وَرَفَعۡنَٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا

ওয়া রফা‘না-হু মাক-নান ‘আলিয়া-।উচ্চারণ

আর তাকে আমি উঠিয়েছিলাম উন্নত স্থানে। ৩৪ তাফহীমুল কুরআন

আমি তাকে এক উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম। #%৩০%#মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমি তাকে দান করেছিলাম উচ্চ মর্যাদা।মুজিবুর রহমান

আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং আমি তাকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।আল-বায়ান

আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।তাইসিরুল

আর আমরা তাঁকে উন্নীত করেছিলাম অত্যুচ্চ পর্যায়ে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৪

এর সোজা অর্থ হচ্ছে আল্লাহ‌ হযরত ইদরীসকে (আ) উন্নত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন। ইসরাঈলী বর্ণনাসমূহ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে একথা আমাদের এখানেও প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে যে, আল্লাহ‌ হযরত ইদরীসকে (আ) আকাশে তুলে নিয়েছিলেন, বাইবেলে তো শুধু এতটুকু বলা হয়েছে যে, তিনি অদৃশ্য হয়ে গেছেন কারণ “আল্লাহ তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন।” কিন্তু তালমুদে তার সম্পর্কে একটি দীর্ঘ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। কাহিনীটি এভাবে শেষ করা হয়েছে যে, “হনোক একটি ঘূর্ণির মধ্যে অগ্নিরথ ও অশ্বসহ আকাশে আরোহণ করলেন।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘উচ্চ মর্যাদা’ দ্বারা নবুওয়াত ও রিসালাত এবং তাকওয়া ও পরহেজগারী বোঝানো হয়েছে। মানুষের পক্ষে এটাই সর্বোচ্চ মর্যাদা। হযরত ইদরীস আলাইহিস সালামের যামানায় আল্লাহ তাআলা তাঁকেই এ মর্যাদা দান করেছিলেন। বাইবেলে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নিয়েছিলেন। কোন-কোন তাফসীর গ্রন্থেও এ রকমের কিছু রিওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে কেউ কেউ বলছেন, আয়াতের ইশারা সে ঘটনার দিকেই। কিন্তু সনদের বিচারে সেসব রিওয়ায়াত নিতান্তই দুর্বল, যার উপর মোটেই নির্ভর করা যায় না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৭. আর আমরা তাকে উন্নীত করেছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।(১)

(১) অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইদরীস আলাইহিস সালামকে উচ্চ মর্তবায় সমুন্নত করেছেন। উদ্দেশ্য এই যে, তাকে উচ্চ স্থান তথা আকাশে অবস্থান করার ব্যবস্থা করেছি। (ইবন কাসীর) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যখন আমাকে আকাশে উঠানো হয়েছিল মি'রাজের রাত্ৰিতে আমি ইদরীসকে চতুর্থ আসমানে দেখেছি।’ (তিরমিযী: ৩১৫৭)

কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, ইদরীস আলাইহিস সালামকে জীবিত অবস্থায় আকাশে তুলে নেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে ইবনে কাসীর বলেনঃ এটা ক'ব আল-আহবারের ইসরাঈলী বৰ্ণনা। এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণযোগ্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। কাজেই আকাশে জীবিত অবস্থায় তুলে নেয়ার বিষয়টি স্বীকৃত নয়। আয়াতের অন্য অর্থ হচ্ছে, তাকে উঁচু স্থান জান্নাতে দেয়া হয়েছে। অথবা তাকে নবুওয়াত ও রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৭) এবং আমি তাকে সুউচ্চ স্থানে উঠিয়ে নিয়েছিলাম। (1)

(1) কথিত আছে যে, ইদরীস (আঃ) আদম (আঃ)-এর পর প্রথম নবী ছিলেন এবং নূহ (আঃ) বা তাঁর পিতার দাদা ছিলেন। সর্বপ্রথম তিনিই কাপড় সিলাই শুরু করেন। ‘সুউচ্চ স্থানে’র তাৎপর্য্য কি? কিছু মুফাসসির মনে করেন যে, ঈসা (আঃ)-এর মত ইদরীস (আঃ)-কেও আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কুরআনের শব্দ এই অর্থের জন্য পরিষ্কার নয় এবং সহীহ হাদীসেও এ কথার উল্লেখ পাওয়া যায় না। অবশ্য ইস্রাঈলী বর্ণনায় তাঁকে আকাশে তুলে নেওয়ার কথা পাওয়া যায়, যা এ অর্থ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। সেই জন্য সঠিক অর্থ এটাই মনে হয় যে, ‘আমি তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছিলাম।’ সেই মর্যাদা ও সম্মান যা তাঁকে নবুঅত দান করার পর দেওয়া হয়েছিল। আর আল্লাহই ভাল জানেন।