إِنِّيٓ أَنَا۠ رَبُّكَ فَٱخۡلَعۡ نَعۡلَيۡكَ إِنَّكَ بِٱلۡوَادِ ٱلۡمُقَدَّسِ طُوٗى

ইন্নীআনা রব্বুকা ফাখলা‘না‘লাইকা ইন্নাকা বিলওয়া-দিল মুকাদ্দাছি তুওয়া।উচ্চারণ

তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় আছো। তাফহীমুল কুরআন

নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। সুতরাং তোমার জুতা খুলে ফেল। কেননা তুমি এখন পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছো। মুফতী তাকী উসমানী

আমিই তোমার রাব্ব। অতএব তোমার পাদুকা খুলে ফেলো, কারণ তুমি পবিত্র তূওয়া উপত্যকায় রয়েছ।মুজিবুর রহমান

আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তোমার পাদুকা খুলে ফেল, কারণ তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় আমি তোমার রব; সুতরাং তোমার জুতা জোড়া খুলে ফেল, নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ’।আল-বায়ান

বাস্তবিকই আমি তোমার প্রতিপালক, কাজেই তোমার জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আছ।তাইসিরুল

"নিঃসন্দেহ আমি, আমিই তোমার প্রভু, অতএব তোমার জুতো খুলে ফেল, তুমি অবশ্য পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে রয়েছ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

সাধারণত মনে করা হয়ে থাকে যে, “তুওয়া” ছিল এই উপত্যকাটির নাম। কিন্তু কোন কোন মুফাসসির “পবিত্র তুওয়া উপত্যকা” অর্থ করেছেন, “এমন উপত্যকা যাকে একটি সময়ের জন্য পবিত্র করা হয়েছে”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

প্রশ্ন হতে পারে, এ ডাক যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসছিল, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম সে ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন কি করে? এর উত্তর হল, আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে এই প্রতীতি সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহ তাআলারই সাথে তাঁর বাক্যালাপ হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা পারিপার্শ্বিক অবস্থাকেও এই প্রত্যয় সৃষ্টির পক্ষে সহায়ক করে দিয়েছিলেন। কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা প্রকাশ, তিনি যখন সেই আগুনের কাছে গেলেন, এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে পেলেন, তিনি দেখলেন সে আগুন একটা গাছে শিখাপাত করছে, অথচ কোন একটি পাতা পুড়ছে না। তিনি অপেক্ষা করছিলেন হয়ত কোন স্ফুলিঙ্গ উড়ে তার কাছে আসবে। কিন্তু তাও আসল না। শেষে তিনি কিছু ঘাস-পাতা তুলে নিয়ে তা আগুনের দিকে এগিয়ে দিলেন, যাতে আগুন ধরে। কিন্তু তাতে আগুন ধরল না; বরং আগুন পিছনে সরে গেল। আর তখনই ডাক শোনা গেল ‘হে মূসা...!’ সে আওয়াজ বিশেষ কোন দিক থেকে নয়; বরং চতুর্দিক থেকে অনুভূত হচ্ছিল এবং মূসা আলাইহিস সালামও কেবল কান দ্বারা নয়; বরং সর্বাঙ্গ দ্বারা তা শুনতে পাচ্ছিলেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২. নিশ্চয় আমি আপনার রব, অতএব আপনার জুতা জোড়া খুলে ফেলুন, কারণ আপনি পবিত্ৰ ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছেন।(১)

(১) জুতা খোলার নির্দেশ দেয়ার এক কারণ এই যে, স্থানটি ছিল সম্রাম প্রদর্শনের এবং জুতা খুলে ফেলা তার অন্যতম আদব। দ্বিতীয় কারণ যা কোন কোন বর্ণনা থেকে জানা যায় তা হলো, মূসা আলাইহিস সালাম-এর জুতাদ্বয় ছিল মৃত গাধার চর্মনির্মিত। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, হাসান বসরী ও ইবনে জুরাইজ রাহিমাহুমাল্লাহ থেকে প্রথমোক্ত কারণই বর্ণিত আছে। কেউ কেউ বলেনঃ বিনয় ও নম্রতার আকৃতি ফুটিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ নির্দেশ দেয়া হয়। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে কবরস্থানে জুতা পায়ে হাঁটতে দেখে বলেছিলেনঃ “তুমি তোমার জুতা খুলে নাও” (নাসায়ীঃ ২০৪৮, আবু দাউদঃ ৩২৩০, ইবনে মাজহঃ ১৫৬৮) জুতা পাক হলে তা পরিধান করে সালাত আদায় করা সব ফেকাহবিদের মতে জায়েয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে পাক জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা প্রমাণিতও রয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২) নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তুমি তোমার জুতা খুলে ফেল,(1) কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ।’ (2)

(1) জুতা খোলার আদেশ এই কারণেই দেওয়া হয়েছিল যে, এতে আছে বিনয়ের প্রকাশ ও অধিক সম্মান প্রদর্শন। কেউ কেউ বলেন, জুতাগুলি এমন গাধার চামড়া দিয়ে তৈরী ছিল, যা পাকা করা হয়নি। আর পশুর চামড়া বিশেষ পদ্ধতিতে পাকা করার পরই পবিত্র হয়। কিন্তু এ মত সুচিন্তিত নয়। কারণ, চামড়া পাকা করা ব্যতীত জুতা বানানো যায় কিভাবে? অথবা উপত্যকার পবিত্রতার কারণে জুতা খুলতে বলা হয়েছিল; যেমন কুরআনের শব্দে তা প্রকাশ। এ ছাড়াও এর দুটি দিক রয়েছে; আর তা হল, এ আদেশ উপত্যকার সম্মানার্থে ছিল অথবা যাতে উপত্যকার পবিত্রতার প্রভাব খালি পায়ে মূসা (আঃ)-এর অভ্যন্তরে বেশী শোষণ করতে পারে, তার জন্য ছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(2) طُوى (তুওয়া) ঐ উপত্যকার নাম।