আও ইয়া’খুযাহুম ‘আলা-তাখাওউফিন ফাইন্না রব্বাকুম লারঊফুর রহীম।উচ্চারণ
কিংবা এমন অবস্থায় তাদেরকে পাকড়াও করবেন না যখন তারা নিজেরাই আগামী বিপদের জন্য উৎকণ্ঠায় দিন কাটাবে এবং তার হাত থেকে বাঁচার চিন্তায় সতর্ক হবে? তিনি যাই কিছু করতে চান তারা তাঁকে নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা রাখে না। আসল ব্যাপার হচ্ছে, তোমাদের রব বড়ই কোমল হৃদয় ও করুণাময়। তাফহীমুল কুরআন
অথবা তিনি তাদেরকে এভাবে পাকড়াও করবেন যে, তারা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকবে। #%২৬%# কেননা তোমার প্রতিপালক অতি মমতাময়, পরম দয়ালু। #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী
অথবা তাদেরকে তিনি ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেননা? তোমাদের রাব্বতো অবশ্যই ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।মুজিবুর রহমান
কিংবা ভীতি প্রদর্শনের পর তাদেরকে পাকড়াও করবেন? তোমাদের পালনকর্তা তো অত্যন্ত নম্র, দয়ালু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অথবা এদেরকে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ধৃত করবেন না ? তোমাদের প্রতিপালক তো অবশ্যই দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিংবা তিনি তাদেরকে ভীত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের রব অতিশয় দয়াশীল, পরম দয়ালু।আল-বায়ান
অথবা তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না যখন তারা আসন্ন মুসীবাতের চিন্তায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকবে, (আসল কথা হল আল্লাহ মানুষকে খুবই অবকাশ দিয়ে থাকেন) কেননা তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই অতি দয়ার্দ্র, বড়ই দয়ালু।তাইসিরুল
অথবা তাদের তিনি পাকড়াবেন না ভয়ভীতি দিয়ে? সুতরাং তোমাদের প্রভু নিশ্চয়ই তো পরম স্নেহময়, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক
‘কেননা’-এর সম্পর্ক ‘নিরাপদ বোধ করা’এর সাথে। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যেহেতু মমতাবান ও দয়াময়, তাই তিনি কাফেরদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। সহসাই তাদেরকে শাস্তি দেন না। এর ফলে কাফেররা নির্ভয় হয়ে গেছে এবং নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে। অথচ তাদের উচিত ছিল নির্ভয় নিশ্চিন্ত না হয়ে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পরিণাম থেকে শিক্ষা নেওয়া।
৪৭. অথবা তাদেরকে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের রব অতি দয়াদ্র, পরম দয়ালু।(১)
(১) আলোচ্য আয়াতসমূহে দুনিয়ার বিভিন্ন আযাব বর্ণনা করার পর সর্বশেষে বলা হয়েছে (فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ) এতে আল্লাহর দয়ালু হওয়া ব্যক্ত করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, দুনিয়ার হুশিয়ারী প্রকৃতপক্ষে স্নেহ ও দয়ার কারণেই হয়ে থাকে, যাতে গাফেল মানুষ হুশিয়ারী হয়ে স্বীয় কর্মকাণ্ড সংশোধন করে নেয়। তবে তা শুধুমাত্র গোনাহগার আখেরাতের আযাবও অপেক্ষা করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর চেয়ে বড় সহিষ্ণু আর কেউ নেই যে খারাপ শোনার পরও ধৈর্যধারণ করে, তারা তার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে তারপরও তিনি তাদেরকে রিযিক দেন এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করেন। (বুখারীঃ ৬০৯৯)
অপর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ যালেমকে ছাড় দিতেই থাকেন, তারপর যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন সে তার ধরা থেকে পালানোর কোন পথ পায় না, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেনঃ এরূপই আপনার রবের শাস্তি! তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূহকে যখন ওরা যুলুম করে থাকে। নিশ্চয়ই তার শাস্তি মর্মম্ভদ, কঠিন। (সূরা হুদঃ ১০২) (মুসলিমঃ ২৫৮৩) অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তা'আলা সূরা হজ্জের ৪৮ নং আয়াতেও এটা উল্লেখ করেছেন।
(৪৭) অথবা তাদেরকে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না?(1) তোমাদের প্রতিপালক তো অবশ্যই অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু। (2)
(1) تخوف এর এ অর্থও হতে পারে যে, পূর্ব থেকেই অন্তরে আযাব ও পাকড়াও-এর ভয় বিদ্যমান থাকে। যেমন কোন সময় মানুষ বড় ধরনের কোন পাপ করে ফেলে, অতঃপর সে ভয় করে যে, যেন আল্লাহ আমাকে ধরে না ফেলেন। কোন কোন সময় এ ধরনের পাকড়াও হয়ে থাকে।
(2) তিনি পাপের পর পরই ধরে ফেলেন না; বরং অবকাশ দেন। আর এই অবকাশে অধিকাংশ মানুষ তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ লাভ করে থাকে।