ওয়া ইযা-তুতলা-আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন ক-লাল্লাযীনা কাফারূলিল্লাযীনা আ-মানূ আইয়ুল ফারীকাইনি খাইরুম মাক-মাওঁ ওয়া আহছানুনাদিইইয়া-।উচ্চারণ
এদেরকে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত শুনানো হয় তখন অস্বীকারকারীরা ঈমানদারদেরকে বলে, “বলো, আমাদের দু’দলের মধ্যে কে ভালো অবস্থায় আছে এবং কার মজলিসগুলো বেশী জাঁকালো?” ৪৫ তাফহীমুল কুরআন
তাদের সামনে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেরগণ মুমিনদেরকে বলে, বল, আমাদের এ দুই দলের মধ্যে কোন দল মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উৎকৃষ্ট? #%৩৭%#মুফতী তাকী উসমানী
তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করা হলে কাফিরেরা মু’মিনদেরকে বলেঃ দু’ দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেয়তর ও মজলিস হিসাবে কোনটি উত্তম?মুজিবুর রহমান
যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন কাফেররা মুমিনদেরকে বলেঃ দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্তবায় শ্রেষ্ঠ এবং কার মজলিস উত্তম?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদের নিকট আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্ত হলে কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে উত্তম ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদেরকে বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কোনটি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উত্তম?’আল-বায়ান
আমার স্পষ্ট আয়াত যখন তাদের নিকট আবৃত্তি করা হয় তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, দু’টি দলের মধ্যে মর্যাদায় কোনটি শ্রেষ্ঠ আর মজলিস হিসেবে অধিক উত্তম?তাইসিরুল
আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পড়া হয় তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের -- "দুই দলের মধ্যে কোনটি প্রতিষ্ঠার দিকে শ্রেষ্ঠতর ও জাঁকজমকে গুলজার?"মাওলানা জহুরুল হক
৪৫
অর্থাৎ তাদের যুক্তি ছিল এ রকমঃ দেখে নাও দুনিয়ায় কার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামত বর্ষণ করা হচ্ছে? কার গৃহ বেশী জমকালো? কার জীবন যাত্রার নাম বেশী উন্নত? কার মজলিসগুলো বেশী আড়ম্বরপূর্ণ? যদি আমরা এসব কিছুর অধিকারী হয়ে থাকে এবং তোমরা এসব থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকো তাহলে তোমরা নিজেরাই চিন্তা করে দেখো, এটা কেমন করে সম্ভবপর ছিল যে, আমরা বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকেও এভাবে দুনিয়ার কাজ লুটে যেতে থাকবো আর তোমরা হকের পথে অগ্রসর হয়েও এ ধরনের ক্লান্তিকর জীবন যাপন করে যেতে থাকবে? আরো বেশী ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল কাহফ ৩৭-৩৮ টীকা।
অর্থাৎ যখন কুরআনের সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ আয়াত শুনে লা-জবাব হয়ে যেত তখন তারা দুনিয়ার বিত্ত-বৈভব ও ঠাট-বাট দ্বারা গৌরব দেখাত এবং ধনজনের প্রাচুর্যকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে পেশ করত। পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা এরই জবাব দিয়েছেন। -অনুবাদক
৭৩. আর তাদের কাছে আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ তোলাওয়াত করা হলে কাফেররা মুমিনদেরকে বলে, দু'দলের মধ্যে কারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে উত্তম?(১)
(১) অর্থাৎ কাফেরদের যুক্তি ছিল এ রকমঃ দেখে নাও দুনিয়ায় কার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামত বর্ষণ করা হচ্ছে? কার গৃহ বেশী জমকালো? কার জীবন যাত্রার মান বেশী উন্নত? কার মজলিসগুলো বেশী আড়ম্বরপূর্ণ? যদি আমরা এসব কিছুর অধিকারী হয়ে থাকি এবং তোমরা এসব থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকো তাহলে তোমরা নিজেরাই চিন্তা করে দেখো, এটা কেমন করে সম্ভবপর ছিল যে, আমরা বাতিলের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকেও এভাবে দুনিয়ার মজা লুটে যেতে থাকবো আর তোমরা হকের পথে অগ্রসর হয়েও এ ধরনের ক্লান্তিকর জীবন যাপন করে যেতে থাকবে? (দেখুন, ফাতহুল কাদীর; সা’দী)
কাফেরদের এই বিভ্রান্তি পবিত্র কুরআন এভাবে দূর করেছে যে, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী নেয়ামত ও সম্পদ আল্লাহর প্রিয়পাত্ৰ হওয়ার আলামত নয় এবং দুনিয়াতেও একে কোন ব্যক্তিগত পরাকাষ্ঠার লক্ষণ মনে করা হয় না। কেননা, দুনিয়াতে অনেক নির্বোধ মূর্খও এগুলো জ্ঞানী ও বিদ্বানের চাইতেও বেশী লাভ করে। বিগত যুগের ইতিহাস খুঁজে দেখলে এ সত্য উদঘাটিত হবে যে, পৃথিবীতে এ পরিমাণ তো বটেই, বরং এর চাইতেও বেশী ধন-দৌলত স্তুপীকৃত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো তো তাদের কোন কাজে আসেনি। (দেখুন, সাদী)
(৭৩) তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে আবৃত্ত হলে অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীদেরকে বলে, ‘দু’দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসাবে কোনটি উত্তম?’ (1)
(1) মক্কার কাফেররা দরিদ্র মুসলিম ও ধনী কুরাইশ তথা তাদের সভা ও ঘর-বাড়ির মধ্যে তুলনা করে কুরআনী আহবানের মোকাবেলা করে থাকে। মুসলিমদের মধ্যে আম্মার, বিলাল, সুহাইবের মত দরিদ্র মানুষ রয়েছেন। তাঁদের পরামর্শগৃহ (মন্ত্রণালয়) ‘দারুল আরকাম’। অন্য দিকে কাফেরদের মধ্যে রয়েছে আবু জাহল, নযর বিন হারিস, উতবা, শাইবা প্রভৃতির মত নেতৃস্থানীয় লোক, তাদের উঁচু উঁচু প্রাসাদ রয়েছে এবং মন্ত্রণাসভার জন্য রয়েছে ‘দারুন নাদওয়াহ’ যা অতি সুন্দর।