فَكُلِي وَٱشۡرَبِي وَقَرِّي عَيۡنٗاۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ ٱلۡبَشَرِ أَحَدٗا فَقُولِيٓ إِنِّي نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمَٰنِ صَوۡمٗا فَلَنۡ أُكَلِّمَ ٱلۡيَوۡمَ إِنسِيّٗا

ফাকুলী ওয়াশরবী ওয়াকাররী ‘আইনান ফাইম্মা-তারয়িন্না মিনাল বাশারি আহাদান ফাকূলীইন্নী নাযারতুলিররহমা-নি সাওমান ফালান উকালিলমাল ইয়াওমা ইনছিইইয়া-।উচ্চারণ

তারপর তুমি খাও, পান করো এবং নিজের চোখ জুড়াও। তারপর যদি তুমি মানুষের দেখা পাও তাহলে তাকে বলে দাও, আমি করুণাময়ের জন্য রোযার মানত মেনেছি, তাই আজ আমি কারোর সাথে কথা বলবো না।” ১৮ তাফহীমুল কুরআন

তারপর খাও ও পান কর এবং চোখ জুড়াও, #%১৪%# মানুষের মধ্যে কাউকে আসতে দেখলে (ইশারায়) বলে দিও, আজ আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি রোজা মানত করেছি। সুতরাং আজ আমি কোন মানুষের সাথে কথা বলব না। #%১৫%#মুফতী তাকী উসমানী

সুতরাং আহার কর, পান কর ও চক্ষু জুড়িয়ে নাও; মানুষের মধ্যে কেহকে যদি তুমি দেখ তখন বলঃ আমি দয়াময়ের উদ্দেশে মৌনতা অবলম্বনের মানত করেছি; সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে বাক্যালাপ করবনা।মুজিবুর রহমান

যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সুতরাং আহার কর, পান কর ও চোখ জুড়াও। মানুষের মধ্যে কাউকেও যদি তুমি দেখ তখন বল, ‘আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের মানত করেছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সঙ্গে বাক্যালাপ করব না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’।আল-বায়ান

অতঃপর খাও, পান কর আর (তোমার) চোখ জুড়াও। যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলবে- আমি রহমান আল্লাহর জন্য সাওম পালনের মানৎ করেছি, কাজেই আমি কোন মানুষের সঙ্গে আজ কিছুতেই কথা বলব না।’তাইসিরুল

সুতরাং খাও ও পান করো এবং চোখ জুড়াও। আর লোকজনের কাউকে যদি দেখতে পাও তবে বলো -- 'আমি পরম করুণাময়ের জন্য রোযা রাখার মানত করেছি, কাজেই আমি আজ কোনো লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলব না’।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

অর্থাৎ শিশুর ব্যাপারে তোমার কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তার জন্মের ব্যাপারে যে কেউ আপত্তি তুলবে তার জবাব দেবার দায়িত্ব এখন আমার। (উল্লেখ বনী ইসরাঈলের মধ্যে মৌনতা অবলম্বনের রোযা রাখার রীতি ছিল) হযরত মারয়ামের আসল পেরেশানী কি ছিল এ শব্দাবলীও তা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া এখানে এ বিষয়টিও প্রণিধানযোগ্য যে, বিবাহিতা মেয়ের প্রথম সন্তান যদি দুনিয়ার প্রচলিত নিয়মেই জন্মলাভ করে তাহলে তার মৌন ব্রত অবলম্বন প্রয়োজন দেখা দেবে কেন?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বিগত শরীয়তসমূহের কোন-কোনটিতে কথাবার্তা না বলে চুপচাপ থাকাও এক ধরনের রোযা ও ইবাদত ছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়তে ইবাদতের এ পন্থা রহিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন এরূপ রোযা রাখা জায়েয নয়। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে হযরত মারয়াম আলাইহিস সালামকে নির্দেশ করা হয়েছিল, তিনি যেন এরূপ রোযার মানত করেন। অতঃপর যদি কথা বলার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা যেন ইশারা দ্বারা সেরে নেন এবং বুঝিয়ে দেন আমি রোযা রেখেছি। এতে করে মানুষের অহেতুক সওয়াল-জওয়াবের ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন এবং কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬. কাজেই খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। অতঃপর মানুষের মধ্যে কাউকেও যদি তুমি দেখ তখন বলো, আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের মানত করেছি।(১) কাজেই আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলব না।(২)

(১) কাতাদাহ বলেন, তিনি খাবার, পানীয় ও কথা-বার্তা এ তিনটি বিষয় থেকেই সাওম পালন করেছিলেন। (আত-তাফসীরুস সহীহ)

(২) কোন কোন মুফাস্‌সির বলেন, ইসলাম পূর্বকালে সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত মৌনতা অবলম্বন করা এবং কারও সাথে কথা না বলার সাওম পালন ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। (ইবন কাসীর) ইসলাম একে রহিত করে মন্দ কথাবার্তা, গালিগালাজ, মিথ্যা, পরনিন্দা ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকাকেই জরুরী করে দিয়েছে। সাধারণ কথাবার্তা ত্যাগ করা ইসলামে কোন ইবাদত নয়। তাই এর মানত করাও জায়েয নয়। এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “সন্তান সাবালক হওয়ার পর পিতা মারা গেলে তাকে এতীম বলা হবে না এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌনতা অবলম্বন করা কোন ইবাদত নয়।” (আবু দাউদঃ ২৮৭৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৬) সুতরাং আহার কর, পান কর ও চোখ জুড়াও;(1) মানুষের মধ্যে কাউকেও যদি তুমি দেখ, তাহলে বল, (2) আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার মানত করেছি; সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।’

(1) অর্থাৎ খেজুর খাও, নদী বা ঝরনার পানি পান কর এবং সন্তানকে দেখে চোখ জুড়াও।

(2) এখানে বলার অর্থ ইশারা বা ইঙ্গিতে বলা; মুখের বলা নয়। যেহেতু তাদের শরীয়তে রোযার অর্থই ছিল খাওয়া ও কথা বলা হতে বিরত থাকা।