وَلِلَّهِ غَيۡبُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَمَآ أَمۡرُ ٱلسَّاعَةِ إِلَّا كَلَمۡحِ ٱلۡبَصَرِ أَوۡ هُوَ أَقۡرَبُۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ

ওয়া লিল্লা-হি গাইবুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়ামা আমরুছ ছা-‘আতি ইল্লাকালামহিল বাসারি আও হুওয়া আকরবু ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।উচ্চারণ

আর আকাশ ও পৃথিবীর যাবতীয় গোপন সত্যের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে ৭০ এবং কিয়ামত সংঘটিত হবার ব্যাপারটি মোটেই দেরী হবে না, চোখের পলকেই ঘটে যাবে বরং তার চেয়েও কম সময়ে। ৭১ আসলে আল্লাহ‌ সবকিছুই করতে পারেন। তাফহীমুল কুরআন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকল রহস্য আল্লাহর মুঠোয়। কিয়ামতের বিষয়টি কেবল চোখের পলকতুল্য; বরং তার চেয়েও দ্রুত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।মুফতী তাকী উসমানী

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই এবং কিয়ামাতের ব্যাপারতো চোখের পলকের ন্যায়, বরং ওর চেয়েও সত্ত্বর; আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।মুজিবুর রহমান

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ্ র ই এবং কিয়ামতের ব্যাপার তো চোখের পলকের ন্যায়, বরং তা অপেক্ষাও সত্বর। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আসমানসমূহ ও যমীনে গায়েবী বিষয় আল্লাহরই। আর কিয়ামতের ব্যাপারটি শুধু চোখের পলকের ন্যায়। কিংবা তা আরো নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।আল-বায়ান

আকাশসমূহ ও যমীনের অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। ক্বিয়ামাতের ব্যাপার তো চোখের পলকের মত বরং তাত্থেকেও দ্রুত। আল্লাহ সব কিছু করতেই সক্ষম।তাইসিরুল

আর মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় আল্লাহ্‌র। আর সেই ঘড়িঘন্টার ব্যাপার তো চোখের পলক বা তার চাইতেও নিকটতর বৈ নয়। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭০

পরবর্তী বাক্য থেকে বুঝা যায়, এটি আসলে মক্কার কাফেরদের একটি প্রশ্নের জবাব। তারা প্রায়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করতো, তুমি আমাদের যে কিয়ামতের আগমনের খবর দিচ্ছো তা যদি সত্যি সত্যিই আসে, তাহলে তা কবে কোন্ তারিখে আসবে? এখানে প্রশ্ন উদ্ধৃত না করে তার জবাব দেয়া হচ্ছে।

৭১

অর্থাৎ কিয়ামত আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে কোন দীর্ঘকালীন পর্যায়ে সংঘটিত হবে না। তার আসার আগে তোমরা দূর থেকে তাকে আসতে দেখবে না এবং এর মাঝখানে তোমরা নিজেদেরকে সামলে নিয়ে তার জন্য কিছু প্রস্তুতিও করতে পারবে না। যেকোন দিন যেকোন মুহূর্তে চোখের পলকে বা তার চেয়েও কম সময়ে তা এসে যাবে। কাজেই যে চিন্তা-ভাবনা করতে চায় তার গুরুত্ব সহকারে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত এবং নিজের মনোভাব ও কর্মনীতি সম্পর্কে যে ফায়সালাই করতে হয় শীঘ্রই করা দরকার। “এখন তো কিয়ামত অনেক দূরে, যখন তা আসতে থাকবে তখনই আল্লাহর সাথে একটা মিটমাট করে নেবো,” কারো এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করে তার ওপর ভরসা করে বসে থাকা উচিত নয়। তাওহীদ সম্পর্কে ভাষণ দিতে দিতে তার মাঝখানে হঠাৎ এভাবে কিয়ামতের আলোচনা করার কারণ হচ্ছে এই যে, লোকেরা যেন তাওহীদ ও শিরকের মাঝখানে কোন একটি আকীদা নির্বাচন করার ব্যাপারটিকে নিছক একটি তাত্বিক ব্যাপার মনে না করে বসে। তাদের এ অনুভূতি থাকা উচিত যে, কোন অজ্ঞাত মুহূর্তে যে কোন সময় হঠাৎ একটি ফায়সালার সময় এসে যাবে এবং সে সময় এ নির্বাচনের সঠিক বা ভুল হওয়ার ওপর মানুষের সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ভর করবে। এ সতর্কবাণীর পর আবার আগে থেকে চলে আসা সেই একই আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৭. আর আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় আল্লাহরই। আর কিয়ামতের ব্যাপার তো চোখের পলকের ন্যায়(১), অথবা তা থেকেও সত্বর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

(১) উপরোক্ত দুটি উদাহরণ পেশ করার পর আল্লাহ তা'আলা এখানে নিজের প্রশংসা করছেন যে, তিনিই শুধু গায়বের সংবাদের মালিক। তিনি ছাড়া আর কেউ গায়েব জানে না। আসমান ও যমীনে যা বর্তমানে গায়েব আছে তা একমাত্র তিনিই জানেন। অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনের খবরও তিনিই জানেন; বান্দাদের কাছে তা গায়েব রাখা হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৭) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই(1) এবং কিয়ামতের ব্যাপার তো চক্ষুর পলকের ন্যায়; বরং তার চেয়েও সত্বর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।(2)

(1) অর্থাৎ, আকাশ ও পৃথিবীতে অসংখ্য অদৃশ্য ও গায়বী জিনিস ও জ্ঞান আছে, যার মধ্যে কিয়ামত কখন হবে তার জ্ঞান অন্যতম। এ সকলের জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। এই কারণে ইবাদতের যোগ্য একমাত্র তিনিই, ঐ সব মূর্তিরা বা মৃত ব্যক্তিরা নয়, যাদের কোন জ্ঞানই নেই এবং কারো লাভ-ক্ষতি করার ক্ষমতাও নেই।

(2) মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ ক্ষমতার একটি প্রমাণ যে, এত বিশাল পৃথিবী তাঁর আদেশে চোখের পলকে বা তার চেয়েও কম সময়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। এটি অতিরঞ্জিত কথা নয়; বরং বাস্তব সত্য। কারণ তাঁর ক্ষমতা অপরিসীম। যার অনুমান আমরা করতেই পারি না। তিনি যা চান كُن (হও) শব্দ দিয়ে তা হয়ে যায়। কিয়ামতও তাঁর كُن বলাতেই সংঘটিত হবে।