يَـٰٓأُخۡتَ هَٰرُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ ٱمۡرَأَ سَوۡءٖ وَمَا كَانَتۡ أُمُّكِ بَغِيّٗا

ইয়াউখতা হা-রূনা মা-ক-না আবূকিম রআ ছাওইওঁ ওয়ামা-কানাত উম্মুকি বাগিইইয়া-।উচ্চারণ

হে হারুণের বোন! ১৯ না তোমার বাপ কোন খারাপ লোক ছিল, না তোমার মা ছিল কোন ব্যভিচারিনী।” ১৯(ক) তাফহীমুল কুরআন

ওহে হারূনের বোন! #%১৭%# তোমার পিতাও কোন খারাপ লোক ছিল না এবং তোমার মাও ছিল না অসতী নারী।মুফতী তাকী উসমানী

হে হারূন ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলনা এবং তোমার মাতাও ছিলনা ব্যভিচারিণী।মুজিবুর রহমান

হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘হে হারূন-ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিণী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না। আর তোমার মা-ও ছিল না ব্যভিচারিণী’।আল-বায়ান

ওহে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না, আর তোমার মাও ছিল না কোন অসতী নারী।’তাইসিরুল

হে হারূনের ভগিনী! তোমার বাপ তো খারাপ লোক ছিল না এবং তোমার মা’ও পাপিষ্ঠা নয়!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৯

এ শব্দগুলোর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, এখানে এগুলোর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা যায় এবং এ কথা মনে করা যায় যে, হযরত মারয়ামের হারুন নামে কোন ভাই ছিল। দ্বিতীয় অর্থটি হচ্ছে, আরবী বাগধারা অনুযায়ী اُخْتُ هَارُوْنَ মানে হচ্ছে হারুন পরিবারের মেয়ে। কারণ আরবীতে এটি একটি প্রচলিত বর্ণনা পদ্ধতি। যেমন মুদার গোত্রের লোককে يَا اَخَا مُضَرَ হে মুদারের ভাই এবং হামাদান গোত্রের লোককে يَا اَخَا هَمَدَانَ হে হামাদানের ভাই বলে ডাকা হয়। প্রথম অর্থটিকে প্রাধান্য দেবার পক্ষে যুক্তি হচ্ছে এই যে, কোন কোন হাদীসে নবী ﷺ থেকেই এ অর্থটি উদ্ধৃত হয়েছে। আর দ্বিতীয় অর্থটির সমর্থনে যুক্তি হচ্ছে এই যে, পরিবেশও পরিস্থিতি এই অর্থটিই দাবী করে। কারণ এ ঘটনার কারণে জাতির মধ্যে যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল তার ফলে বাহ্যত জানা যায় না যে, হারুন নামের এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কুমারী বোন শিশু সন্তান কোলে নিয়ে চলে এসেছিল। বরং যে জিনিসটি বিপুল সংখ্যক লোকদেরকে হযরত মারয়ামের চারদিকে সমবেত করে দিয়েছিল সেটি এ হতে পারতো যে বনী ইসরাঈলের পবিত্রতম ঘরানা হারুন বংশের একটি মেয়েকে এ অবস্থায় পাওয়া গেছে। যদিও একটি মারফূ হাদীসের উপস্থিতিতে অন্য কোন ব্যাখ্যা ও অর্থ গ্রহণ করা নীতিগতভাবে সঠিক হতে পারে না তা থেকে এ অর্থ বের হয় না যে, এ শব্দগুলোর অর্থ অবশ্যই “হারুনের বোন”ই হবে। মুগীরা ইবনে শু’বা (রা.) বর্ণিত হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, নাজরানের খৃস্টানরা হযরত মুগীরার সামনে আপত্তি উত্থাপন করে বলে, কুরআনে হযরত মারয়ামের হারুণের বোন বলা হয়েছে, অথচ হযরত হারুন তাঁর শত শত বছর আগে দুনিয়ার বুক থেকে বিদায় নিয়েছেন। হযরত মুগীরা তাদের এ আপত্তির জবাব দিতে পারেননি এবং তিনি এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এ ঘটনাটি বলেন। তাঁর কথা শুনার পর নবী ﷺ বলেন “তুমি এ জবাব দাও নি কেন যে বনী ইসরাঈলরা নবী ও সৎ লোকদের সাথে যুক্ত করে নিজেদের নাম রাখতো? ” নবীর ﷺ এ উক্তি থেকে শুধুমাত্র এতটুকুই বক্তব্য পাওয় যায় যে, লা-জওয়াবটি দিয়ে আপত্তি দূর করা যেতে পারতো।

১৯(ক)

যারা হযরত ঈসার (আ) অলৌকিক জন্ম অস্বীকার করে তারা এ কথার কি যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারে যে, হযরত মারয়ামকে শিশু সন্তান কোলে করে নিয়ে আসতে দেখে তার জাতির লোকেরা তাঁকে এক নাগাড়ে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতে লাগলো কেন?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘হারূনের বোন’ কথাটির দু’টি অর্থ হতে পারে। (ক) সম্ভবত হযরত মারয়াম আলাইহাস সালাম হযরত হারূন আলাইহিস সালামের বংশধর ছিলেন আর সে হিসেবেই তাকে ‘হারূনের বোন’ বলা হয়েছে, যেমন হযরত হুদ আলাইহিস সালামকে ‘আদের ভাই’ বলা হয়েছে। (খ) আবার এটাও সম্ভব যে, তাঁর কোন ভাইয়ের নাম ছিল হারূন, যিনি একজন বুযুর্গ লোক ছিলেন। এ কারণে হয়ত তিরস্কারকে তীব্রতর করার লক্ষ্যে তারা তাঁর নাম উল্লেখ করেছিল।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮. হে হারূনের বোন!(১) তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মা'ও ছিল না ব্যভিচারিণী।(২)

(১) মুসা আলাইহিস সালাম-এর ভাই ও সহচর হারূন আলাইহিস সালাম মারইয়ামের আমলের শত শত বছর পুর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এখানে মারইয়ামকে হারুন-ভগ্নি বলা বাহ্যিক অর্থের দিক দিয়ে শুদ্ধ হতে পারে না। মুগীরা ইবনে শো'বা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীদের কাছে প্রেরণ করেন, তখন তারা প্রশ্ন করে যে, তোমাদের কুরআনে মারইয়ামকে হারূন-ভগিনী বলা হয়েছে। অথচ মুগীরা এ প্রশ্নের উত্তর জানতেন না। ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ঘটনা ব্যক্ত করলে তিনি বললেনঃ তুমি বলে দিলে না কেন যে, বনী ইসরাঈলগণ নবীদের নামে নাম রাখা পছন্দ করতেন” (মুসলিমঃ ২১৩৫, তিরমিযীঃ ৩১৫৫) এই হাদীসের উদ্দেশ্য দু'রকম হতে পারে।

(এক) মারইয়াম হারূন আলাইহিস সালাম এর বংশধর ছিলেন বলেই তাঁর সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে- যদিও তাদের মধ্যে সময়ের অনেক ব্যবধান রয়েছে; যেমন আরবদের রীতি রয়েছে। যেমন তারা তামীম গোত্রের ব্যক্তিকে أخا تميم এবং আরবের লোককে أخا العرب বলে অভিহিত করে। (ইবন কাসীর)

(দুই) এখানে হারূন বলে মুসা আলাইহিস সালাম এর সহচর হারূন নবীকে বোঝানো হয়নি বরং মারইয়ামের কোন এক জ্ঞাতি ভ্রাতার নামও ছিল হারূন যিনি তৎকালিন সময়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং এ নাম হারূন নবীর নামানুসারে রাখা হয়েছিল। এভাবে মারইয়াম হারুন-ভগিনী বলা সত্যিকার অর্থেই শুদ্ধ। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

(২) কুরআনের এই বাক্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের সন্তান-সন্ততি মন্দ কাজ করলে তাতে সাধারণ লোকদের মন্দ কাজের তুলনায় বেশী গোনাহ হয়। কারণ, এতে তাদের বড়দের লাঞ্ছনা ও দুর্নাম হয়। কাজেই সম্মানিত লোকদের সন্তানদের উচিত সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে অধিক মনোনিবেশ করা। গোনাহ ও অপরাধ থেকে দূরে থাকা। (দেখুন, ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৮) হে হারূন ভগ্নী!(1) তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিণী।

(1) হারূন বলতে মারয়্যামের সহোদর বা বৈমাত্রেয় কোন ভাইকে বুঝানো হয়েছে। অথবা হারূন বলতে মূসা (আঃ)-এর ভাই হারূন (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে এবং আরবের পরিভাষা অনুযায়ী তাঁর প্রতি সম্বদ্ধ করা হয়েছে। যেমন, আরবের লোকেরা বলে থাকে, يَا أخَا تَمِيم! يَا أخَا العَرَب (অর্থাৎ, হে তামীম বংশের লোক, হে আরবের লোক!) অথবা তাকওয়া-পরহেযগারী, পবিত্রতা ও ইবাদতে হারূন (আঃ)-এর মত মনে করে তাঁকে তাঁরই সাদৃশ্যে ‘হে হারূনের বোন’ বলা হয়েছে। এ ধরনের উদাহরণ কুরআনেও রয়েছে। (আইসারুত তাফাসীর ও ইবনে কাসীর)