إِنَّمَا قَوۡلُنَا لِشَيۡءٍ إِذَآ أَرَدۡنَٰهُ أَن نَّقُولَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ

ইন্নামা-কাওলুনা-লিশাইয়িন ইযাআরদনা-হু আন নাকূলা লাহূকুন ফাইয়াকূন।উচ্চারণ

(এর সম্ভাবনার ব্যাপারে বলা যায়) কোন জিনিসকে অস্তিত্বশীল করার জন্য এর চেয়ে বেশী কিছু করতে হয় না যে, তাকে হুকুম দিই “হয়ে যাও” এবং তা হয়ে যায়। ৩৬ তাফহীমুল কুরআন

আমি যখন কোন জিনিস সৃষ্টি করার ইচ্ছা করি, তখন আমার পক্ষ থেকে কেবল এতটুকু কথাই হয় যে, আমি তাকে বলি, ‘হয়ে যাও’, অমনি তা হয়ে যায়। #%২২%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি কোন কিছু ইচ্ছা করলে সেই বিষয়ে আমার কথা শুধু এই যে, আমি বলি ‘হও,’ ফলে তা হয়ে যায়।মুজিবুর রহমান

আমি যখন কোন কিছু করার ইচ্ছা করি; তখন তাকে কেবল এতটুকুই বলি যে, হয়ে যাও,। সুতরাং তা হয়ে যায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি কোন কিছু ইচ্ছা করলে সে বিষয়ে আমার কথা কেবল এই যে, আমি বলি, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি, তখন আমার কথা হয় কেবল এই বলা যে, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।আল-বায়ান

কোন বিষয়ে আমি ইচ্ছে করলে বলি, ‘হয়ে যাও’, ফলে তা হয়ে যায়।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ কোনো বিষয়ে আমাদের উক্তি হচ্ছে যখন আমরা তা ইচ্ছা করি, তখন তার প্রতি আমরা বলি -- "হও ", তখন তা হয়ে যায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৬

অর্থাৎ লোকেরা মনে করে, মরার পর মানুষকে পুনর্বার সৃষ্টি করা এবং সামনের পেছনের সমগ্র মানব-কূলকে একই সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত করা বড়ই কঠিন কাজ। অথচ আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। নিজের কোন সংকল্প পূর্ণ করার জন্য তাঁর কোন সাজ-সরঞ্জাম, উপায়-উপকরণ ও পরিবেশের আনুকুল্যের প্রয়োজন হয় না। তাঁর প্রত্যেকটি ইচ্ছা শুধুমাত্র তাঁর নির্দেশেই পূর্ণ হয়। তাঁর নির্দেশই সাজ-সরঞ্জামের জন্ম দেয়। তাঁর নির্দেশেই উপায়-উপকরণের উদ্ভব হয়। তাঁর নির্দেশই তাঁর উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিবেশ তৈরী করে। বর্তমানে যে দুনিয়ার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে, এটিও নিছক হুকুম থেকেই অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং অন্য দুনিয়াটিও মুহূর্তকালের মধ্যে শুধুমাত্র একটি হুকুমেই জন্ম লাভ করতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বের আয়াতে আখেরাতে যে দ্বিতীয় জীবন আসছে, তার উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছিল। আর এ আয়াতে কাফেরগণ মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবনকে কী কারণে অসম্ভব মনে করত তা বর্ণনা করত তার জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমরা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করছ এ কারণে যে, তা তোমাদের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বের জিনিস। কিন্তু আল্লাহ তাআলার পক্ষে কোনও কাজই কঠিন নয়। কোন জিনিস সৃষ্টি করার জন্য তাঁকে পরিশ্রম করতে হয় না। তিনি কেবল আদেশ দান করেন আর সঙ্গে সঙ্গে সে জিনিস সৃষ্টি হয়ে যায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪০. আমরা কোন কিছুর ইচ্ছে করলে সে বিষয়ে আমাদের কথা তো শুধু এই যে, আমরা বলি, হও; ফলে তা হয়ে যায়।(১)

(১) অর্থাৎ লোকেরা মনে করে, মরার পর মানুষকে পুনর্বার সৃষ্টি করা এবং সামনের পেছনের সমগ্র মানব-কুলকে একই সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত করা বড়ই কঠিন কাজ। অথচ আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। নিজের কোন সংকল্প পূর্ণ করার জন্য তাঁর কোন সাজ-সরঞ্জাম, উপায়-উপকরণ ও পরিবেশের আনুকূল্যের প্রয়োজন হয় না। তাঁর প্রত্যেকটি ইচ্ছা শুধুমাত্র তাঁর নির্দেশেই পূর্ণ হয়। বর্তমানে যে দুনিয়ার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে, এটিও নিছক হুকুম থেকেই অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং অন্য দুনিয়াটিও মুহুর্তকালের মধ্যে শুধুমাত্র একটি হুকুমেই জন্ম লাভ করবে। যখন তিনি ‘হও’ বলবেন তখনি তা হয়ে যাবে। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “আর আমাদের আদেশ তো কেবল একটি কথা, চোখের পলকের মত।” (সূরা আল-কামারঃ ৫০) (দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪০) আমি কোন কিছু করার ইচ্ছা করলে সে বিষয়ে আমার কথা শুধু এই যে, আমি বলি, ‘হও’ ফলে তা হয়ে যায়। (1)

(1) অর্থাৎ, মানুষের নিকট কিয়ামত সংঘটিত হওয়া যতই কঠিন ও অসম্ভব মনে হোক না কেন, আল্লাহর নিকট তা অতি সহজ। পৃথিবী ও আকাশ ধ্বংস করার জন্য তাঁর শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, মিস্ত্রী বা যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। তাঁর জন্য শুধু كُن (হও বা হয়ে যাও) শব্দই যথেষ্ট। তাঁর ‘হও’ শব্দ দ্বারা চোখের পলকের মধ্যে কিয়ামত সংঘটিত হবে। {وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلاَّ كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ} আর কিয়ামতের ব্যাপার তো চক্ষুর পলকের ন্যায়, বরং তার চেয়েও সত্ত্বর। (সূরা নাহল ৭৭)