ইয়াছআলূনাকা ‘আনিল খামরি ওয়াল মাইছিরি কুল ফীহিমা ইছমুন কাবীরুওঁ ওয়া মানাফি‘উ লিন্না-ছি ওয়া ইছমুহুমাআকবারু মিন নাফ‘ইহিমা-ওয়া ইয়াছআলূনাকা মা যা-ইউনফিকূনা কুল্লি ‘আফওয়া কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়াতি লা‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারুন।উচ্চারণ
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছেঃ মদও জুয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কি? বলে দাওঃ ঐ দু’টির মধ্যে বিরাট ক্ষতিকর বিষয় রয়েছে যদিও লোকদের জন্য তাতে কিছুটা উপকারিতাও আছে, কিন্তু তাদের উপকারিতার চেয়ে গোনাহ অনেক বেশী। ২৩৫ তাফহীমুল কুরআন
(অপর দিকে) যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর রহমতের আশাবাদী। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।লোকে আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, এ দু’টোর মধ্যে মহা পাপও রয়েছে এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও আছে। আর এ দু’টোর পাপ তার উপকার অপেক্ষা গুরুতর। #%১৬০%# লোকে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে) তারা কী ব্যয় করবে? আপনি বলে দিন, যা (তোমাদের প্রয়োজনের) অতিরিক্ত। #%১৬১%# আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য স্বীয় বিধানাবলী সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা করতে পারমুফতী তাকী উসমানী
মাদক দ্রব্য ও জুয়া খেলা সম্বন্ধে তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বলঃ এ দু’টোর মধ্যে গুরুতর পাপ রয়েছে এবং কোন কোন লোকের (কিছু) উপকার আছে, কিন্তু ও দু’টোর লাভ অপেক্ষা পাপই গুরুতর; তারা তোমাকে (আরও) জিজ্ঞেস করছে, তারা কি (পরিমান) ব্যয় করবে? তুমি বলঃ যা তোমাদের উদ্ধৃত্ত; এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর।মুজিবুর রহমান
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্যে উপকারও; কিন্তু এদের পাপ উপকারের তুলনায় অধিক।’ লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, কী তারা ব্যয় করবে ? বল, ‘যা উদ্বৃত্ত।’ এইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিধান তোমাদের জন্যে সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর-ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, এ দু’টোয় রয়েছে বড় পাপ ও মানুষের জন্য উপকার। আর তার পাপ তার উপকারিতার চেয়ে অধিক বড়। আর তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে। বল, ‘যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত’। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।আল-বায়ান
তোমাকে লোকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বল, ‘ঐ দু’টোতে আছে ভয়ঙ্কর গুনাহ এবং মানুষের জন্য উপকারও কিন্তু এ দু’টোর পাপ এ দু’টোর উপকার অপেক্ষা অধিক’। তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কী তারা ব্যয় করবে? বল, ‘যা উদ্বৃত্ত’। এভাবে আল্লাহ তোমাদের প্রতি আদেশাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর ।তাইসিরুল
তারা তোমাকে নেশা ও জুয়া সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো -- "এই দুয়েতেই আছে মহাপাপ ও মানুষের জন্য মুনাফা, কিন্তু তাদের পাপ তাদের মুনাফার চাইতে গুরুতর। আর তারা তোমায় সওয়াল করে কী তারা খরচ করবে। বলো -- "যা বাড়তি থাকে।" এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য বাণীসমূহ স্পষ্ট করেন যাতে তোমরা ভেবে দেখতে পার, --মাওলানা জহুরুল হক
২৩৫
এটি হচ্ছে মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রথম নির্দেশ। এখানে শুধুমাত্র অপছন্দের কথা ব্যক্ত করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, যাতে মন ও মস্তিষ্ক তার হারাম হবার বিষয়টি গ্রহণ করে নিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। পরে মদ পান করে নামায পড়া নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়। তারপর সবশেষে মদ ও জুয়া এবং এই পর্যায়ের সমস্ত বস্তুকে চিরতরে হারাম ঘোষণা করা। (দেখুন সুরা নিসা, ৪৩ আয়াত এবং সূরা মা-য়েদাহ, ৯০ আয়াত)।
কোনও কোনও সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা দান-সদকার সওয়াব শুনে নিজেদের সমুদয় পুঁজি সদকা করে দেন। এমনকি নিজের ও পরিবারবর্গের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি। ফলে ঘরের লোকজন অভুক্ত দিন কাটায়। এ আয়াত জানিয়ে দিয়েছে যে, দান-খয়রাত সেটাই সঠিক, যা নিজের ও পরিবারবর্গের জরুরত পূর্ণ করার পর করা হবে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদীসে গুরুত্বের সাথে ইরশাদ করেন যে, দান-সদকা এ পরিমাণ হওয়া চাই, যাতে ঘরের লোকজন অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে পড়ে।
২১৯. লোকেরা আপনাকে মদ(১) ও জুয়া(২) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বলুন, দু’টোর মধ্যেই আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও; আর এ দু’টোর পাপ উপকারের চাইতে অনেক বড়। আর তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে কি তারা ব্যয় করবে? বলুন যা উদ্ধৃত(৩)। এভাবে আল্লাহ্ তার আয়াতসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।
(১) ইসলামের প্রথম যুগের জাহেলিয়াত আমলের সাধারণ রীতি-নীতির মধ্যে মদ্যপান স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের পরও মদীনাবাসীদের মধ্যে মদ্যপান ও জুয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল। সাধারণ মানুষ এ দুটি বস্তুর শুধু বাহ্যিক উপকারিতার প্রতি লক্ষ্য করেই এতে মত্ত ছিল। কিন্তু এদের অন্তর্নিহিত অকল্যাণ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। তবে আল্লাহর নিয়ম হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক জাতি ও প্রত্যেক অঞ্চলে কিছু বুদ্ধিমান ব্যক্তিও থাকেন যারা বিবেক-বুদ্ধিকে অভ্যাসের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। যদি কোন অভ্যাস বুদ্ধি বা যুক্তির পরিপন্থী হয়, তবে সে অভ্যাসের ধারে-কাছেও তারা যান না। এ ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থান ছিল সবচেয়ে ঊর্ধ্বে। কেননা, যেসব বস্তু কোন কালে হারাম হবে, এমন সব বস্তুর প্রতিও তার অন্তরে একটা সহজাত ঘৃণাবোধ ছিল। সাহাবীগণের মধ্যেও এমন কিছুসংখ্যক লোক ছিলেন, যারা হারাম ঘোষিত হওয়ার পূর্বেও মদ্যপান তো দূরের কথা, তা স্পর্শও করেননি। মদীনায় পৌছার পর কতিপয় সাহাবী এসব বিষয়ের অকল্যাণগুলো অনুভব করলেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে উমর, মুআয ইবনে জাবাল এবং কিছুসংখ্যক আনসার রাদিয়াল্লাহু আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ মদ ও জুয়া মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করে ফেলে এবং ধন-সম্পদও ধ্বংস করে দেয়। এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি? এ প্রশ্নের উত্তরেই আলোচ্য আয়াতটি নাযিল হয়। (আবু দাউদ: ৩৬৭০, তিরমিযী: ৩০৪৯, মুসনাদে আহমাদ: ১/৫৩) এ হচ্ছে প্রথম আয়াত যা মুসলিমদেরকে মদ ও জুয়া থেকে দূরে রাখার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাযিল হয়েছে। আয়াতটিতে বলা হয়েছে যে, মদ ও জুয়াতে যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিছু উপকারিতা পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু দুটির মাধ্যমেই অনেক বড় বড় পাপের পথ উন্মুক্ত হয়; যা এর উপকারিতার তুলনায় অনেক বড় ও ক্ষতিকর। পাপ অর্থে এখানে সেসব বিষয়ও বোঝানো হয়েছে, যা পাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, মদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় দোষ হচ্ছে এই যে, এতে মানুষের সবচাইতে বড় গুণ, বুদ্ধি-বিবেচনা বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ, বুদ্ধি এমন একটি গুণ যা মানুষকে মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে৷ পক্ষান্তরে যখন তা থাকে না, তখন প্রতিটি মন্দ কাজের পথই সুগম হয়ে যায়। (মা'আরিফুল কুরআন)
এ আয়াতে পরিস্কারভাবে মদকে হারাম করা হয়নি, কিন্তু এর অনিষ্ট ও অকল্যাণের দিকগুলোকে তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, মদ্য পানের দরুন মানুষ অনেক মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। বলতে গেলে আয়াতটিতে মদ্যপান ত্যাগ করার জন্য এক প্রকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর কোন কোন সাহাবী এ পরামর্শ গ্রহণ করে তৎক্ষণাৎ মদ্যপান ত্যাগ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেছেন, এ আয়াতে মদকে তো হারাম করা হয়নি, বরং এটা দ্বীনের পক্ষে ক্ষতির কাজে ধাবিত করে বিধায় একে পাপের কারণ বলে স্থির করা হয়েছে, যাতে ফেত্নায় পড়তে না হয়, সে জন্য পূর্ব থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী সূরার আন-নিসা এর ৪৩ নং আয়াতে মদপানের সময় সীমিত করা হয়। সবশেষে সূরা আল-মায়িদাহ এর ৯০ নং আয়াতের মাধ্যমে মদকে চিরতরে হারাম করা হয়। এ বিষয়ে আরও আলোচনা সূরা আল-মায়িদাহ এর ৯০ নং আয়াতে করা হবে।
(২) আয়াতে উল্লেখিত ميسر শব্দটির অর্থ বন্টন করা, ياسر বলা হয় বন্টনকারীকে। জাহেলিয়াত আমলে নানা রকম জুয়ার প্রচলন ছিল। তন্মধ্যে এক প্রকার জুয়া ছিল এই যে, উট জবাই করে তার অংশ বন্টন করতে গিয়ে জুয়ার আশ্রয় নেয়া হত। কেউ একাধিক অংশ পেত আবার কেউ বঞ্চিত হত। বঞ্চিত ব্যক্তিকে উটের পূর্ণ মূল্য দিতে হত, আর গোশত দরিদ্রের মধ্যে বন্টন করা হত; নিজেরা ব্যবহার করত না। এ বিশেষ ধরনের জুয়ায় যেহেতু দরিদ্রের উপকার ছিল এবং খেলোয়াড়দের দানশীলতা প্রকাশ পেত, তাই এ খেলাতে গর্ববোধ করা হত। আর যারা এ খেলায় অংশগ্রহণ না করত, তাদেরকে কৃপণ ও হতভাগ্য বলে মনে করা হত। বন্টনের সাথে সম্পর্কের কারণেই এরূপ জুয়াকে ‘মাইসির’ বলা হত। (তাফসীরে কুরতুবী: ৩/৪৪২-৪৪৩)
সমস্ত সাহাবী ও তাবেয়ীগণ এ ব্যাপারে একমত যে, সব রকমের জুয়াই ‘মাইসির’ শব্দের অন্তর্ভুক্ত এবং হারাম। ইবনে কাসীর তার তাফসীরে এবং জাসসাস আহকামুল-কুরআনে লিখেছেন যে, মুফাসসিরে কুরআন ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, কাতাদাহ, মু'আবিয়া ইবনে সালেহ, আতা ও তাউস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেছেনঃ সব রকমের জুয়াই ‘মাইসির’ এমনকি কাঠের গুটি এবং আখরোট দ্বারা বাচ্চাদের এ ধরনের খেলাও। ইবনে আব্বাস বলেছেনঃ লটারীও জুয়ারই অন্তর্ভুক্ত। জাসসাস ও ইবনে সিরীন বলেছেনঃ যে কাজে লটারীর ব্যবস্থা রয়েছে, তাও ‘মাইসির’ এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, লটারীর মাধ্যমে কেউ কেউ প্রচুর সম্পদ পেয়ে যায় অপরদিকে অনেকে কিছুই পায় না। আজকাল প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের লটারীর সাথে এর তুলনা করা যেতে পারে। এসবই জুয়ার অন্তর্ভুক্ত ও হারাম। মোটকথা, ‘মাইসির’ ও কেমারের সঠিক সংজ্ঞা এই যে, যে ব্যাপারে কোন মালের মালিকানায় এমন সব শর্ত আরোপিত হয়, যাতে মালিক হওয়া না হওয়া উভয় সম্ভাবনাই সমান থাকে। আর এরই ফলে পূর্ণ লাভ কিংবা পূর্ণ লোকসান উভয় দিকই বজায় থাকবে। (ইবনে কাসীর)
এ জন্য সহীহ হাদীসে দাবা ও ছক্কা-পাঞ্জা জাতীয় খেলাকেও হারাম বলা হয়েছে। কেননা, এসবেও অনেক ক্ষেত্রেই টাকা-পয়সার বাজী ধরা হয়ে থাকে। তাস খেলায় যদি টাকা-পয়সার হার-জিত শর্ত থাকে, তবে তাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। বারীদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি ছক্কা-পাঞ্জা খেলে সে যেন শূকরের গোশত ও রক্তে স্বীয় হাত রঞ্জিত করে’। (মুসলিমঃ ২২৬০)
(৩) অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা থাকে তাই খরচ কর। এতে বোঝা গেল যে, নফল সদাকার বেলায় নিজের প্রয়োজনে অতিরিক্ত যা থাকে তাই ব্যয় করতে হবে। নিজের সন্তানাদিকে কষ্টে ফেলে, তাদের অধিকার হতে বঞ্চিত করে সদাকা করার কোন বিধান নেই। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত, ঋণ পরিশোধ না করে তার পক্ষে নফল সদকা করাও আল্লাহর পছন্দ নয়।
(২১৯) লোকে তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘উভয়ের মধ্যে মহাপাপ (1) এবং মানুষের জন্য (যৎকিঞ্চিৎ) উপকারও আছে, কিন্তু উভয়ের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।’(2) লোকে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘(আল্লাহর পথে) তারা কী খরচ করবে?’ বল, ‘যা উদ্বৃত্ত।’(3) এভাবে আল্লাহ তাঁর সকল নিদর্শন তোমাদের জন্য প্রকাশ করেন যাতে তোমরা চিন্তা কর।
(1) দ্বীনের দৃষ্টিতে এটা মহাপাপ। (যেহেতু এর ফলে ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, গালাগালি ও অশ্লীলতার সৃষ্টি হয়। ইবাদতে বাধা সৃষ্টি হয়, অর্থের অপচয় ঘটে এবং বিদ্বেষ, দারিদ্র্য ও লাঞ্ছনার আগমন ঘটে।)
(2) উপকারিতাসমূহের সম্পর্ক দুনিয়ার সাথে। যেমন, মদপানে সময়িকভাবে শারীরিক স্ফূর্তি, সানন্দ উদ্যম এবং কারো কারো মস্তিষ্ক তেজস্বীতাও আসে। যৌনশক্তি বৃদ্ধি লাভ করে। তাই তার ব্যবহার ব্যাপক হয়। অনুরূপ এর (মদের) ক্রয়-বিক্রয় বড় লাভদায়ক ব্যবসা। জুয়াতেও কখনো কখনো কেউ জিতে যায়, ফলে সে কিছু অর্থ লাভ করে। কিন্তু এই সমূহ উপকারিতা সেই সমূহ ক্ষতি ও ফাসাদের তুলনায় কিছুই নয়; যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও তার দ্বীন-ধর্মের উপর আসে। আর এই জন্যই বলা হয়েছে, ‘‘কিন্তু উভয়ের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।’’ এই আয়াতে মদ ও জুয়াকে (পরিষ্কারভাবে) হারাম বলা না হলেও তার প্রাথমিক সূচনার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এই আয়াত থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এই জানা যায় যে, প্রত্যেক জিনিসের মধ্যে কিছু না কিছু লাভ থাকেই, তাতে তা যতই খারাপ জিনিস হোক না কেন। যেমন রেডিও, টিভি এবং এই ধরনের আরো আবিষ্কৃত আধুনিক জিনিস। মানুষ তার কিছু কিছু লাভের কথা উল্লেখ করে আত্মপ্রতারণা করে থাকে। কিন্তু বিবেচনা করা উচিত যে, লাভ ও নোকসানের মধ্যে কোনটার ভাগ বেশী। বিশেষতঃ দ্বীন, ঈমান এবং আখলাক-চরিত্রের দিক দিয়ে। যদি দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে তার নোকসান ও ক্ষতির দিক বেশী হয়, তাহলে সামান্য পার্থিব লাভের জন্য তা জায়েয সাব্যস্ত করা যাবে না।
(3) এই অর্থের দিক দিয়ে এটা একটি নৈতিক নির্দেশ অথবা এই নির্দেশ ইসলামের প্রথম পর্যায়ে ছিল। যাকাত ফরয হওয়ার পর এর উপর আমল আর জরুরী নয়। তবে উত্তম অবশ্যই বটে। কিংবা العَفو এর অর্থ হল, ‘‘যা সহজভাবে ও অনায়াসে হয় এবং অন্তরে ভারী অনুভূত না হয়।’’ ইসলাম অবশ্যই (আল্লাহর পথে) ব্যয় করার প্রতি বড় উৎসাহ প্রদান করেছে, তবে এ ব্যাপারে মধ্যপন্থার খেয়াল রেখে প্রথমতঃ স্বীয় অধীনস্থ ব্যক্তিদের দেখাশোনা এবং তাদের প্রয়োজন পূরণকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দ্বিতীয়তঃ এমন মুক্তহস্তে ব্যয় করতে নিষেধ করেছে, যাতে কাল তোমাকে ও তোমার পরিবারের লোকদেরকে অন্যের দ্বারস্থ হতে না হয়।