নাফছাহূ ওয়ালা-তাত্তাখিযূআ-য়া-তিল্লা-হি হুঝুওয়াও ওয়াযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়ামা-আনঝালা ‘আলাইকুম মিনাল কিতা-বি ওয়াল হিকমাতি ইয়া‘ইজু কুম বিহী ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘লামূআন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইইন ‘আলীম।উচ্চারণ
আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দাও এবং তাদের ইদ্দত পূর্ণ হবার পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন হয় সোজাসুজি তাদেরকে রেখে দাও আর নয়তো ভালোভাবে বিদায় করে দাও। নিছক কষ্ট দেবার জন্য তাদেরকে আটকে রেখো না। কারণ এটা হবে বাড়াবাড়ি। আর যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে আসলে নিজের ওপর জুলুম করবে। ২৫৪ আল্লাহর আয়াতকে খেলা –তামাসায় পরিণত করো না। ভুলে যেয়ো না আল্লাহ তোমাদের কত বড় নিয়ামত দান করেছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দান করছেন, যে কিতাব ও হিকমাত তিনি তোমাদের ওপর নাযিল করেছেন তাকে মর্যাদা দান করো। ২৫৫ আল্লাহকে ভয় করো এবং ভালোভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ সব কথা জানেন। তাফহীমুল কুরআন
যখন তোমরা নারীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, তারপর তারা তাদের ইদ্দতের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন হয় তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে (নিজ স্ত্রীত্বে) রেখে দেবে, নয়ত তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতভাবে ছেড়ে দেবে। তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার লক্ষ্যে এজন্য আটকে রেখ না যে, তাদের প্রতি জুলুম করতে পারবে। #%১৭০%# যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে স্বয়ং নিজ সত্তার প্রতিই জুলুম করবে। তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে তামাশারূপে গ্রহণ করো না। #%১৭১%# আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন এবং তোমাদেরকে উপদেশ দানের লক্ষ্যে তোমাদের প্রতি যে কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন তা স্মরণ রেখ। আর আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং জেনে রেখ, আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবগত।মুফতী তাকী উসমানী
এবং তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, আর তারা তাদের নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যায়, তখন তাদেরকে নিয়মিতভাবে রাখতে পার অথবা নিয়মিতভাবে পরিত্যাগ করতে পার; এবং তাদেরকে যন্ত্রণা দেয়ার জন্য আবদ্ধ করে রেখনা, তাহলে সীমা লংঘন করবে; আর যে ব্যক্তি এরূপ করে সে নিশ্চয়ই নিজের প্রতি অবিচার করে থাকে। এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে বিদ্রুপাচ্ছলে গ্রহণ করনা, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তোমাদেরকে উপদেশ দানের জন্য গ্রন্থ ও বিজ্ঞান হতে যা অবতীর্ণ করেছেন তা স্মরণ কর, আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।মুজিবুর রহমান
আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও আর তারা ইদ্দত পূর্তির নিকটবর্তী হয় তখন তোমরা হয় যথাবিধি তাদেরকে রেখে দিবে বা বিধিমত মুক্ত করে দিবে। কিন্তু তাদের ক্ষতি করে সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে তোমরা আটকিয়ে রেখো না। যে এইরূপ করে, সে নিজের প্রতি জুলুম করে। আর তোমরা আল্লাহ্ র বিধানকে ঠাট্টা-তামাশার বস্তু কর না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহ্ র নিয়ামত ও কিতাব এবং হিক্মত যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন-যা দিয়ে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ কর। তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর আর জেনে রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে জ্ঞানময়।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে অতঃপর তারা তাদের ইদ্দতে পৌঁছে যাবে তখন হয়তো বিধি মোতাবেক তাদেরকে রেখে দেবে অথবা বিধি মোতাবেক তাদেরকে ছেড়ে দেবে। তবে তাদেরকে কষ্ট দিয়ে সীমালঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না। আর যে তা করবে সে তো নিজের প্রতি যুলম করবে। আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসরূপে গ্রহণ করো না। আর তোমরা স্মরণ কর তোমাদের উপর আল্লাহর নিআমত এবং তোমাদের উপর কিতাব ও হিকমত যা নাযিল করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয় সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত।আল-বায়ান
যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে আসে তখন হয় তাদেরকে ভালভাবে গ্রহণ করে রেখে দাও, নইলে ভালভাবে বিদায় দাও, আর বাড়াবাড়ি করে তাদের ক্ষতি করার উদ্দেশে আটকে রেখো না। যে এমন করবে, সে নিজেরই উপর যুলম করে। তোমরা আল্লাহর আহকামকে হাসি-ঠাট্টারূপে গ্রহণ করো না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, তাঁর কিতাব ও জ্ঞানগর্ভ বাক্যাবলী (সুন্নাত) যা তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন, যদ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ কর আর আল্লাহকে ভয় কর আর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।তাইসিরুল
আর যখন স্ত্রীদের তালাক দাও, আর তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তারপর হয় তাদের রাখবে সদয়ভাবে, নয় তাদের মুক্তি দেবে সদয়ভাবে। আর তাদের আটকে রেখো না ক্ষতি করার জন্যে, -- যার ফলে তোমরা সীমা লঙ্ঘন করবে, আর যে তাই করে সে নিশ্চয় তার নিজের প্রতি অন্যায় করে। আর আল্লাহ্র প্রত্যাদেশকে তামাশার বস্তু করে নিয়ো না, আর স্মরণ করো তোমাদের উপরে আল্লাহ্র নিয়ামত ও তোমাদের কাছে যা তিনি অবতারণ করেছেন কিতাব ও হিক্মত, যার দ্বারা তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। আর আল্লাহ্কে ভয়ভক্তি করবে, আর জেনে রেখো -- নিশ্চয় আল্লাহ্ সব-কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক
২৫৪
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় তারপর ইদ্দত শেষ হবার আগে আবার তাকে ফিরিয়ে নেয় শুধুমাত্র কষ্ট ও জ্বালা-যন্ত্রণা দেয়ার সুযোগ লাভ করার উদ্দেশ্যে, তাহলে এটি কোনক্রমেই সঠিক কাজ বলে গণ্য হবে না। আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, ফিরিয়ে নিতে চাইলে এই উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে নাও যে, এবার থেকে তার সাথে সদাচরণ করবে। অন্যথায় ভদ্রভাবে তাকে বিদায় দাও। (আরো জানার জন্য ২৫০ নং টীকা দেখুন)।
২৫৫
অর্থাৎ এ সত্যটি ভুলে যেয়ো না যে, মহান আল্লাহ তোমাদের কিতাব ও হিকমত তথা জ্ঞান শিক্ষা দিয়ে সারা দুনিয়ার নেতৃত্ব দানের উচ্চতর আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মাতের (উম্মাতে ওয়াসাত) মর্যাদা দান করা হয়েছে। তোমাদেরকে সত্যতা, সৎবৃত্তি, সৎকর্মশীলতা ও ন্যায়নিষ্ঠার মূর্তিমান প্রতীক হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। বাহানাবাজী করে আল্লাহর আয়াতকে খেল-তামাসায় পরিণত করা তোমাদের সাজে না। আইনের শব্দের আড়ালে আইনের মূল প্রাণসত্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সুযোগ গ্রহণ করো না। বিশ্বাসীকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়ার পরিবর্তে তোমরা নিজের গৃহে জালেম ও পথভ্রষ্টের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ো না।
অর্থাৎ আয়াতে প্রদত্ত বিধানাবলী যথা বিবাহ, তালাক, ঈলা, খুলা ইত্যাদি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কল্যাণকর বিধান। কাজেই এগুলো নিয়ে ছল-চাতুরি বা এগুলোকে অসদুদ্দেশ্যে ব্যবহার করো না, যেমন তালাক দেওয়ার পর আবার স্ত্রীকে ফেরত গ্রহণ করলে তাকে নির্যাতন করার লক্ষ্যে। কিংবা বিবাহ করার পর বললে, আমার বিবাহ করা উদ্দেশ্য ছিল না, কেবল ফুর্তি করছিলাম অথবা তালাক দিয়ে বললে, ঠাট্টা করছিলাম। এরূপ করা আয়াতকে নিয়ে তামাশা করার নামান্তর। সুতরাং এরূপ পন্থা পরিহার করে আল্লাহর আয়াতসমূহকে খাঁটি মনে অনুসরণ কর। হাদীছে আছে, তিনটি জিনিস ঠাট্টাচ্ছলে করলেও তা সত্যিকার হয়ে যায় বিবাহ, তালাক ও রাজ‘আত (তালাকের পর পুনঃগ্রহণ)। রূহুল মা‘আনী, তাফসীরে উছমানী -অনুবাদক
২৩১. আর যখন তোমরা স্ত্রীকে তালাক দাও অতঃপর তারা ইদ্দত পূর্তির নিকটবর্তী হয়, তখন তোমরা হয় বিধি অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দেবে, অথবা বিধিমত মুক্ত করে দেবে(১)। তাদের ক্ষতি করে সীমালংঘনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না। যে তা করে, সে নিজের প্রতি যুলুম করে। আর তোমরা আল্লাহর বিধানকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বস্তু করো না(২) এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত ও কিতাব এবং হেকমত যা তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন, যা দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ কর। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
(১) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তালাকের দু'টি পর্যায় অতিক্রম করে ফেলে তার জন্য এ আয়াতে দুটি আদেশ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি হচ্ছে এই যে, ইদ্দতের মধ্যে তালাক যথেষ্ট। এতে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বিয়ের নবায়নের প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয় হচ্ছে এই যে, স্বামী যদি মিল-মহব্বতের সাথে সংসার যাপন করতে চায়, তবে তালাক প্রত্যাহার করবে। অন্যথায় স্ত্রীকে ইদ্দত অতিক্রম করে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্তি লাভের সুযোগ দেবে, যাতে বিবাহ বন্ধন এমনিতেই ছিন্ন হয়ে যায়। আর তা যদি না হয়, তবে স্ত্রীকে অযথা কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে যেন তালাক প্রত্যাহার না করে। সেজন্যই বলা হয়েছে (تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ) এখানে تَسْرِيحٌ অর্থ খুলে দেয়া বা ছেড়ে দেয়া। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দ্বিতীয় তালাক দেয়া বা অন্য কোন কাজ করার প্রয়োজন নেই। তালাক প্রত্যাহার ব্যতীত ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাওয়াই বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। تَسْرِيحٌ এর সাথে إحْسَانٍ শব্দের শর্ত আরোপের মাধ্যমে উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তালাক হচ্ছে একটি বন্ধনকে ছিন্ন করা। আর সৎ লোকের কর্ম পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, কোন কাজ বা চুক্তি করতে হলে তারা তা উত্তম পন্থায়ই করে থাকেন। (মাআরিফুল কুরআন থেকে সংক্ষেপিত)
(২) এ আয়াতে এরশাদ হয়েছে যে, আল্লাহর আয়াতকে খেলা ও তামাশায় পরিণত করো না। অর্থাৎ বিয়ে ও তালাক সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা যে সীমারেখা ও শর্তাবলী নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধাচরণ করা। আর দ্বিতীয় তাফসীর আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জাহেলিয়াত যুগে কোন কোন লোক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বা বাদীকে মুক্ত করে দিয়ে পরে বলত যে, আমি তো উপহাস করেছি মাত্র, তালাক দিয়ে দেয়া বা মুক্তি দিয়ে দেয়ার কোন উদ্দেশ্যই আমার ছিল না। তখনই এ আয়াত নাযিল হয়। এতে ফয়সালা দেয়া হয়েছে যে, বিয়ে ও তালাককে যদি কেউ খেলা বা তামাশা হিসেবেও সম্পাদন করে, তবুও তা কার্যকরী হয়ে যাবে। এতে নিয়্যতের কথা গ্রহণযোগ্য হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যে, হাসি তামাশার মাধ্যমে করা এবং বাস্তবে করা দুই-ই সমান। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে বিয়ে, দ্বিতীয়টি তালাক এবং তৃতীয়টি রাজাআত বা তালাকের পর স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা’। (আবু দাউদঃ ২১৯৪, তিরমিযীঃ ১১৮৪, ইবনে মাজহ ২০৩৯)
(২৩১) যখনই তোমরা স্ত্রীদের (রজয়ী) তালাক দাও এবং তারা ‘ইদ্দত’ (নির্দিষ্ট সময়) পূর্ণ করে, তখন তাদেরকে বিধিমতে বহাল কর অথবা সদ্ভাবে বিদায় দাও।(1) তাদের প্রতি নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটক করে রেখো না। যে ব্যক্তি এমন করে, সে নিজের ক্ষতি করে এবং তোমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে ঠাট্টা-তামাশার বস্তু করো না।(2) তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও কিতাব এবং বিজ্ঞান যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন ও যা দিয়ে তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ কর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে জ্ঞানময়।
(1) (الطلاق مرتان) এ বলা হয়েছিল যে, দু’বার তালাক পর্যন্ত ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার থাকে। এই আয়াতে বলা হচ্ছে যে, ফিরিয়ে নেওয়া ইদ্দতের মধ্যে হতে পারে। ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর নয়। অতএব এখানে একই কথার পুনরাবৃত্তি হয়নি, যেমন বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয়।
(2) কেউ কেউ ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিয়ে অথবা বিবাহ করে কিংবা ক্রীতদাস স্বাধীন করে দিয়ে বলে যে, আমি তো ঠাট্টা করেছিলাম। মহান আল্লাহ এটাকে তাঁর আয়াতের সাথে ঠাট্টা বলে গণ্য করেছেন। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, এ রকম কার্যকলাপ থেকে মানুষকে বিরত রাখা। এই জন্য নবী করীম (সাঃ) বলেছেন যে, ঠাট্টাচ্ছলেও কেউ যদি উল্লিখিত কাজগুলো করে বসে, তাহলে তা বাস্তবই গণ্য হবে এবং ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দিলে অথবা বিবাহ করলে বা স্বাধীন করলে তা কার্যকরী হয়ে যাবে। (ইবনে কাসীর)