ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنۡ حَيۡثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسۡتَغۡفِرُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ

ছু ম্মা আফীদূ মিন হাইছুআফা-দান্না-ছুওয়াছতাগফিরুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রহীম।উচ্চারণ

তারপর যেখান থেকে আর সবাই ফিরে আসে তোমরাও সেখান থেকে ফিরে এসো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। ২২০ নিঃসন্দেহে তিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়। তাফহীমুল কুরআন

তাছাড়া (একথাও স্মরণ রেখ যে,) তোমরা সেই স্থান থেকেই রওয়ানা হবে, যেখান থেকে অন্যান্য লোক রওয়ানা হয়। #%১৪৭%# আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর অন্যান্যরা যেখান হতে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।মুজিবুর রহমান

অতঃপর তওয়াফের জন্যে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস, যেখান থেকে সবাই ফিরে। আর আল্লাহর কাছেই মাগফেরাত কামনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুনাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর অন্যান্য লোক যেখান হতে ফিরে আসে তোমরাও সে স্থান হতে ফিরে আসবে। আর আল্লাহ্ র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন কর, যেখান থেকে মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।আল-বায়ান

তারপর তোমরা ফিরে আসবে যেখান থেকে লোকেরা ফিরে আসে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থী হও, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।তাইসিরুল

তারপর তোমরা তাড়াতাড়ি চল যেখান থেকে জনতা এগিয়ে চলে, আর আল্লাহ্‌র কাছে পরিত্রাণ খোঁজো, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২২০

হযরত ইবরাহীম (আ) ও হযরত ইসমাঈল (আ)-এর সময় আরবে হজ্জের সাধারণ প্রচলিত পদ্ধতি ছিল এই যে, ৯ই যিলহজ্জ তারা মিনা থেকে আরাফাত যেতো এবং ১০ তারিখের সকালে সেখান থেকে ফিরে এসে মুযদালিফায় অবস্থান করতো। কিন্তু পরবর্তী কালে যখন ধীরে ধীরে ভারতীয় ব্রাহ্মণদের ন্যায় আরবে কুরাইশদের ধর্মীয় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো তখন তারা বললো, আমরা হারাম শরীফের অধিবাসী, সাধারণ আরবদের সাথে আমরা আরাফাত পর্যন্ত যাবো, এটা আমাদের জন্য মর্যাদাহানিকর। কাজেই তারা নিজেদের জন্য পৃথক মর্যাদাজনক ব্যবস্থার প্রচলন করলো। তারা মুযদালিফা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসতো এবং সাধারণ লোকদের আরাফাত পর্যন্ত যাবার জন্য ছেড়ে দিতো। পরে বনী খুযাআ ও বনী কিনানা গোত্রদ্বয় এবং কুরাইশদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য গোত্রও এই পৃথক অভিজাতমূলক ব্যবস্থার অধিকারী হলো। অবশেষে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছলো যে, কুরাইশদের সাথে চুক্তিবদ্ধ গোত্রগুলোর মর্যাদাও সাধারণ আরবদের তুলনায় অনেক উঁচু হলে গেলো। তারাও আরাফাতে যাওয়া বন্ধ করে দিল। এ গর্ব ও অহংকারের পুত্তলিটিকে এ আয়াতে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। এ আয়াতে বিশেষভাবে সম্বোধন করা হয়েছে কুরাইশ, তাদের আত্মীয় ও চুক্তিবদ্ধ গোত্রগুলোকে এবং সাধারণভাবে সম্বোধন করা হয়েছে এমন সব লোকদেরকে যারা আগামীতে কখনো নিজেদের জন্য এ ধরনের পৃথক ব্যবস্থা প্রচলনের আকাঙ্ক্ষা মনে মনে পোষণ করে। তাদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, সবাই যতদূর পর্যন্ত যায় তোমরাও তাদের সাথে ততদূর যাও, তাদের সাথে অবস্থান করো, তাদের সাথে ফিরে এসো এবং এ পর্যন্ত জাহেলী অহংকার ও আত্মম্ভিরতার কারণে, তোমরা সুন্নাতে ইবরাহিমীর যে বিরুদ্ধাচরণ করে এসেছো সেজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

জাহিলী যুগে আরবগণ নিয়ম তৈরি করেছিল যে, ৯ই যুলহিজ্জা সমস্ত মানুষ তো আরাফাতে উকূফ করত, কিন্তু কুরাইশ ও হুম্স নামে অভিহিত হারামের আশপাশের কিছু গোত্র আরাফাতে না গিয়ে মুযদালিফায় অবস্থান করত। তারা বলত, আমরা হারামের বাসিন্দা। আরাফাত যেহেতু হারামের সীমানার বাইরে, তাই আমরা সেখানে যাব না। ফলে অন্যান্য লোককে তো ৯ই যুলহিজ্জার দিন আরাফাতে কাটানোর পর রাতে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে হত, কিন্তু কুরাইশ ও তার অনুসারী গোত্রসমূহ আগে থেকেই মুযদালিফায় থাকত এবং তাদের আরাফায় আসতে হত না, এ আয়াত তাদের সে রীতি বাতিল করে দিয়েছে এবং কুরাইশের লোকদেরকেও হুকুম দিয়েছে, তারা যেন অন্যদের মত আরাফাতে উকূফ করে এবং তাদের সাথেই রওয়ানা হয়ে মুযদালিফায় আসে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯৯. তারপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে ফিরে আসে তোমরাও সে স্থান থেকে ফিরে আসবে(১)। আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সমস্ত আরাফাই অবস্থানের স্থান এবং উরনা উপত্যকা থেকে বের হয়ে যাও। আর মুযদালিফার সমস্ত জায়গাই অবস্থানস্থল এবং আর তোমরা ওয়াদী মুহাসসার থেকে প্রস্থান করো। আর মক্কার প্রতিটি অলিগলিই যবেহ করার জায়গা এবং আইয়ামে তাশরীকের প্রতিদিনই যবেহ করা যাবে। (মুসনাদে আহমাদ: ৪/৮২) অন্য হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, কুরাইশ ও তাদের মতানুসারীরা মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং নিজেদেরকে ‘হুমুস’ নামে অভিহিত করতো। আর বাকী সব আরবরা আরাফায় অবস্থান করতো। অতঃপর যখন ইসলাম আসলো তখন আল্লাহ তাঁর নবীকে আরাফাতে যেতে, সেখানে অবস্থান করতে এবং সেখান থেকেই প্রস্থান করতে নির্দেশ দান করেন। এ জন্যই এ আয়াতে মানুষের সাথে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (বুখারী ৪৫২০, মুসলিম: ১২১৯)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৯৯) অতঃপর (কুরাইশের মত আরাফাত না গিয়েই কেবল মুযদালিফা থেকে না ফিরে অন্য) লোকেরা যেখান থেকে ফিরে, সেখান থেকেই (আরাফাত থেকে মুযদালিফায়) ফিরে চল।(1) আর আল্লাহর কাছে মার্জনা চাও; বস্তুতঃ আল্লাহ চরম মার্জনাকারী, পরম দয়ালু।

(1) উল্লিখিত ক্রমানুসারে আরাফায় যাওয়া এবং সেখানে অবস্থান করে ফিরে আসা জরুরী। কিন্তু আরাফা যেহেতু হারামের বাইরে তাই মক্কার কুরাইশরা আরাফা পর্যন্ত যেতো না, বরং মুযদালিফা থেকেই ফিরে আসতো। তাই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, যেখান থেকে সবাই ফিরে আসে, সেখান থেকে তোমরাও ফিরে এসো। অর্থাৎ, আরাফাত থেকে।