ক-লা ছালা-মুন ‘আলাইকা ছাআছতাগফিরুলাকা রববী ইন্নাহূক-না বী হাফিইইয়া-।উচ্চারণ
ইবরাহীম বললো, “আপনাকে সালাম। আমি আমার রবের কাছে আপনাকে মাফ করে দেবার জন্য দোয়া করবো। ২৭(ক) আমার রব আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান। তাফহীমুল কুরআন
ইবরাহীম বলল, আপনার প্রতি (বিদায়ী) সালাম। #%২৫%# আমি আমার প্রতিপালকের কাছে আপনার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করব। #%২৬%# নিঃসন্দেহে তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।মুফতী তাকী উসমানী
ইবরাহীম বললঃ তোমার নিকট হতে বিদায়; আমি আমার রবের নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।মুজিবুর রহমান
ইব্রাহীম বললেনঃ তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি মেহেরবান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ইব্রাহীম বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করব, নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইবরাহীম বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল’।আল-বায়ান
ইবরাহীম বলল, ‘আপনার প্রতি সালাম, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তিনি আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান।তাইসিরুল
তিনি বললেন, "তোমার উপরে শান্তি, আমি অবশ্য আমার প্রভুর কাছে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিঃসন্দেহ তিনি আমার প্রতি পরম স্নেহময়।মাওলানা জহুরুল হক
২৭(ক)
ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আত্ তাওবা, ১১২ টীকা।
সূরা তাওবায় (৯ : ১১৪) আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পিতার মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করার এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই সময়, যখন ‘পিতার ভাগ্যে ঈমান নেই’-একথা তার জানা ছিল না। পরবর্তীতে যখন এটা তিনি জানতে পারলেন, তখন এরূপ দু‘আ করা থেকে নিবৃত্ত হলেন।
৪৭. ইবরাহীম বললেন, আপনার প্রতি সালাম।(১) আমি আমার রব-এর কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব(২), নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি খুবই অনুগ্রহশীল।
(১) ইবরাহীম আলাইহিস সালাম أَبَتِ বলে মিষ্ট ভাষায় পিতাকে সম্বোধন করেছিলেন। কিন্তু আযর তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করার হুমকি এবং বাড়ী থেকে বের হয়ে যাওয়ার আদেশ জারি করে দিল। তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেনঃ سَلَامٌ عَلَيْكَ এখানে سلام শব্দটি অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, বয়কটের সালাম অর্থাৎ কারও সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ভদ্রজন্যোচিত পন্থা হচ্ছে কথার উত্তর না দিয়ে সালাম বলে পৃথক হয়ে যাওয়া। পবিত্র কুরআন আল্লাহর প্রিয় ও সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের প্রশংসায় বলেঃ “মূর্খরা যখন তাদের সাথে মূর্খীসুলভ তর্কবিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তখন তারা তাদের মোকাবেলা করার পরিবর্তে সালাম শব্দ বলে দেন।” (সূরা আল-ফুরকান: ৬৩) অথবা এর উদ্দেশ্য এই যে, বিরুদ্ধাচরণ সত্বেও আমি আপনার কোন ক্ষতি করব না। (ফাতহুল কাদীর)
(২) কোন কাফেরের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা শরীআতের আইনে নিষিদ্ধ ও নাজায়েয। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচা আবু তালেবকে বলেছিলেনঃ “আল্লাহর কসম, আমি আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব, যে পর্যন্ত না আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে নিষেধ করে দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাযিল হয়: “নবী ও ঈমানদারদের পক্ষে মুশরেকদের জন্যে ইস্তেগফার করা বৈধ নয়।” (সূরা আত-তাওবাহঃ ১১৩) এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচার জন্যে ইস্তেগফার ত্যাগ করেন।
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কর্তৃক তার পিতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার উত্তর এই যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ওয়াদা “আপনার জন্যে আমার প্রভুর কাছে ইস্তেগফার করব।” এটা নিষেধাজ্ঞার পূর্বেকার ঘটনা। নিষেধ পরে করা হয়। তারপর তিনি তার পিতার জন্য সুপারিশ করা পরিত্যাগ করেছিলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “ইবরাহীম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল, তাকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে; তারপর যখন এটা তার কাছে সুস্পষ্ট হল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন ইবরাহীম তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। ইবরাহীম তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।” (সূরা আত-তাওবাহঃ ১১৪)
তারপরও ইবরাহীম আলাইহিস সালাম হাশরের মাঠে যখন তার পিতাকে কুৎসিত অবস্থায় দেখবেন তখন তার জন্য কোন দোআ বা সুপারিশ করবেন না। এ ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হাশরের মাঠে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার পিতাকে দেখে বলবেন, হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে আজকের দিনে অপমান থেকে রক্ষা করার ওয়াদা করেছেন। আমার পিতার অপমানের চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে? আল্লাহ তা’আলা বলবেনঃ “আমি কাফেরদের জন্য জান্নাত হারাম করেছি।” তারপর আল্লাহ তা'আলা তখন তাকে তার পায়ের নীচে তাকাবার নির্দেশ দিবেন। তিনি তাকিয়ে একটি মৃত দুৰ্গন্ধযুক্ত পঁচা জানোয়ার দেখতে পাবেন, ফলে তিনি তার জন্য সুপারিশ না করেই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (বুখারীঃ ৩১৭২, ৪৪৯০, ৪৪৯১)
(৪৭) ইব্রাহীম বলল, ‘তোমার উপর সালাম; (1) আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, (2) নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।
(1) এই সালাম অভিবাদনের জন্য নয়; যেমন এক মুসলিম অন্য মুসলিমকে করে থাকে; বরং এটি হল কথা বলা বন্ধ করার ইঙ্গিত। যেমন মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘‘তাদেরকে যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম।’’ (সূরা ফুরকানঃ ৬৩) অর্থাৎ, তারা চুপ হয়ে যায়। আর এর মধ্যে ঈমানদার ও আল্লাহর প্রকৃত বান্দাদের আচরণ বর্ণনা করা হয়েছে।
(2) ইবরাহীম (আঃ) এ কথা ঐ সময় বলেছিলেন, যখন মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নিষেধ হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান ছিল না। অতঃপর যখন তিনি জানতে পারলেন, তখন সাথে সাথে প্রার্থনা করা বন্ধ করে দিলেন। (সূরা তাওবাঃ ১১৪)