আফারআইতাল্লাযী কাফার বিআ-য়া-তিনা-ওয়াক-লা লাঊতাইয়ান্না মা-লাওঁ ওয়া ওয়ালাদা-।উচ্চারণ
তারপর তুমি কি দেখেছো সে লোককে যে আমার আয়াতসমূহ মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং বলে, আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দান করা হতে থাকবেই? ৪৭ তাফহীমুল কুরআন
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে (আখেরাতেও) আমাকে অবশ্যই সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে। #%৩৮%#মুফতী তাকী উসমানী
তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলেঃ আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই।মুজিবুর রহমান
আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন যে, আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না এবং বলেঃ আমাকে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অবশ্যই দেয়া হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি কি লক্ষ্য করেছ সেই ব্যক্তিকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সে বলে, ‘আমাকে ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবেই ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ* যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, ‘আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে।’আল-বায়ান
তুমি কি লক্ষ্য করেছ সে ব্যক্তিকে যে আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে আর সে বলে, ‘আমাকে অবশ্য অবশ্যই সম্পদ আর সন্তানাদি দেয়া হবে।’তাইসিরুল
তুমি কি তাকে দেখেছ যে আমাদের বাণীসমূহ অবিশ্বাস করে ও বলে -- "আমাকে আলবৎ ধনদৌলত ও সন্তানসন্ততি দেয়া হবে"?মাওলানা জহুরুল হক
৪৭
অর্থাৎ সে বলে তোমরা আমাকে যতই পথভ্রষ্ট ও দূরাচার বলতে এবং আল্লাহর আযাবের ভয় দেখাতে থাকো না কেন আমি তো আজো তোমাদের চাইতে অনেক বেশী সচ্ছল এবং আগামীতেও আমার প্রতি অনুগ্রহ ধারা বর্ষিত হতে থাকবে। আমরার ধন-দৌলত, প্রভাব,-প্রতিপত্তি ও বৈষয়িক ক্ষমতা এবং আমার খ্যাতিমান সন্তানদেরকে দেখো। আমার জীবনের কোথায় তোমরা আমার প্রতি আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছো?--এটা মক্কার কোন একজন মাত্র লোকের চিন্তাধারা ছিল না বরং মাক্কার কাফেরদের প্রত্যেক সরদার ও মাতব্বর এ বিকৃত চিন্তায় ভুগছিল।
সহীহ বুখারীতে হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত্ত্ (রাযি.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি মক্কা মুকাররমায় লৌহ কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতাম। সেই সুবাদে মুশরিকদের এক সর্দারের কাছে আমার কিছু পাওনা সাব্যস্ত হয়েছিল। তার নাম ছিল ‘আস ইবন ওয়াইল। আমি তা চাইতে গেলে সে বলল, তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) অস্বীকার না করবে ততক্ষণ তোমার টাকা দেব না। আমি বললাম, তুমি যদি মর, তারপর আবার জীবিত হও তবুও আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করতে পারব না। ‘আস ইবন ওয়াইল এ কথার উত্তরে বলল, মৃত্যুর পর আমি পুনরুজ্জীবিত হব? তিনি বললেন, অবশ্যই। ‘আস বলল, ঠিক আছে মৃত্যুর পর যদি আমি জীবিত হই সেখানেও আমার প্রচুর অর্থ-সম্পদ ও সন্তানাদি থাকবে। কাজেই তখনই আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে।
৭৭. আপনি কি জেনেছেন (এবং আশ্চর্য হয়েছেন) সে ব্যক্তি সম্পর্কে, যে আমাদের আয়াতসমূহে কুফরী করে এবং বলে, আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে।(১)
(১) খাব্বাব ইবনে আরত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ তিনি ‘আস ইবনে ওয়ায়েল কাফেরের কাছে কিছু পাওনার তাগাদায় গেলে সে বললঃ তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ঈমান প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব না। খাব্বাব জওয়াব দিলেনঃ এরূপ করা আমার পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভবপর নয়, চাই কি তুমি মরে পুনরায় জীবিত হতে পার। আ’স বললঃ ভালো তো, আমি কি মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হব? এরূপ হলে তাহলে তোমার ঋণ তখনই পরিশোধ করব। কারণ, তখনও আমার হাতে ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততি থাকবে। (বুখারীঃ ১৯৮৫, ২০৯১, ২১৫৫, ২২৭৫ মুসলিমঃ ২৭৯৫) অর্থাৎ সে বলে, তোমরা আমাকে যতই পথভ্রষ্ট ও দুরাচার বলতে এবং আল্লাহর আযাবের ভয় দেখাতে থাকো না কেন আমি তো আজো তোমাদের চাইতে অনেক বেশী সচ্ছল এবং আগামীতেও আমার প্রতি অনুগ্রহ ধারা বর্ষিত হতে থাকবে। তাই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এ বিকৃত মনমানসিকতা উল্লেখ করে সেটার উত্তর দিয়ে বলেছেনঃ সে কিরূপে জানতে পারল যে, পুনরায় জীবিত হওয়ার সময়ও তার হাতে ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততি থাকবে? সে কি উকি মেরে অদৃশ্যের বিষয়সমূহ জেনে নিয়েছে?
(৭৭) তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, অবশ্যই আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে।