يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنۡ ءَالِ يَعۡقُوبَۖ وَٱجۡعَلۡهُ رَبِّ رَضِيّٗا

ইয়ারিছু নী ওয়া ইয়ারিছুমিন আ-লি ইয়া‘কূবা ওয়াজ‘আলহু রব্বি রদিইইয়া-।উচ্চারণ

যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব বংশেরও উত্তরাধিকারী হবে। আর হে পরোয়ারদিগার! তাকে একজন পছন্দনীয় মানুষে পরিণত করো।” তাফহীমুল কুরআন

যে আমারও উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর উত্তরাধিকারও লাভ করবে এবং হে আমার প্রতিপালক! তাকে এমন বানান, যে (আপনার নিজেরও) সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হবে।মুফতী তাকী উসমানী

যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং উত্তরাধিকারীত্ব পাবে ইয়াকূবের বংশের এবং হে আমার রাব্ব! তাকে করুন সন্তোষভাজন।মুজিবুর রহমান

সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে এবং উত্তরাধিকারিত্ব করবে ইয়া‘ক‚বের বংশের এবং হে আমার প্রতিপালক! তাকে কর সন্তোষভাজন’।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব, আপনি তাকে পছন্দনীয় বানিয়ে দিন’।আল-বায়ান

যে আমার উত্তরাধিকারী হবে আর উত্তরাধিকারী হবে ইয়া‘কুব পরিবারের; আর হে আমার প্রতিপালক! তাকে করুন আপনার সন্তুষ্টির পাত্র।তাইসিরুল

যে আমাকে উত্তরাধিকার করবে এবং ইয়াকুবের বংশধরদের উত্তরাধিকার করবে, আর আমার প্রভু, তাকে সন্তোষভাজন বানিয়ো।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ আমি কেবলমাত্র নিজের উত্তরাধিকারী চাই না বরং ইয়াকুব বংশের যাবতীয় কল্যাণের উত্তরাধিকারী চাই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আয়াতের শব্দাবলী দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম বৈষয়িক উত্তরাধিকার বোঝাতে চাননি। বরং তিনি নবুওয়াতী ইলমের উত্তরাধিকার লাভ করার কথা বুঝিয়েছিলেন। কেননা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আওলাদ থেকে বৈষয়িক উত্তরাধিকার লাভের কোন প্রশ্নই আসে না। সুতরাং প্রসিদ্ধ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ইরশাদ করেছেন, ‘নবীগণের রেখে যাওয়ার সম্পদ তাদের ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন হয় না”, হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের দু‘আ তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে(১) এবং উত্তরাধিকারিত্ব করবে ইয়াকুবের বংশের(২) এবং হে আমার রব! তাকে করবেন সন্তোষভাজন।

(১) আলেমদের মতে, এখানে উত্তরাধিকারিত্বের অর্থ নবুওয়াত-রিসালত তথা ইলমের উত্তরাধিকার। আর্থিক উত্তরাধিকারিত্ব নয়। কেননা, প্রথমতঃ যাকারিয়্যার কাছে এমন কোন অর্থ সম্পদ ছিল বলেই প্রমাণ নেই, যে কারণে চিন্তিত হবেন যে, এর উত্তরাধিকারী কে হবে। একজন পয়গম্বরের পক্ষে এরূপ চিন্তা করাও অবান্তর। এছাড়া যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম নিজে কাঠ-মিস্ত্রি ছিলেন। নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাঠ-মিস্ত্রির কাজের মাধ্যমে এমন সম্পদ আহরণ করা সম্ভব হয় না যার জন্য চিন্তা করতে হয়। দ্বিতীয়ত: সাহবায়ে কেরামের ইজমা তথা ঐকমত্য সম্বলিত এক হাদীসে বলা হয়েছেঃ “নিশ্চিতই আলেমগণ পয়গম্বরগণের ওয়ারিশ। পয়গম্বরগণ কোন দীনার ও দিরহাম রেখে যান না; বরং তারা ইলম ও জ্ঞান ছেড়ে যান। যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করে, সে বিরাট সম্পদ হাসিল করে।”- (আবু দাউদ: ৩৬৪১, ইবনে মাজহ: ২২৩, তিরমিযী: ২৬৮২)

তৃতীয়ত: স্বয়ং আলোচ্য আয়াতে এর (يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ) বাক্যের যোগ এরই প্রমাণ যে, এখানে আর্থিক উত্তরাধিকারিত্ব বোঝানো হয়নি। কেননা, যে পুত্রের জন্মলাভের জন্যে দোআ করা হচ্ছে, তার পক্ষে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের উত্তরাধিকার হওয়াই যুক্তিযুক্ত কিন্তু তাদের নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনরা যাদের উল্লেখ আয়াতে করা হয়েছে, তারা নিঃসন্দেহে আত্মীয়তায় ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম থেকে অধিক নিকটবর্তী। নিকটবর্তী আত্মীয় রেখে দূরবর্তীর উত্তরাধিকারিত্ব লাভ করা উত্তরাধিকার আইনের পরিপন্থী। (ইবন কাসীর)

(২) অর্থাৎ আমি কেবলমাত্র নিজের উত্তরাধিকারী চাই না বরং ইয়াকুব বংশের যাবতীয় কল্যাণের উত্তরাধিকারী চাই। সে নবী হবে যেমন তার পিতৃপুরুষরা যেভাবে নবী হয়েছে। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) যে উত্তরাধিকারী হবে আমার এবং উত্তরাধিকারী হবে ইয়াকূবের বংশের। আর হে আমার প্রতিপালক! তাকে তুমি সন্তোষভাজন কর।’