وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمۡرِ رَبِّكَۖ لَهُۥ مَا بَيۡنَ أَيۡدِينَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَيۡنَ ذَٰلِكَۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيّٗا

ওয়ামা-নাতানাঝঝালুইল্লা-বিআমরি রব্বিকা লাহূমা-বাইনা আইদীনা-ওয়ামাখালফানা ওয়ামা-বাইনা যা-লিকা ওয়ামা-ক-না রব্বুকা নাছিইইয়া-।উচ্চারণ

হে মুহাম্মাদ! ৩৯ আমি আপনার রবের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না। যা কিছু আমাদের সামনে ও যা কিছু পেছনে এবং যা কিছু এর মাঝখানে আছে তার প্রত্যেকটি জিনিসের তিনিই মালিক এবং আপনার রব ভুলে যান না। তাফহীমুল কুরআন

(এবং ফেরেশতাগণ তোমাকে বলে,) আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না। #%৩৩%# যা-কিছু আমাদের সামনে, যা-কিছু আমাদের পিছনে এবং যা-কিছু এ দু’য়ের মাঝখানে আছে, তা সব তাঁরই মালিকানাধীন। তোমার প্রতিপালক ভুলে যাওয়ার নন।মুফতী তাকী উসমানী

আমরা আপনার রবের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করিনা; যা আমাদের অগ্রে ও পশ্চাতে আছে এবং যা এই দু’এর অন্তবর্তী তা তাঁরই এবং তোমার রাব্ব কোনো কিছু ভুলেননা।মুজিবুর রহমান

(জিব্রাইল বললঃ) আমি আপনার পালনকর্তার আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, যা আমাদের পশ্চাতে আছে এবং যা এ দুই-এর মধ্যস্থলে আছে, সবই তাঁর এবং আপনার পালনকর্তা বিস্মৃত হওয়ার নন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না; যা আমাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে ও যা এই দুই-এর অন্তর্বর্তী তা তাঁরই এবং আপনার প্রতিপালক ভুলার নন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

(জিবরীল বলল) ‘আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া অবতরণ করি না। যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আছে আমাদের পিছনে এবং যা রয়েছে এতদোভয়ের মধ্যে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। আর আপনার রব ভুলে যান না।আল-বায়ান

(ফেরেশতাগণ বলে) ‘আমরা আপনার প্রতিপালকের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আমাদের পেছনে আছে আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা তাঁরই, আপনার প্রতিপালক কক্ষনো ভুলে যান না।তাইসিরুল

আর -- "আমরা অবতরণ করি না তোমার প্রভুর নির্দেশ ব্যতীত, যা কিছু আমাদের সামনে রয়েছে ও যা কিছু আমাদের পেছনে আর যা কিছু রয়েছে এই দুইয়ের মধ্যে সে সমস্ত তাঁরই, আর তোমার প্রভু ভুলো নন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৯

এ সম্পূর্ণ প্যারাগ্রাফটি একটি প্রাসঙ্গিক বাক্য। একটি ধারাবাহিক বক্তব্য শেষ করে অন্য একটি ধারাবাহিক বক্তব্য শুরু করার আগে এটি বলা হয়েছে। বক্তব্য উপস্থাপনার ধরন পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে যে, এ সূরাটি দীর্ঘকাল পরে এমন এক সময় নাযিল হয় যখন নবী ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণ অত্যন্ত দুর্ভাবনা ও দুশ্চিন্তার সময় অতিবাহিত করেছিলেন। নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণ সর্বক্ষণ অহীর অপেক্ষা করতেন। এর সাহায্যে তাঁরা নিজেদের পথের দিশা পেতেন এবং মানসিক প্রশান্তি ও সান্ত্বনাও লাভ করতেন। অহীর আগমনে যতই বিলম্ব হচ্ছিল ততই তাদের অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় জিব্রীল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের সাহচর্যে আগমন করলেন। প্রথমে তিনি তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কিত ফরমান শুনালেন তারপর সামনের দিকে অগ্রসর হবার আগে আল্লাহর ইঙ্গিতে নিজের পক্ষ থেকে একথা ক’টি বললেন। একথা ক’টির মধ্যে রয়েছে এত দীর্ঘকাল নিজের গরহাজির থাকার ওজর, আল্লাহর পক্ষ থেকে সান্ত্বনা বাণী এবং এ সঙ্গে সবর ও সংযম অবলম্বন করার উপদেশ ও পরামর্শ।

বক্তব্যের অভ্যন্তর থেকেই শুধু এ সাক্ষ্যের প্রকাশ হচ্ছে না বরং বিভিন্ন হাদীসও এর সমর্থন করেছে। ইবনে জারীর, ইবনে কাসীর ও রুহুল মা’আনী ইত্যাদির লেখকগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় এ হাদীসগুলো উদ্ধৃত করেছেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতে বেশ বিলম্ব করছিলেন। তখন কতিপয় কাফের এই বলে উপহাস করছিল যে, তার আল্লাহ তাকে পরিত্যাগ করেছে (নাউযুবিল্লাহ)। অবশেষে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যখন আসলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, আপনি আমার কাছে আরও ঘন ঘন আসেন না কেন? সেই প্রেক্ষাপটেই এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এতে আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের উত্তর বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের অবতরণ সর্বদা আল্লাহ তাআলার আদেশক্রমেই হয়ে থাকে। বিশ্বজগতের পক্ষে কখন কোনটা কল্যাণকর একমাত্র তিনিই তা ভালো জানেন, যেহেতু আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের অন্তর্গত সবকিছুর মালিক তিনিই। আমার আগমন কখনও দেরীতে হলে তার পেছনেও আল্লাহ তাআলার কোন হেকমত নিহিত থাকে, যা কেবল তিনিই জানেন। আমার আগমন বিলম্বিত হওয়ার কারণ এ নয় যে, তিনি ওহী নাযিল করার বিষয়টা ভুলে গেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৪. আর আমরা আপনার রব-এর আদেশ ছাড়া অবতরণ করি না(১); যা আমাদের সামনে ও পিছনে আছে ও যা এ দু’য়ের অন্তর্বতী তা তারই। আর আপনার রব বিস্মৃত হন না।(২)

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবীগণ অত্যন্ত দুর্ভাবনা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় অতিবাহিত করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ সর্বক্ষণ অহীর অপেক্ষা করতেন। এর সাহায্যে তারা নিজেদের পথের দিশা পেতেন এবং মানসিক প্রশান্তি ও সান্ত্বনাও লাভ করতেন। অহীর আগমনে যতই বিলম্ব হচ্ছিল ততই তাদের অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় জিবরীল আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের সাহচর্যে আগমন করলেন। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলকে বললেনঃ আপনি আমাদের নিকট আরো অধিকহারে আসতে বাধা কোথায়? তখন এ আয়াত নাযিল হয় ৷ (বুখারী: ৪৭৫৫) একথা ক’টির মধ্যে রয়েছে এত দীর্ঘকাল জিবরীলের নিজের গরহাজির থাকার ওজর, আল্লাহর পক্ষ থেকে সান্ত্বনাবাণী এবং এ সংগে সবর ও সংযম অবলম্বন করার উপদেশ ও পরামর্শ।

(২) বলা হয়েছে, আপনার রব বিস্মৃত হবার নয়। তিনি ভুলে যান না। জিবরীল বেশী বেশী নাযিল হলেই যে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে ভুলেননি বা তার বান্দাদের জন্য বিধান দেয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আসবে নইলে নয় ব্যাপারটি এরূপ নয়। (ফাতহুল কাদীর) মহান আল্লাহ তার ওয়াদা পূর্ণ করবেন। তার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করবেন এবং তার রাসূল ও ঈমানদারদেরকে রক্ষা করবেন। এটাই মূল কথা। তিনি কোন কিছুই ভুলে যান না। সুতরাং তাড়াহুড়ো বা জিবরীলকে না দেখে অস্থির হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা হালাল করেছেন তা হালাল আর যা হারাম করেছেন তা হারাম। যে সমস্ত ব্যাপারে চুপ থেকেছেন কোন কিছু জানাননি সেগুলো নিরাপদ। সুতরাং সে সমস্ত নিরাপদ বিষয় তোমরা গ্ৰহণ করতে পার; কেননা আল্লাহ ভুলে যাওয়া কিংবা বিস্মৃতি হওয়ার মত গুণে গুণান্বিত নন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৩৭৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হালাল বা হারাম ঘোষণা করেছেন সেগুলোও আল্লাহর পক্ষ থেকেই। কারণ, রাসূল নিজ থেকে কিছুই করেননি। শরীআতের প্রতিটি কর্মকাণ্ড আল্লাহর নির্দেশেই তিনি প্রবর্তন করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৪) (জিবরীল বলল,) ‘আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতিরেকে অবতরণ করি না;(1) আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে ও এই দু-এর অন্তর্বর্তী যা আছে তা তাঁরই। আর আপনার প্রতিপালক ভুলবার নন।’

(1) নবী (সাঃ) একবার জিবরীলের নিকট বেশী বেশী ও সত্বর সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করলে এই আয়াত অবর্তীণ হয়।