ওয়া ইযা-বাদ্দালনাআ-য়াতাম মাক-না আ-য়াতিওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলামুবিমাইউনাঝঝিলুক-লূইন্নামাআনতা মুফতারিম বাল আকছারুহুম লা-ইয়া‘লামূন।উচ্চারণ
যখন আমি একটি আয়াতের জায়গায় অন্য একটি আয়াত নাযিল করি--- আর আল্লাহ ভালো জানেন তিনি কি নাযিল করবেন--- তখন এরা বলে, তুমি নিজেই এ কুরআন রচনা কর। ১০২ আসলে এদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্য জানে না। তাফহীমুল কুরআন
আমি যখন এক আয়াতকে অন্য আয়াত দ্বারা পরিবর্তন করি #%৫৫%# আর আল্লাহই ভালো জানে তিনি কী নাযিল করবেন, তখন তারা (কাফেরগণ) বলে, তুমি তো আল্লাহর প্রতি অপবাদ দিচ্ছ। অথচ তাদের অধিকাংশেই প্রকৃত বিষয় জানে না।মুফতী তাকী উসমানী
আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি, আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তা তিনিই ভাল জানেন, তখন তারা বলেঃ তুমিতো শুধু মিথ্যা উদ্ভাবনকারী, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানেনা।মুজিবুর রহমান
এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি-আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেন তা তিনিই ভাল জানেন, তখন তারা বলে, ‘তুমি তো কেবল মিথ্যা উদ্ভাবনকারী’; কিন্তু এদের অধিকাংশই জানে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন আমি একটি আয়াতের স্থানে পরিবর্তন করে আরেকটি আয়াত দেই- আল্লাহ ভাল জানেন সে সম্পর্কে, যা তিনি নাযিল করেন- তখন তারা বলে, তুমি তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী; রবং তাদের অধিকাংশই জানে না।আল-বায়ান
আমি যখন এক আয়াতের বদলে অন্য আয়াত নাযিল করি- আর আল্লাহ ভালভাবেই জানেন, যা তিনি নাযিল করেন- তখন এই লোকেরা বলে, ‘তুমি তো মিথ্যা রচনাকারী।’ প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এ সম্পর্কে তাদের অধিকাংশেরই কোন জ্ঞান নেই।তাইসিরুল
আর যখন আমরা বদল করে আনি একটি আয়াত অন্য আয়াতের স্থলে, আর আল্লাহ্ ভাল জানেন যা তিনি অবতারণ করছেন, তারা বলে -- "নিঃসন্দেহ তুমি একজন জালিয়াত।" কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।মাওলানা জহুরুল হক
১০২
এক আয়াতের জায়গায় অন্য আয়াত নাযিল করার অর্থ একটি হুকুমের পরে অন্য একটি হুকুম পাঠানোও হতে পারে। কারণ কুরআন মজীদের বিধানগুলো পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে এবং বহুবার একই ব্যাপারে কয়েক বছর পর পর ধারাবাহিকভাবে, একটি করে, দু’টি করে বা তিনটি করে হুকুম পাঠানো হয়েছে। যেমন মদের ব্যাপারে বা যিনার শাস্তির ব্যাপারে ঘটেছে। কিন্তু এ অর্থ গ্রহণ করতে আমি ইতস্তত করছি এজন্য যে, সূরা নাহলের এ আয়াতটি মক্কী যুগে নাযিল হয়। আর যতদূর আমি জানি সে সময় নাযিলকৃত বিধিসমূহে এ পর্যায়ক্রমিক ধারা অবলম্বনের কোন দৃষ্টান্ত নেই। তাই আমি এখানে “এক আয়াতের জায়গায় অন্য এক আয়াত নাযিল করা”র অর্থ এই মনে করি যে, কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে কখনো একটি বিষয়স্তুকে একটি উপমা বা দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝানো হয়েছে আবার কখনো ঐ একই বিষয়বস্তু বুঝাবার জন্য অন্য একটি দৃষ্টান্ত বা উপমার সাহায্য নেয়া হয়েছে। একই কাহিনী বারবার এসেছে এবং প্রত্যেক বারই তাকে ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করা হয়েছে। একটি বিষয়ের কখনো একটি দিক পেশ করা হয়েছে এবং কখনো সেই একই বিষয়ের অন্য একটি দিক সামনে আনা হয়েছে। একটি কথার জন্য কখনো একটি যুক্তি পেশ করা হয়েছে আবার কখনো পেশ করা হয়েছে অন্য একটি যুক্তি।
একটি কথা এক সময় সংক্ষেপে বলা হয়েছে এবং অন্য সময় বলা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাউযুবিল্লাহ, নিজেই এ কুরআন রচনা করেন বলে মক্কার কাফেররা যে কথা বলতো--- এ জিনিসটিকেই তারা তার প্রমাণ গণ্য করতো। তাদের যুক্তি ছিল, আল্লাহর জ্ঞান যদি এ বাণীর উৎস হতো, তাহলে সব কথা একই সঙ্গে বলে দেয়া হতো। আল্লাহ তো মানুষের মত অপরিপক্ব ও কম জ্ঞানের অধিকারী নন। কাজেই তিনি কেন চিন্তা করে করে কথা বলবেন, ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে তথ্য জ্ঞান লাভ করতে থাকবেন এবং একটি কথা সঠিকভাবে খাপখেয়ে না বসতে পারলে অন্য এক পদ্ধতিতে কথা বলবেন? তোমার এ বাণীর মধ্যে তো মানবিক জ্ঞানের দুর্বলতা ধরা পড়েছে।
আল্লাহ তাআলা পরিবেশ-পরিস্থিতির পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য করে অনেক সময় নিজ বিধানাবলীর মধ্যে রদ-বদল করেন। সূরা বাকারায় কিবলা পরিবর্তন প্রসঙ্গে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এটাও কাফেরদের একটা আপত্তির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তারা প্রশ্ন করত এ কুরআন ও এর বিধানসমূহ যদি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই হয়, তবে এতে এত রদবদল কেন? বোঝা যাচ্ছে, এটা আল্লাহর কালাম নয়; বরং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকেই এসব তৈরি করে আল্লাহর নামে চালাচ্ছেন। তাই এটা তাঁর পক্ষ হতে আল্লাহর প্রতি অপবাদ (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াতে তাদের সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, কখন কোন বিধান নাযিল করতে হবে তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন এবং সে কারণেই এ রদবদল হচ্ছে। কিন্তু তারা অজ্ঞ হওয়ার কারণে এ রহস্য বুঝতে পারছে না। তাই এসব অবান্তর কথা বলছে।
১০১. আর যখন আমরা এক আয়াতের স্থানে পরিবর্তন করে অন্য আয়াত দেই— আর আল্লাহই ভাল জানেন যা তিনি নাযিল করবেন সে সম্পর্কে–, তখন তারা বলে, আপনি তো শুধু মিথ্যা রটনাকারী, বরং তাদের অধিকাং জানে না।
(১০১) আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত অবতীর্ণ করি -- আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন, তা তিনিই ভাল জানেন -- তখন তারা বলে, ‘তুমি তো শুধু একজন মিথ্যা উদ্ভাবনকারী।’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। (1)
(1) একটি বিধান রহিত করার পর অন্য একটি অবতীর্ণ করেন। যার হিকমত, যৌক্তিকতা ও কারণ আল্লাহই জানেন এবং তিনি সেই অনুসারে বিধানের মধ্যে পরিবর্তন আনেন। তা শুনে কাফেররা বলে, হে মুহাম্মাদ! এই বাণী তোমার নিজস্ব রচনা। কারণ আল্লাহ এ রকম রদবদল করতে পারেন না। মহান আল্লাহ বলেন, যাদের অধিকাংশই অজ্ঞ, তারা রহিত করার যুক্তি ও মর্ম কি বুঝবে। (আরো দেখুন সূরা বাক্বারার ১০৬ নং আয়াতের টীকা।)