ওয়া ইয়াজ আলূনা লিল্লা-হি মা ইয়াকরহূনা ওয়া তাসিফুআলছিনাতুহুমুল কাযিবা আন্না লাহুমুল হুছনা লা-জারমা আন্না লাহুমুন না-র ওয়া আন্নাহুম মুফরতূন।উচ্চারণ
আজ এরা দু’টি জিনিস আল্লাহর জন্য স্থির করছে যা এরা নিজেদের জন্য অপছন্দ করে। আর এদের কণ্ঠ মিথ্যা উচ্চারণ করে যে, এদের জন্য শুধু মঙ্গলই মঙ্গল। এদের জন্য তো শুধু একটি জিনিসই আছে এবং তা হচ্ছে দোযখের আগুন। নিশ্চয়ই এদেরকে সবার আগে তার মধ্যে পৌঁছানো হবে। তাফহীমুল কুরআন
তারা আল্লাহর জন্য এমন জিনিস নির্ধারণ করে, যা নিজেরা অপছন্দ করে। তারপরও তাদের জিহ্বা (নিজেদের) মিথ্যা প্রশংসা করে যে, সমস্ত মঙ্গল তাদেরই জন্য। এটা সুনিশ্চিত (এরূপ আচরণের কারণে) তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম এবং তাদেরকে তাতেই নিপতিত রাখা হবে।মুফতী তাকী উসমানী
যা তারা অপছন্দ করে তাই তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, মঙ্গল তাদেরই জন্য। নিশ্চয়ই তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে তাতে নিক্ষেপ করা হবে।মুজিবুর রহমান
যা নিজেদের মন চায় না তারই তারা আল্লাহর জন্যে সাব্যস্ত করে এবং তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, তাদের জন্যে রয়েছে আগুন এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে নিক্ষেপ করা হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যা তারা অপছন্দ করে তাই তারা আল্লাহ্ র প্রতি আরোপ করে। তাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, মঙ্গল তাদেরই জন্যে। নিঃসন্দেহে তাদের জন্যে আছে দোযখ এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে এতে নিক্ষেপ করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা যা অপছন্দ করে, তাই তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে। তাদের জিহবা মিথ্যা বিবরণ দেয় যে, নিশ্চয় তাদের জন্য শুভ পরিণাম। সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন এবং নিশ্চয় তারা সর্বাগ্রে নিক্ষিপ্ত হবে।আল-বায়ান
তারা আল্লাহর জন্য তা-ই নির্ধারণ করে যা (নিজেদের জন্য) অপছন্দ করে, আর তাদের জিহবা মিথ্যা বলে যে, কল্যাণ তাদেরই জন্য। কোন সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য আছে আগুন আর সর্বপ্রথম তাদেরকেই সেখানে জলদি পৌঁছে দেয়া হবে।তাইসিরুল
আর তারা আল্লাহ্তে আরোপ করে যা তারা অপছন্দ করে, আর তাদের জিহবা মিথ্যাকথা রচনা করে যে ভাল বিষয়বস্তু তাদের জন্যেই। সন্দেহ নেই যে তাদের জন্য রয়েছে আগুন, আর নিঃসন্দেহ তারা অচিরেই পরিত্যক্ত হবে।মাওলানা জহুরুল হক
৬২. আর যা তারা অপছন্দ করে তা-ই তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, মঙ্গল তো তাদেরই জন্য।(১) নিঃসন্দেহে তাদের জন্য আছে আগুন, আর নিশ্চয় তাদেরকেই সবার আগে তাতে নিক্ষেপ করা হবে।(২)
(১) কাফের-মুশরিকদের অভ্যাস যে, তারা নিজেরা অন্যায় কাজ করার পরও বলে থাকে যে, আমরা দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণের অধিকারী হবো। এটা তাদের আত্মপ্রসাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা তাদের জাতীয় চরিত্রে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এ স্বভাবের কথা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করে তা খণ্ডন করেছেন। (দেখুনঃ সূরা হুদঃ ৯–১০, সূরা ফুসসিলাতঃ ৫০, সূরা মারইয়ামঃ ৭৭–৭৮, সূরা আল-কাহফঃ ৩৫,৩৬)
(২) مُفْرَطُونَ শব্দটি যদি فرط বা অগ্রগামী শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়ে থাকে তবে তার অর্থ হবেঃ তারা সবার আগে জাহান্নামে পতিত হবে। অনুবাদে তাই উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া কোন কোন মুফাসসিরের মতে, শব্দটির অর্থঃ তাদেরকে সেখানে স্থায়ীভাবে ছেড়ে রাখা হবে। (তাবারী; কুরতুবী)
(৬২) যা তারা অপছন্দ করে তাই তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে;(1) তাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে (বলে) যে, ‘মঙ্গল তাদেরই জন্য।’(2) স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য আছে দোযখ এবং তারাই সর্বাগ্রে তাতে নিক্ষিপ্ত হবে। (3)
(1) অর্থাৎ, কন্যা-সন্তান। আর এ পুনরাবৃত্তি তাকীদের জন্য।
(2) এটি তাদের অন্য এক দুষ্কর্মের বর্ণনা যে, তারা আল্লাহর সাথে অন্যায় আচরণ করে। তারা মিথ্যা বলে যে, তাদের পরিণাম হবে উত্তম, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং ইহকালের মত তাদের পরকালও হবে মঙ্গলময়।
(3) অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে তাদের পরিণাম হবে ‘উত্তম’ আর তা হল জাহান্নামের আগুন। জাহান্নামে তারাই হবে অগ্রগামী। فرط এর এই অর্থই হাদীসে প্রমাণিত। নবী (সাঃ) বলেছেন أنا فرطكم على الحوض অর্থাৎ, আমি হাওযে কাওসারে তোমাদের অগ্রবর্তী হব। (বুখারী ৬৫৮৪, মুসলিম ১৭৯৩নং) مفرطون এর অন্য এক অর্থ এই করা হয়েছে ‘বিস্মৃত’, অর্থাৎ, জাহান্নামে নিক্ষেপ করার পর তাদেরকে ভুলে যাওয়া হবে।